ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে

কদম ফুলের বৃষ্টিস্নাত ভালোবাসা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২১, ১৬:০৪  
আপডেট :
 ১৫ জুন ২০২১, ১৬:১০

কদম ফুলের বৃষ্টিস্নাত ভালোবাসা
ছবি- নিজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশও ছেয়ে... আসে বৃষ্টিরও সুবাস ও বাতাসও বেয়ে...’ কিংবা ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নবযৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা...’ কিংবা ‘এমনও দিনে তারে বলা যায়, এমনও ঘনঘোর বরষায়...’।

চিরকালই আষাঢ় সাজে নানান রূপে। বৃষ্টিরধারায় নবতর জীবন আসে পুষ্প-বৃক্ষে, পত্রপল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে প্রকৃতির অবয়বে। নতুন সুরের বার্তা নিয়ে সবুজের সমারোহে আগমন বর্ষার। রূপময় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষা ঋতুর শুরুটা আজ।

হুমায়ুন আহমেদের কথায়, সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছিলেন, বরষার প্রথম দিনে ঘন কালো মেঘ দেখে আনন্দে যদি কাঁপে তোমার হৃদয় সেদিন তাহার সাথে করো পরিচয়।

আজ পহেলা আষাঢ়। এসে গেল মেঘবতী জলের দিন। কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি, আবার হঠাৎ রোদঝলমলে আকাশ। ব্যস্ত জীবনে হাজারো ক্লান্তির মাঝেও মন চায় উদাস হতে। বাংলা ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষা অন্যতম। ইতিহাস বলে এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় বর্ষায়। তাই চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। আসুন আমরা আজ মনটাকে ধুয়েফেলি প্রতিকী বর্ষার জলে। ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর ভুবন ভুলানো হাসি মনে ধারণ করি ।

কী গ্রাম, কী নগর সর্বত্রই বর্ষার আগমনী বার্তা দেয় কদম। যেন একই কথার জানান দিতে পেখম মেলে ময়ূর, বৃষ্টির জল গায়ে নিয়ে নৃত্য করে। বর্ষায় প্রকৃতির এমন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে নজরুল লিখেছেন-

রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে

কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে

কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে

কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে,

মনের বনের মুকুল খোলে

নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে...।

রিমঝিম এ বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে কাটে বাঙালীর শৈশব। স্কুলে যেতে যেতে কিংবা ফেরার পথে দুরন্ত কিশোরী আনন্দে গায়ে মাখে বৃষ্টির ফোঁটা। তুমুল বৃষ্টিতে গাঁয়ের ছেলেরা নেমে পড়ে ফুটবল নিয়ে। আবার ভারি বর্ষণে, পাহাড়ী ঢলে গ্রামের পর গ্রাম যে ভাসিয়ে নেয় সেও বর্ষা! বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ তাই আতঙ্কে পার করে বর্ষা। একই কারণে সারা বছরের অর্জন ফসল তলিয়ে যায়। সুখ স্মৃতিগুলো মনে রেখেই প্রতিবছর বর্ষাকে বরণ করে নেয় বাঙালী। বিশেষ করে শহরে নগরে হরেক আয়োজনে চলে বর্ষা বন্দনা। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানীতে আজ বর্ষাবরণে নানা আয়োজন রয়েছে। বর্ষার রাগিনীতে বর্ষাকে বরণ করে নেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আজ অনেকেই মেতে উঠবেন বর্ষাবরণ উৎসবে।

বর্ষায় নিজের চিত্তচাঞ্চল্যের কথা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-

মন মোর মেঘের সঙ্গী,

উড়ে চলে দিগ্ দিগন্তের পানে

নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণবর্ষণ সঙ্গীতে

রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম...।

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক লীলাভূমি বাংলাদেশ। ছয় ঋতুর প্রত্যেকটি আলাদা। বর্ষা ঋতু তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যতিক্রম। বর্ষা ঋতু কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষার প্রবল নির্জনে, মেঘের গর্জনে ভালবাসার সাধ জাগে। গ্রীষ্মের ধুলো মাখা জীর্নতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজবে পূর্ণতায়। আষাঢ় মাসের প্রথম দিনেও তাই আকাশে রয়েছে মেঘের ঘনঘটা।

বাংলাদেশ জার্নাদেশ/এফএম/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত