ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২১, ১৮:১৮

প্রিন্ট

গ্রামীণ সমাজে নারীর চিত্র

গ্রামীণ সমাজে নারীর চিত্র
সংগৃহীত ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় শতাব্দীকাল আগেই বলে গেছেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এগিয়ে চলছে। নারীও তার সব সামর্থ্য প্রয়োগ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণে। ১৯৭১ সালে জীবনকে বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন অসংখ্য বাঙালি নারী। কিন্তু আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীর অবদানের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হয়নি। আমাদের সমাজে নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পুরোটা গড়ে ওঠেনি।

গ্রামে নারীরা গৃহস্থালি, কৃষি ও পশু পালনের মতো নানা উৎপাদন–কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার নেই কোন স্বীকৃতি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নারী যখন বিপন্ন হচ্ছে, তখন বিশ্লেষণে জানা যায়, ‘নারী’ বলেই সে বিপন্ন। নারী নিপীড়ন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিন্তু সব নিপীড়নেরই কারণ একটি: লিঙ্গ পরিচয়ে সে নারী; তাই নির্যাতিত। প্রচলিত সামাজিক বিশ্বাস ও কুসংস্কার নারীকে লিঙ্গীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ রেখে প্রমাণ করতে চায়, নারী মানুষ নয়।

সমাজ পরিবর্তনের জন্য নারীর সংগ্রাম আবশ্যক। বর্তমানে বাংলাদেশে নারীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে গেছে যদিও গ্রামীণ সমাজের চিএটা একটু ভিন্ন। সেখনের অনেক মেয়েরা এখনো লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে, শিখে সংসারের কাজ। গ্রামীণ সমাজে এখনো অল্প বয়সে মেয়েদের অভিভাবক তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়, তাদের সম্মতিকে উপেক্ষা করেই এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রীতি অনুযায়ী মেয়েদের পালন করতে হয় প্রথাগত ঘর-সংসারের দায়িত্ব। যদিও বাল্যবিবাহের হার আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।

শিক্ষিত মেয়েরা যেমন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধা ও তাদের শ্রম দিয়ে সাহসিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেভাবেই গ্রামের নারীরাও পুুরুষের কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন প্রতিনিয়ত। বাসা-বাড়িতে, মাঠে-ঘাটে ও কৃষি জমিসহ সবক্ষেত্রে। পার্থক্যটা এক জায়গায় শহরের নারীরা কিছুটা আত্মমর্যাদা ও সম্মান পেলেও গ্রামবাংলার নারীরা আজও অবহেলিত নানাভাবে। শহরের নারীরা তার প্রাপ্য মর্যাদা বুঝে নিলেও পারছেন না গ্রামীণ নারীরা। তারা বাসা-বাড়িতে কঠোর পরিশ্রম করেন, সে কাজের কোনো স্বীকৃতি তো মেলেই না, পান না কোন মজুরিও। বিপরীতে শুনতে হয় নানা অসম্মানজনক কটু কথা।

বাংলাদেশের নারী আন্দোলন-সংগ্রামের অবিসংবাদী নেত্রী রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) বলেছেন, ‘আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে? কোন ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ এবং নারীর স্বার্থ ভিন্ন নহে—একই। জগতের যে সকল সমাজের পুরুষেরা সঙ্গিনীসহ অগ্রসর হইতেছেন, তাঁহারা উন্নতির চরমসীমায় উপনীত হইতে চলিয়াছেন। আমাদের উচিত যে, তাহাদের সংসারের এক গুরুতর বোঝাবিশেষ না হইয়া আমরা সহচরী সহকর্মিনী সহধর্মিণী ইত্যাদি হইয়া তাহাদের সহায়তা করি।’

গ্রামীণ নারী ও পুরুষের ওপর করা ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ১২ দশমিক ১টি কাজে ব্যয় করেন ৭ দশমিক ৭ ঘণ্টা। পুরুষ ২ দশমিক ৭টিতে করেন ২ দশমিক ৫ ঘণ্টা। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ৩ গুণ কাজ করেন। তাই নারীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এখন সময়ের দাবি। গ্রামীণ নারীদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই ভেদাভেদ দূর করে সমতা বিধান করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এফএম/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত