ঢাকা, শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোন সরকার বেশি আন্তরিক?

  আর এ শাহরিয়ার

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৪:২৫

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোন সরকার বেশি আন্তরিক?
ছবি: সংগৃহীত
আর এ শাহরিয়ার

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা। আগামী বছরের প্রথমভাগে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং সাংবিধানিকভাবে নতুন কমিশন গঠিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।

নতুন কমিশন কিভাবে গঠিত হবে তা নির্ধারণ করা সংবিধানের ১১৮ (১) ধারা নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের দেশের অতীত নির্বাচন কমিশন নিয়ে দুই চারটি কথা না বললেই নয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- এ পর্যন্ত দেশে ১২টি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। ৮ জুলাই দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবে এ সংস্থার যাত্র শুরু। ১২টি কমিশনের মধ্যে তিনটিকে বিদায় নিতে হয়েছে জনরোষের বা নূন্যতম গ্রহনযোগ্যতার অভাবে। এদের কেউ পাঁচ বছর মেয়াদের দু'বছরও পার করতে পারেনি, এগুলো হল: সুলতান হোসেন খান কমিশন (১৯৯০) এক বছর , একে এম সাদেক কমিশন (১৯৯৫) এক বছর, এম এ আজিজ কমিশন (২০০৫) দেড় বছর, এর মধ্যে একেএম সাদেক কমিশনের অধীনে বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারী (১৯৯৬) সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অন্য দুটি কমিশনের অধীনে কোনও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে যে বিষয়টি উল্লেখ্য না করলেই নয় তা একে এম সাদেক কমিশন ও এম এ আজিজ কমিশন দুটি বিএনপির সরকারের সময় গঠিত হয়েছিল। জিয়া সরকারের ১৯৭৭সালের নুরুল ইসলামের নির্বাচন কমিশন গঠন ও তাদের কর্মকাণ্ড তো গোটা উপমহাদেশে নজিরবিহীন।

দেশের ইতিহাসে ১২ কমিশনের প্রথম দশটি কমিশনই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে কমিশন গঠন করেছেন। যার ব্যাখ্যা সংবিধানের ৪৮ (৩) ধারায় সন্নিবেশিত। দশম সংসদের পর একাদশ কমিশন অধিক গ্রহনযোগ্য করার জন্য তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালে সব রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করে, কিন্তু সেই সংলাপে বিএনপি যোগ দেয়নি।

কেন তারা সেই সংলাপে যোগ দিয়ে তারা তাদের মতামত দেয়নি? ২০০৫ সালের এম এ আজিজ কমিশন বিএনপি গঠন করেছিল। এ কমিশন কিসের ভিত্তিতে করেছিল বিএনপি ? এ কে এম সাদেক খান কমিশন কিসের ভিত্তিতে করেছিল বিএনপি ? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্য তারা হয়ত সংবিধানের ৪৮(৩), ৯৫(১), ১১৮(১) ধারার কথা বলতে চাইবে। ভাল কথা, তবে এখন তাতে আপত্তি কোথায়?

সংবিধানের এ অংশের তো কোন সংশোধন করা হয়নি। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, “তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ২২ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে আলোচনা শুরু করেন। এটা অনির্ধারিত বা অনানুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা হলেও বিশেষ প্রশংসনীয় এই কারণে যে, সংলাপের মাধ্যমে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি জ্বলন্ত সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধানে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম উদ্যোগ। একইসঙ্গে যা দুঃখজনকও, তা হলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় গ্রুপ রাষ্ট্রপতির আহবানে সাড়া দেয়নি।”(বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কার, ৫৫ পৃষ্ঠা)

২০১১ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার পর তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করে। বিএনপি নতুন করে সার্চ কমিটি নিয়ে নতুন আপত্তি, সংবিধানের ১১৮ (১) ধারায় কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য কমিশন গঠন করার কথা বলছে।

তাহলে আসুন জেনে নেই সংবিধানের কোন ''আইন'' বলতে কি বুঝিয়েছে। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বিভিন্ন শব্দ ও টার্মের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইন অর্থ বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইন সম্পাদন যেকোন প্রথা বা রীতি- এখানে বিজ্ঞপ্তিকে আইন বলা হয়েছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, সার্চ কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর মাধ্যমে কমিশন গঠনও পুরোপুরি সাংবিধানিক।

লেখক: আইনজীবী ও খণ্ডকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

বাংলাদেশ জার্নাল/এমজে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত