ঢাকা, বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২৪ মিনিট আগে

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ১৯ বছর পলাতক ছিলেন সিরাজুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ২১:৪৯

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ১৯ বছর পলাতক ছিলেন সিরাজুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ১৯ বছর ধরে পালিয়ে বেড়িয়েছে সিরাজুল ইসলাম (৪০)। তবে শেষরক্ষা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ২০০২ সালে জুলেখাকে (১৯) বিয়ে করে সিরাজুল ইসলাম (৪০)। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই যৌতুকের জন্য জুলেখাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে সিরাজুল। এর মধ্যে জুলেখা ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন। যৌতুক না পাওয়ায় কলহ আরও বেড়ে যায়।

২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর জুলেখাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় সিরাজুল। সেখানে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে পরিচয় গোপন করে কখনও রিকশাচালক, কখনও ফেরিওয়ালা, কখনও সবজি বিক্রেতা, রাজমিস্ত্রি, ট্রাকচালক এবং পরিবহন অফিসে দালালি করতো সে। হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সিরাজুলকে ১৯ বছর পর বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলার চর সৈয়দপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক বলেন, সিরাজুল ও জুলেখার বিয়ে হয় ২০০২ সালের জুলাই মাসে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এর মধ্যে জুলেখা ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন। যৌতুক না পাওয়ায় কলহ আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী মোশারফের সঙ্গে ভিকটিমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তোলে সিরাজুল। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সালিশ হয়।

র‌্যাব জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নির্যাতন না করতে সিরাজুলকে সতর্ক করা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর জুলেখাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় সিরাজুল। গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে জুলেখার বাবা আব্দুল জলিল সিংগাইর থানায় সিরাজুল, তার বড় ভাই রফিকুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, জুলেখাকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০০৫ সালের শেষের দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোতাহার হোসেন চার্জশিটে অভিযুক্ত সিরাজুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ঘটনার পর থেকে ১৯ বছর ধরে পলাতক ছিল সে।

এদিকে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার পর ২০০৫ সালে আবারও বিয়ে করে সিরাজুল। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার চর সৈয়দপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল। বর্তমানে তার দুটি সন্তান রয়েছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে সে সৈয়দপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করে আসছিলো। পরিচয় গোপন করতে প্রতিনিয়ত পেশা পরিবর্তন করেছে। কখনও রিকশাচালক, কখনও ফেরিওয়ালা, কখনও সবজি বিক্রেতা, রাজমিস্ত্রি, ট্রাকচালক ও পরিবহন অফিসে দালালি করতো। সিরাজ নাম ধারণ করে নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুর এলাকাকে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বলেও জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত