ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২১, ০০:০২

প্রিন্ট

কোয়াড’র ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসি, চৈনিক হুমকি এবং বাংলাদেশ

কোয়াড’র ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসি, চৈনিক হুমকি এবং বাংলাদেশ

মেহমেদ আজফির

ইংরেজি শব্দ কোয়াড যার পারিভাষিক অর্থ একসাথে জন্ম নেয়া চারজন। আর সমকালীন আলোচিত কোয়াড বা কোয়াড্রল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ হল যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সম্মিলিত চীনবিরোধী চার দেশীয় একটি জোটের নাম। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো আবের নেতৃত্বে বৈঠকে বসার মধ্য দিয়ে এ জোটের পথ চলা শুরু। আদতে সামরিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনা আগ্রাসন প্রতিহতের লক্ষ্যে এ জোটের ধারণা তৈরি হয়েছিল ২০০৪ সালে। সে বছর ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগারে ভয়াবহ সুনামি আছড়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া ও সংলগ্ন এলাকায়। সুনামি বিপর্যয়ের মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে জাহাজ, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করে ভারত। এমন দুর্যোগময় মুহূর্তে ভারতের তড়িৎ ত্রাণ তৎপরতা এবং চীনের অনুপস্থিতি এ অঞ্চলজুড়ে ভারতের একটি প্রভাব বলয় তৈরি করেছিল। এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা ও চীনা সামরিক প্রযুক্তির চোখরাঙানি মোকাবেলায় জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই 'কোয়াড' দল গঠনের উদ্যোগ নেন এবং তাকে সহায়তা করেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই ১৯ শতকের মার্কিন নৌ-কৌশলবিদ আলফ্রেড থায়ার মাহানের ‘সমুদ্র যার, পৃথিবী তার’ নীতিতে দৃঢ় বিশ্বাসী। ফলে বর্তমান বিশ্বে নৌশক্তিতে প্রথম হয়েও দ্বিতীয় পরাশক্তি চীনের আশপাশের জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে এ জোটে আগমন ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের। আর অভিবাসীদের দেশ অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীদের জাতীয়তাবাদ চেতনা তুলনামূলক কম এবং সরকার ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্নধর্মী হওয়ায় দেশটি সবময়ই নিজেদের ক্ষমতার বলয়ে রাখতে চায়। তাই তাদের এই জোটে সম্পৃক্ত হওয়া। জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোয়াড’ গঠনের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হল তাদের ক্ষয়িষ্ণু ঋণ ব্যবসা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জাপান আমেরিকার বিপুল বিনিয়োগ ও পুনর্বাসন ঋণের সদ্ব্যবহার করে জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি ১৯৬৬ সালে অবকাঠামো উন্নয়ন কেন্দ্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি’র কার্যক্রম শুরু করে। ব্যাংকটিতে দেশ দুটির মালিকানা প্রায় ২৬ শতাংশ। কিন্তু চলতি শতকে চীনের শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিভিন্ন দেশকে প্রদত্ত ঋণ সহায়তার প্রভাবে দিশেহারা জাপান-যুক্তরাষ্ট্র এমন জোট গঠনে অতি উৎসাহিত হয়।

জোটের চারটি রাষ্ট্রের এ সকল চীনবিরোধী স্বার্থ থাকার পরেও ২০০৭-১৭ কোয়াড অকার্যকর ছিল। কারণ সবাই কোনো না কোনোভাবে চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্কে জড়িত। ফলে সবাই চেয়েছে, সেই সম্পর্ক অটুট রেখে কোয়াড জোট খাড়া করতে। ফলে বাস্তবে এটা কখনো দাঁড়াতেই পারেনি। তবে ২০১৮ সালের শেষে চীনের সাথে আমেরিকার বাণিজ্যবিরোধের জেরে জোটের সামরিক মহড়ায় বিগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছিলেন কোয়াড যেন এশিয়ায় ন্যাটোর ক্ষুদ্র সংস্করণ। তবে বাইডেন প্রশাসনে ‘কোয়াড’ অর্থ এর সামরিক বা নিরাপত্তাবিষয়ক কোনো জোট তো নয়ই এমনকি চীনবিরোধীও নয়। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ বলে ইঙ্গিত দিলেও বাইডেন প্রশাসনের কাছে ট্রাম্পের ফেলে যাওয়া ‘চীন-আমেরিকা বাণিজ্য বিরোধ’ সমাধান কোয়াড জোটের থাকা না থাকার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বের। ২০২১ সালের ১২ মার্চ কোয়াড জোটের অনলাইন সামিটের পূর্বে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি মিস জেন সাকি সাংবাদিকদেরকে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, ‘কোয়াড মিটিংয়ের ফোকাস চীন নয়’। জো বাইডেন বৈঠকে সব রকম বিশ্বজনীন মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে সংঘাত মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে আশা প্রকাশ করেন। তবে চীনের দখলদারি মনোভাবের কারণে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশও এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যা কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর একমত হওয়ার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাম্প্রতিক তৎপরতায় এটা স্পষ্ট যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কোয়াড সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে ইইউ এ অঞ্চলে একজোট হয়ে কাজ করবে।

চীন থেকে উদ্ভূত করোনা মহামারিতে বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখনই এ সামিট থেকে চিনকে কোণঠাসা করতেই করোনা প্রতিষেধককে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছিলেন জোট প্রধানগণ। সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই আমেরিকা-জাপানের সাহায্যে বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক হিসেবে প্রতিষেধক উৎপাদন করছে ভারত। দেশটি করোনা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনকারী দেশগুলোর কেউ না হলেও সস্তা শ্রমে গণ-উৎপাদনের সক্ষমতা থাকায় ভারতই ভ্যাকসিন উৎপাদনের হট স্পট। আমেরিকার প্রশাসন রয়টার্সকে জানিয়েছিল তাদের লক্ষ্য সমগ্র আমেরিকান জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কোন দেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা মানে বিশেষ ‘প্রভাব বিস্তার’ করা। ভারতের কাছে উপরি পাওনা হিসেবে চীনের সাথে ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসিতে টেক্কা দেয়ার সুযোগ। এ বিবেচনায় ভারত ভ্যাকসিন বিক্রির উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ কেনার জন্য সেরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত দুই কিস্তিতে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। ভারতের করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় ভারত সরকার টিকা রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাকি ভ্যাকসিন পবার আশা সুদূর পরাহত। অনন্যোপায় হয়ে সরকার চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়। চীনের কাছে ভ্যাকসিন চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত ১০ মে ২০২১ তারিখ ঢাকায় কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাবের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময়ের সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন ১২ই মে বাংলাদেশে আসছে বলে জানান। এই উপহারের জন্য বাংলাদেশকে ৩রা ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশের অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ তিন মাস তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ অনুমতি দিলে চীনের ভ্যাকসিন আগেই পেতো। চীনের ভ্যাকসিনের চাহিদা অনেক দেশের আছে। তাই বাণিজ্যিকভাবে যেটা বাংলাদেশ পেতে চায়, সেই ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশের সময় লাগবে।’

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী দীর্ঘদিনের। করোনা এই মহা সংকটকালে তারা যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে তাতে বাংলাদেশের মানুষ নিঃসন্দেহে আনন্দিত। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতের সাথে টিকা সংকান্ত চুক্তিতে আবন্ধ ছিল এটাও চীনকে হিসেব করতে হবে। কারণ তখন বাংলাদেশের মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নিচ্ছিলেন। দুই কোম্পানির দুই ডোজ টিকা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে নেই। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেছেন, ''বিশেষজ্ঞ কমিটি এক টিকার সঙ্গে অন্য টিকা নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে যারা কোভিশিল্ড পেয়েছেন, তারা সেটাই পাবেন।'' তাই এখন পর্যন্ত সুপারিশ করা হচ্ছে যে, যারা প্রথম ডোজ যে টিকা নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজও সেটা নেবেন। সুতরাং চীনের সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন ওই সময়ে গ্রহন না করাতে চীনের অভিমানের যৌক্তিকতাকে অনায়াসেই খন্ডানো যায়। তবে চীনের এই মান-অভিমান খেলার মূল বিষয় ভ্যাকসিন উপহার ছিলনা, ছিল অন্যকিছু তা রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কথাতেই ষ্পষ্ট। গতকাল তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে অবস্থান করে সে দেশকেই চোখ রাঙিয়ে বলেছেন- ‘চীন সবসময় মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোয়াড হচ্ছে চীনবিরোধী একটি ছোট গ্রুপ। অর্থনৈতিক প্রস্তাবের কথা বললেও এতে নিরাপত্তার উপাদান আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জাপানও এখানে চীনের বিরুদ্ধে বলছে। এ ধরনের ছোট গোষ্ঠী বা ক্লাবে যুক্ত হওয়ার ভাবনাটা ভালো না। বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে তা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে যথেষ্ট খারাপ করবে।’

আসল বিষয়টা এখানেই। বঙ্গোপসাগরের ব্লু ইকোনমি জোন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূতাত্ত্বিক আধিপত্য থাকায় বাংলাদেশ সবসময়ই সকল হিসাব-নিকাশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কোয়াড জোটের নব উত্থান বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো অর্থবহ করে তুলেছে। যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বেশ ষ্পষ্ট। বাংলাদেশই ছিল প্রথম প্রতিবেশী দেশ, যাদের সঙ্গে ভ্যাকসিন দেয়ার চুক্তি হয়েছিল ভারতের। এতে ভারতের বাংলাদেশের প্রতি গুরুত্বকে অনেক দেশই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঢাকার ওপর চীনের প্রভাব কমানোর কৌশল বলে ইঙ্গিত করেছিল আন্তর্জাতিক মিডিয়া।

এদিকে এপ্রিলে দুই সপ্তাহ আগে-পরে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে জেনারেল এবং চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি ঢাকা সফর করেন। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে যখন দেশে চীনা ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয় এবং চীনের উদ্যোগে নতুন প্ল্যাটফরমে আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে বাংলাদেশ রাজি হয়। চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোয়াড নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে এমন ‘সামরিক জোটের’ বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে পাশে চেয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন অবশ্য বলেন, দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপাদান থাকলে বাংলাদেশ তাতে যুক্ত হলেও কোনো উদ্যোগে নিরাপত্তার বিষয়টি থাকলে তাতে যুক্ত হবে না। সবসময়ই কোয়াডকে ‘বহুরাষ্ট্রীয় তৎপরতার নামে ছোট এক সার্কেল’ বা ‘গ্রুপ পলিটিক্স’ বলে আসা চীনের এ জোটকে নিয়ে চীনের উদ্যোগে নতুন প্ল্যাটফরমে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশকে এমন হুঁশিয়ারির অর্থ হল করোনায় পর্যদুস্ত ভারতের এই দুর্বলতায় চীনের কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন প্রভাব বলয় স্থাপন করা। এই বলয়ে বাংলাদেশকে তারা একবারে কব্জা করতে চায় তা রাষ্ট্রদূতের এমন পরিস্থিতির ভেতরেও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তাদের উৎসাহী আলোচনাই প্রমান করে।

চীনের রাষ্ট্রদূতকে মনে রাখতে হবে ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানের অন্যতম বৈশ্বিক সহযোগি ছিল চীন। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণকে বাঁধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে ভারত সীমান্তে চীন তিন লক্ষ সেনা মোতায়েন করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও জাতিসংঘের তার সদস্য পদের বিপক্ষে বারবার ভেটোপ্রয়োগ করেছিলো চীন। বঙ্গবন্ধুর জীবিতকালে সে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিয়ে বরং অপপ্রচার চালিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাযজ্ঞের পরই চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো। করুণ অতীত এবং ভুলে বাংলাদেশ পারষ্পরিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রেখেছে। চীনের ঋণ ও সাহায্য-সহযোগিতার অন্তরালে সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে সাহায্রপুষ্ট দেশকে তার কক্ষপথে বন্দী করার নানান অভিযোগ সত্তে¡ও বাংলাদেশ ও চীনের আর্থসামাজিক ও সামরিক খাতে পারষ্পরিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। একটি রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। সার্বভৌমত্ব বৈশিষ্ট্যের দরুন রাষ্ট্র নিজের ইচ্ছা ব্যতিরেকে অন্য কোনো প্রকার শক্তি বা ক্ষমতা দ্বারা আইনসংগত ভাবে আবদ্ধ নয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের এক বছরের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন, ভারতে আশ্রিত ১ কোটিরও বেশি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনা, নতুন সংবিধানের অধীনে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, ভৌত অবকাঠামো পুনর্গঠন,অর্থনৈতিক মুক্তির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কেবলমাত্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিতই করেননি, সুনিশ্চিত করেছেন। এমন মহান নেতা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন এবং বাহিঃযোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ নিজস্ব এখতিয়ার। বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামরিক দিক সবকিছুর বিষয়েই এমন কৌশলী সিদ্ধান্ত নেবে যেন এসব হুমকিদাতাদের এমন মনোভাব প্রকাশের আগে অন্তত ১০বার ভাবতে বাধ্য হয়।

লেখক : সাংবাদকি ও কলামিস্ট

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত