ননাশের অনুপ্রেরণায় সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠলেন সুমাইয়া

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২২, ১৭:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আলফি শাহরীন

সংসারের দায়িত্ব শুধু পুরুষেরই নয়। নারীও এখন ধরতে জানে সংসারের হাল। নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি ঘরের বাইরেও নিজের পরিচয় গড়ে নিতে পারে। তারই এক উদাহরণ তামান্না রহমান সুমাইয়া। 

তামান্না রহমান সুমাইয়া একজন গৃহিণী। গৃহিণী হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। ৬ বছর ধরে সংসার জীবন সামলে আসছেন। এক কন্যা সন্তানের জননী তিনি। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বেশ আগ্রহ থাকলেও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। 

সুমাইয়া সব সময় চেয়েছেন নিজের পরিচয় গড়ে তোলার। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার। তিনি প্রমাণ করে দিতে চেয়েছেন নারীরা শুধু ঘরই নয়, বাইরেও নিজের পরিচয় গড়ে নিতে পারে। 

নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে সুমাইয়া ঠিক করলেন অনলাইন ব্যবসা করার। কিন্তু তিনি ব্যাতিক্রম কিছু নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। যেহেতু দর্জি অথবা টেইলরিংয়ের কাজ সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা ছিল, তাই তিনি এই কাজকে অনলাইনের মাধ্যমে শুরু করার চিন্তা ভাবনা করেন। সচরাচর এমনটা খুব কমই দেখা যায়।  

তার এই সংকল্পের জেরেই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথচলা শুরু। বর্তমানে সুমাইয়া টেইলরিং নিয়ে অনলাইনে কাজ করছেন। এবং Tailoring House From Savar দিয়ে তার অনলাইন পেইজের যাত্রা শুরু।

সুমিয়াইয়া বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, তার সংগ্রামের কথা। তিনি বলেন ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করবো। কারো উপর নিরভরশীল হবো না। অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটিয়েছি বহুকাল। আর এই অভাব অনটনই আমাকে করে তুলেছে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। অভাব অনটনের সেই গন্ডি থেকে নিজেকে বের করে আনতে চেয়েছি। সেজন্যই টেইলারিং নিয়ে কাজ শুরু করি। 

শাশুড়ির মেশিন দিয়েই সেলাই শেখার কাজ শেখা শুরু। যা শিখেছি একাই শিখেছি, নিজের যোগ্যতায়। অনেকের কাছেই শিখতে চেয়েছি। কিন্তু টাকা দিয়ে শিখিনি বলে গুরুত্ব দিয়ে শেখাতো না। তাই নিজেই নিজের বুদ্ধি এবং বেধা দিয়ে কাজ করতাম। কোথাও বেড়াতে গেলে কারো সুন্দর জামা দেখলে তাকিয়ে থাকতাম। তার জামাটার ডিজাইন অবজার্ভ করতাম। বাসায় এসে আবার সেটা তৈরি করার চেষ্টা করতাম। এভাবেই আমার টেইলরিংয়ের কাজ শেখ।

আলহামদুলিল্লাহ সব বাধা পেরিয়ে আমি আমার এই কাজকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমি নিজেই অনেক নারীকে ফ্রিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। 

আমার এই সফলতার পেছনে আমি সবচেয়ে বেশি পেয়েছি আমার  শশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির সমর্থন। এছাড়া আমার স্বামী ও শাশুড়ি সবসময় আমার পাশে ছিলেন। তাদের সাহায্যে গড়ে ওঠে আমার এই টেইলরিং হাউজ। 

আমাকে সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমার স্বামীর বড়বোন। তার অবদান আমি কখনোই ভুলবো না। আপুর অনুপ্রেরণা না পেলে আমি হয়তো হোম ডেলিভারি সার্ভিসটাও চালু করতে পারতাম না। প্রতিনিয়ত সাহস যুগিয়েছেন আমার স্বামী। সারাদিন বাইরে কাজ শেষে ফিরে বিকেলে আমাকে নিয়ে বের হতেন হোম ডেলিভারির কাজে। মাঝে মাঝে পায়ে হেঁটেও অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি দুজনে। তার সাহসের জোরেই আজ আমি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পেরেছি। 

সুমাইয়া জানান ব্যবসার শুরুর দিকে কম মুজুরিতেও অনেক ভালো ডিজাইনের ড্রেস বানিয়ে দিতেন তিনি। হাল না ছাড়া মেয়ে সুমাইয়া। অক্লান্ত পরিশ্রম তাকে করে তুলেছে আত্মনির্ভরশীল। 

একটা সময় কাজের জন্য হাহাকার করতেন সুমাইয়া। আর এখন কাজ কমানোর জন্য হাহাকার করতে হয় তাকে। ১২ মাস কাজ থাকে তার। এমনকি প্রতি সাপ্তাহে ১০-২০ সেট করেও জামার অর্ডার কমপ্লিট করে থাকেন সুমাইয়া। 

এতো অল্প সময়ে কাস্টমারদের কাছ থেকে এতো ভালোবাসা পাবেন কোনো দিন ভেবে উঠতে পারেননি সুমাইয়া। সময় মত কাস্টমাদের ড্রেস ডেলিভারি দেন বলে কাস্টমাররা তাকে খুব পছন্দ করেন। 

সুমাইয়া বলেন, যেহেতু আমি সাভার থাকি, তাই শুরু থেকেই ইচ্ছে ছিল যে শুধু  সাভার নয়, সাভারের বাইরে পুরো দেশ বিদেশের মানুষের কাছে আমার সার্ভিস পৌঁছে দেয়ার। আলহামদুলিল্লাহ আমি পেরেছি সবার কাছে আমার Tailoring House From savar পৌঁছে দিতে।

বাংলাদেশ জার্নালকে সুমাইয়া জানান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, তার এই অনলাইন উদ্যোগকে দেশের সবচেয়ে উচ্চমানের অনলাইন টেইলর প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা। প্রতিটি জেলায় গড়ে উঠবে তার এই টেইলরিং হাউজ। সামনে ঈদ উল আজহা। তাই এই সময়টা অনেক ব্যবস্তায় পার করছেন সুমাইয়া। 

সুমাইয়া মনে করেন প্রতিটি নারীর প্রয়োজন স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এবং নিজের পরিচয় তৈরি করার। নারীরা এগিয়ে যাক সেই দোয়া আর প্রতাশ্যা করেন সুমাইয়া। 

বাংলাদেশ জার্নাল/এএস/আরকে