ঢাকা, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

রাজধানীতে ঠিকাদারকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪:৩৩

রাজধানীতে ঠিকাদারকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঠিকাদারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে কন্টাক্ট কিলিংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের গুলশান বিভাগের একটি টিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. সাহজাহান ওরফে বাবু, মো. দুলাল প্যাদা ওরফে জিএমপি দুলাল ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন।

পুলিশ বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাটি ভরাট, বিতর্কিত জায়গার সমাধান, জমি দখল, বেদখল এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতো একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা চুক্তির মাধ্যমে এসব মিশনে অংশগ্রহণ করতো। সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার আরব আলী হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি রিভলবার, একটি পিস্তল ও তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান।

ডিবি প্রধান বলেন, ঢাকা শহরে অবৈধ জমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ডিবি। এসব ঘটনা ঘটলে ডিবি তাদেরকে ছাড় দেবে না। কোথাও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে থানায় জানাবেন।

তিনি আরো বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলার বাদী মো. আরব আলী পেশায় একজন ঠিকাদার। গত ১৫ মার্চ বাদীর এলাকার লোকজন নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে এলাকার ৮০ ফুট প্রশস্ত সুয়ারেজ ড্রেনের কাজের দায়িত্ব তাকে দেয়। কাজ চলাকালীন সময় গ্রেপ্তারকৃতরা তার কাছে চাঁদা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। আরব আলী চাঁদা দেবে না জানালে গত ৩০ মার্চ দুপুরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ৩৩/এ বাসার সামনে রাস্তার ওপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। আরব আলী ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. সাহজাহান ওরফে সাবুকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে পল্লবী থানার কালশী বাউনিয়াবাঁধ একালায় তার বাসা থেকে ৬ চেম্বার বিশিষ্ট একটি রিভলবার ও এক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযানের সময় কালশী এলাকা থেকে মো. দুলাল প্যাদা ও জিএমপি দুলাল ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকেও একটি পিস্তল ও ২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ডিবির ডিসি (গুলশান) মশিউর রহমান বলেন, হাইমচরের মিয়াবাজার দুর্গম এলাকা থেকে সাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ঢাকায় এনে পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইয়াবা ও রিভলবার উদ্ধার করা হয়। সাবুকে দিয়ে কৌশলে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের নির্দিষ্ট জায়গায় আসতে বলা হয়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অপর দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের পৃষ্ঠপোষক কারা জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী ইব্রাহীম ও যুবরাজের তত্ত্বাবধানে তারা কাজ করতো বলে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়াও এ চক্রের আরো আট থেকে ১০ জনের নামের তালিকা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এফজেড/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত