কে দায় নেবেন ?

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২২, ১৫:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজীব কুমার দাশ

বখাটে কিশোর গ্যাং তথা কিশোর গ্যাংস্টার অপরাধের দায়ভার কে নেবেন? এ ভয়ঙ্কর পুঁচকে মানব শ্বাপদ সরু পশ্চাৎদেশ উরাধুরা চাহনিতে সব গিলে খাই স্বভাব,নির্বোধ পারমাণবিক হাইড্রোজেন মার্কা জীবন; কবি গুরুর ভাষায়, ‘তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই।’

-তাহলে এরা ইঁচড়েপাকা মানববোমা অকালকুষ্মাণ্ড মানব পঙ্গপাল! এ ইঁচড়েপাকা মানববোমা হেলেদুলে হেড়েগলায় তেড়ে এসে -কিশোরি যুবতী গৃহবধূ পৌঢ়াকে কত কত শোনাবে:
‘তোমার স্বেচ্ছা মৃত্যুর ইচ্ছে
আমি করে দিচ্ছি আগাম সই
কোন ভরসাতে বলব তোমায়
যেও না ছেড়ে আমায়।’

এ হৈচৈ মার্কা ঝাঁক ঝাঁক মানব হাঙর ছ্যাঁচড়া অক্টোপাস-বস্তি পাড়া মহল্লা অলি গলি পেরিয়ে স্কুল-কলেজ ফুটপাত হাট বাজার দখল করে আইনের অনুকম্পা নিয়ে সবাইকে তটস্হ করে রেখেছে -ওরা কারা? এ ছুঁচো ধুরন্ধর মানব মিসাইলে অপরাধের জ্বালানি ভরে দিচ্ছে কে? সুযোগসন্ধানী অপরাধের পিতা কে?

রাস্তার বেওয়ারিশ নেড়ি কুকুরের উপদ্রব ঘেউ ঘেউ যখন বেড়ে যায়; জনগণ পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনের সাহায্য নেন। কুকুর নিধন করে সরকারের এ সংস্হাগুলো  জনগণকে স্বস্তি দেন। ভয়ঙ্কর কিশোর গ্যাং তো আর নেড়ি কুকুর না;যাদের কুকুরের মতো- মিঠাই হালুয়া রুটির লোভের টোপ দিয়ে কুকুরের মতো চ্যাংদোলা করে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে
ফেলবেন!? টিকা দিয়ে জলাতঙ্ক ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারবেন।

সরকার আর কতোটা দায় নেবেন? সারাবছর নিদ্দিষ্ট স্হানে ময়লা না ফেলে ড্রেনগুলো বন্ধ করে রাখবেন; - বর্ষা মৌসুম সময়ে হয়,সরকারের দোষ।

- আপনি, সুনাগরিক সন্তানদের ভরণপোষণ করতে পারবেন: সর্বোচ্চ একজন বা দু'জন।
- আপনি -পয়দা করে দিলেন হালি হালি ডজন।
- এ পয়দায়েশ সন্তানদের দায়িত্ব
কে নেবেন!?
- রাষ্ট্র? হ্যাঁ, এ রাষ্ট্রে যখন আপনি পয়দা করেছেন,রাষ্ট্র তো বিপদে পড়েছেন!
রাষ্ট্র তো বিপদে-আপদে আপনার পাশেই আছেন। মানে-আপনার জৈবিক সুখের পাইকারি ফসলেও রাষ্ট্র খুশি। আপনার 
পাইকারী সুখের ফসলগুলো বাঁচিয়ে রাখতে আপনি এবার শুরু করলেন

- নতুন নতুন পাইকারি খুচরা ধান্ধা।
আপনি রাস্তা ঘাটে শুরু করলেন, গণহারে ভিক্ষাবৃত্তি হাতপাতা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে শুরু করলেন; গগনবিদারী কবিতাপাঠ।
‘ভাত দে হারামজাদা,নইলে নিতম্ব
খাব,স্তন খাব,মানচিত্র খাব ইত্যাদি! ইত্যাদি!’

সরকার আবারও  মহাবিপদে! আপনি গণহারে পয়দা করে, ভাত খেতে না পারার দাবিও সরকার মেনে নিয়েছে। সরকার নির্ঘুম রাত কাটিয়ে এটা-সেটার ব্যবস্থা করে আপনাকে খাইয়ে নতুন করে আবারও পয়দা করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আবাসন, হাসপাতাল, স্কুল, স্যালাইন রিলিফ কনডম পিল ফ্রি দিয়ে আপনার জীবনকাল করেছেন দীর্ঘ। তবুও আপনার প্রাপ্তিযোগে কেমন জানি, -বেশ আয়েশি ভাব -'আরো যদি পাইতাম।

আহা! আমার হাফ ডজন, এক ডজন পোলাপান। সম্পদ সম্পত্তি বলতে তেমন কিছু নেই।  প্রফেসর করিম চৌধুরী শিক্ষক রতন বাবু, লেখক সুকান্ত দাশের জায়গা জমি ব্যবসা যদি দখল করতে পারতাম,-আহা! কতোটা শান্তি পেতাম। অসুবিধা নাই, পোলা বড়োটা দিমু,অমুক নেতার কাছে, মেঝটাকে অমুকের কাছে, সেঝটা তমুকের কাছে।

বাহ্ আস্তে আস্তে আপনার সবই হয়ে
গেলো। আপনি নির্বোধ মহড়া সেরে
‘পাতি নেতা,ছাতি নেতা সেরে বিপুল
ভোটে নির্বাচনে বুকের ছাতি দুলিয়ে
জিতে নিলেন।’
 
বোধের নির্বাসনে আপনি এখন,অমুক সমুক তমুক স্কুল কলেজের সভাপতি সেক্রেটারি। আপনাকে সবাই সালাম দেয়,হিন্দুরা
নমস্কার দেয়,তাঁদের বাড়িতে আপনার ছেলে নাতিরা পিকনিক করেন। বাহ্ আপনি হাতপাতা সোনা মিয়া হয়ে গেলেন,এ তল্লাটের রাতারাতি  ক্রোড়পতি। আপনি সোনা মিয়ারা এখন রাষ্ট্রের মেহমান।

এই যে, ফকির মিসকিনের জাতীয় হাতপাতা ক্রন্দন মেহেমানদারি তা এখন বন্ধ করার সময় এসেছে। আমার হাইস্কুল জীবনের শ্রদ্ধেয় বিএসসি শিক্ষক কবির স্যার, ক্লাসে একটি কথা বার বার বলতেন-

১/ মুখে ট্যাক্স বসিয়ে দিতে পারলে
সব সমস্যা মিটে যাবে
২/ সম্পদের হিসাব দিয়ে জন্ম দিতে হবে।
কারণ: এ দেশের জনসংখ্যা কখনও সম্পদে পরিপূর্ণ  হবেনা, তৈরি হবে- নতুন নতুন অবাঞ্চিত আণবিক বোমা,রাষ্ট্রের বোঝা।
সেদিন,স্যারের গভীর দৃষ্টিভঙ্গি
বুঝতে পারিনি। এখন হাড়ে হাড়ে
টের পাচ্ছি।  

কিশোর গ্যাংয়ের দায়িত্ব শুধু সরকারকে নিতে হবে কেন? আগে নিতে হবে, এদের পিতা মাতা, কারণ: সরকারের খাদ্য আবাসন স্বাস্হ্য চিকিৎসা সেবার আগেই নিশ্চিত করতে হবে;

‘এ বেয়াদব বখাটে ইঁচড়ে পাকা ছুঁচো
সন্তানের ভরণপোষণ হতে সকল দায়-দায়িত্ব একান্ত আমার আপনার। এ বখাটে বোঝা হলে, একান্তই আপনার হবে। প্রতিবেশি, সমাজ, রাষ্ট্রের বোঝা হতে দেবোনা।’

ব্যত্যয়ে আপনার আমার সকল স্হাবর-অস্হাবর সম্পদ বিক্রি করে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন। স্হাবর-অস্হাবর সম্পদ না থাকলে রাষ্ট্র ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করে গতর খাটিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন।

-রাষ্ট্র কার? আমার আপনার সবার। এ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা সমুদয় টাকা সকল জনগণের। আমার টাকায় বাইনচোদ আপনি -বেধড়ক টেস্টোস্টোরন ডোপামিন হরমোনের মাত্রাধিক অপব্যয় করে বোধহীন বেধড়ক মানববোমা পশুমানব তৈরি
করে আমাদের পশ্চাৎদেশে গুঁতো দিয়ে আপনার দুর্নিমিত্ত সামন্ত শক্তি প্রদর্শন করবেন,--তা একটি সভ্য সমাজ, রাষ্ট্রের বৃহৎ কল্যাণে আর মেনে নেয়া যায় না।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ
মেইল:[email protected]

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে