ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

মডেল ইউনিয়ন গড়তে চাই

  পলিয়ার ওয়াহিদ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২১:১৩

মডেল ইউনিয়ন গড়তে চাই
পলিয়ার ওয়াহিদ

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. রবিউল ইসলাম। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৪নং বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রাথী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। দেশের বর্তমান রাজনীতি, নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের চিন্তা-ভাবনার কথা জানালেন তৃণমূলের এই তরুণ সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ। জনপ্রিয় অনলাইন বিডিজার্নাল-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রাজনীতি ছাড়াও উঠে এসেছে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানান বিষয়। কথা বলেছেন পলিয়ার ওয়াহিদ

বাংলাদেশ জার্নাল: কেন আপনি চেয়ারম্যান হতে চান? ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে আপনার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রবিউল ইসলাম: আমার ইউনিয়নটি একটি মডেল ইউনিয়ন গড়তে চাই। সরকারের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পৌছে দেয়াই আমার লক্ষ্য।

বাংলাদেশ জার্নাল: আগামী ৫০ বছর পর স্বপ্নের বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

রবিউল ইসলাম: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলাদেশ। সেই সোনার বাংলা দেখতে চাই। যেখানে মানুষের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত জীবনমানের বাংলাদেশ দেখতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: ‘কেশবপুর’ কী জন্য বিখ্যাত? আপনার প্রিয় মানুষ কে? ও প্রিয় রং কী?

রবিউল ইসলাম: বিখ্যাত কালোমুখো হনুমান, খেজুরের রস ও খেজুরের গুড়ের জন্য। আমার প্রিয় ব্যক্তি বা মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। আমার প্রিয় রং কালো।

বাংলাদেশ জার্নাল: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ‘দলীয় প্রতীক’ স্থানীয় পর্যায়ে কী কী অসুবিধা তৈরি করছে বলে আপনি মনে করেন?

রবিউল ইসলাম: ব্যক্তি হিসাবে পছন্দের হলেও নৌকা প্রতীক দেয়াই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়ায়- অন্য দলের ভোটাররা কোনোভাবেই নৌকায় ভোট দিতে চাই না। সঠিক ব্যক্তির কাছে বা ভালো ব্যক্তির কাছে নৌকা তুলে না দিলে প্রার্থী ফেল করবে ফলে উন্নয়নের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার মান ক্ষুণ্ন হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনার ইউনিয়নে শিক্ষিত বেকার ও অশিক্ষিত যুবকদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

রবিউল ইসলাম: শিক্ষিত বেকার যুবকদের নিয়ে যুবশক্তি বা যুবসম্পদ হিসাবে তাদের কাজে লাগিয়ে উদ্দোক্তা তৈরি করব। যোগ্যতার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র শিল্প বা বিভিন্ন ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের মেধাকে কাজে লাগাব। অশিক্ষিত বেকার যুবকদের বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় প্রশিক্ষণের ব্যাস্থা করে কর্মোউদ্দোগি ও দক্ষ শ্রমিক হিসাবে গড়ে তুলব যেন বেকারত্ব হ্রাস পায়।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত ৫ বছরে কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি? সংক্ষিপ্ত বিবরণে তুলে ধরুন।

রবিউল ইসলাম: হ্যাঁ আমি একজন সাংস্কৃতি প্রেমিক মানুষ। গত ৫ বছর বা তার আগে থেকেই ‘রাসেল স্মৃতি সমাজ কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি (সেচ্ছাসেবী সংগঠন) এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। খেলাধূলা বিশেষ করে- ফুটবল, ক্রিকেট, লবণদাড়ি, কাবাডিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করি।

বাংলাদেশ জার্নাল: চেয়ারম্যান কিংবা কোনো পদবী ছাড়া কি সমাজসেবা কিংবা সমাজ সংস্কার করা যায়? আপনার মতামত কী?

রবিউল ইসলাম: চেয়ারম্যান বা কোনপদ ছাড়াই অবশ্যই সমাজসেবা বা সমাজ সংস্কার করা যায়। তবে চেয়ারম্যান হলে সমাজ সেবামূলক কাজ করতে সহজ হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনি কি কোনো ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন? থাকলে সে সংগঠনের নাম, স্থাপিত ও কার্যক্রম কী?

রবিউল ইসলাম: আমি অবশ্যই ক্রীড়া সংগঠনের সাথে যুক্ত আছি। আমি ৪ নং বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র ভান্ডারখোলা বাজারে রাসেল স্মৃতি সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে যাবতীয় ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে কাজ করি। তাছাড়া আমি ০৪ নং বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ক্রীড়া কমিটির সভাপতি।

রাসেল স্মৃতি সমাজ কল্যাণ পরিষদ ১৯৯৯ ইং সালে স্থাপিত হয়। সমাজসেবা ও জনসেবামূলক যেমন- মাদকমুক্ত, বাল্যবিবাহ রোধ, রক্তদান কর্মসূচীসহ যাবতীয় সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম আমরা করে থাকি।

বাংলাদেশ জার্নাল: ‘বিদ্যানন্দকাটি’ নামকরণের ইতিহাস কী? এ এস এইচ কে সাদেক সম্পর্কে কিছু বলুন।

রবিউল ইসলাম: বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে বিদ্যানন্দকাটি গ্রামে সব থেকে বেশি জ্ঞানী বা শিক্ষিত বিদ্যান লোক থাকায় বিদ্যানন্দকাটি নামকরণ করা হয়। তাছাড়া ইউনিয়নের কার্যক্রম যখন প্রথম শুরু হয় তখন গ্রামের নাম বিদ্যানন্দকাটি হওয়াই গ্রামের নাম আনুসারে নামকরণ করা হয় বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন।

আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক কর্মজীবনে জাতিসংঘের সচিব ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাবেক সফল শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে কেশবপুর তথা সারাবাংলাদেশে অমর হয়ে আছেন।

তাছাড়া তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকা অবস্থায় বাংলাকে বা বাংলা ভাষাকে আন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস এর স্বীকৃতি এনে দেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? যদি আপনি নির্বাচিত না হন আপনার ভূমিকা কী হবে?

রবিউল ইসলাম: আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা টাউট ও চিটার, তারা সাধারণত মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন অর্থনৈতিকসহ নানাভাবে জনগণকে ঠকিয়েছেন। সেই কারণে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাছাড়া আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হইলে তো কোন কথাই নেই। তাহলে আমার প্রতিদ্বন্দী প্রাথী চরমভাবে পরাজয় বরণ করবে। আমি নির্বাচিত না হলে বা দলীয় মনোনীত প্রার্থ না হলে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করব। এবং যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে সহযোগিতা করব।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাংলাদেশের ১০ জন বিখ্যাত রাজনীতিবিদের নাম বলুন, যাদের আর্দশে আপনি অনুপ্রাণিত হন?

রবিউল ইসলাম: আমার ১০ জন বিখ্যাত বাংলাদেশী রাজনীতিবিদরা হলেন- ১। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ২। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ৩। হোসেন শাহিদ সহোওরাদ্দী, ৪। মওলানা আবদুল হামদ খান ভাষানী, ৫। তাজউদ্দীন আহমদ, ৬। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ৭।এম কামরুজ্জামান, ৮। ক্যাপ্টেন মুনছুর আলী, ৯। শেখ ফজলুল হক মনি, ১০। শেখ হাসিনা। আমি এ সকল রাজনীতিবিদদের আদার্শে অনুপ্রাণিত হই।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত মাসে কোনো বই পড়েছেন? বইটির নাম কী? মাইকেল মধুসূদন দত্ত কে? তার একটি বইয়ের নাম বলুন।

রবিউল ইসলাম: হ্যাঁ অবশ্যই পড়েছি। বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর লেখা তার ‘অসমাপ্ত আত্নজীবনী।’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত গর্বিত বাংলা ভাষার মহান মহাকবি। ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য বই।।

বাংলাদেশ জার্নাল: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

রবিউল ইসলাম: আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা।

বাংলাদেশ জার্নাল/পিও/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত