আমাদের রুচিবোধের এমন রূপ!

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

দিনদিন আমাদের রুচিবোধের অধঃপতন ঘটছে। না পারছি এসব থেকে মুক্ত থাকতে, না পারছি জোরালো কোন পদক্ষেপ নিতে। নীতি-নৈতিকতাতে ধ্বস নেমেছে অনেক আগেই। যে যেভাবে পারছি অনিয়ম, অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজের কাছে যেমন ছোট হচ্ছি তেমনি পরিবারের কাছেও নিজের আত্মসম্মান হারাচ্ছি। 

অন্যের সম্পর্কে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ কথা বলার আগে নিজেরও যে একটা পরিবার আছে সে বিষয়টা আমরা ভাবার প্রয়োজন মনে করছিনা। আমাদের রুচিবোধের এমন রূপ কেন? কেন এমন হচ্ছে আমাদের? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকেই খুঁজতে হবে। 

নিজের মধ্যে যখন অহংকার ও অহমিকা জেঁকে বসে, নৈতিকতা হারিয়ে ফেলি তখন কোনকিছুই ভাববার অবকাশ থাকেনা বৈকি! মুখ দিয়ে যা আসে তাই বলি, যা করতে মন চায় তাই করি। ভালোমন্দ বাচ বিচার করার প্রয়োজন মনে করিনা। এ অবস্থায় সবচেয়ে শঙ্কায় রয়েছি পরবর্তি প্রজন্মের  সুন্দরভাবে গড়ে উঠা এবং বেড়ে উঠা নিয়ে। 
তারা এসব দেখে কী শিখবে? প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়ার পরিস্থিতিও তো নেই! বড়জন, গুণীজনদের দেখে দেখেই তো তারা শিখবে,বড় হবে, মানুষ হবে। কিন্তু মিডিয়ার কল্যাণে কিছু লোকের এসব রুচিহীন কর্মকাণ্ড দেখে আমাদের সন্তানেরা কী না কী শেখে তা নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকতেই হয়। 

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। সমাজ পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেই এ ধরণের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। 

কারণ, তারা সবসময় সবার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্রয় দিলে মাথায় উঠে যখন নাচবে তখন শোধরানোর আর কোন উপায় থাকবেনা। মানুষের মাঝে বিদ্যমান মানবিক গুণাবলী লোপ পেয়ে অপরাধবোধের মানসিকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। রুচিবোধের যেমন কদর্যরূপ দেখছি তেমনিভাবে অন্যসব অপরাধমূলক কাজও থেমে নেই। 

সুতরাং এসব থেকে নিজেকে, পরিবারকে, সমাজ ও দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনি নিরাময়মূলক উদ্যোগ নিতে হবে। কাউন্সেলিং এর পাশাপাশি চরিত্রগঠনে নিতে হবে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল। প্রয়োজন হলে আইনের আওতায় আনতে হবে অপরাধীকে। আমরা চাই, সর্বক্ষেত্রে একটি সুন্দর সিস্টেম চালু হোক যার মাধ্যমে অনৈতিক, অনিয়ম, কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড দূর হয়ে একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। 

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট।

 

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ