ঢাকা, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

শাহজাহানপুরে টিপু ও প্রীতি হত্যায় গ্রেপ্তার আরো ৫

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪১

শাহজাহানপুরে টিপু ও প্রীতি হত্যায় গ্রেপ্তার আরো ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও শিক্ষার্থী সামিয়া আফরান প্রীতিকে গুলি করে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে। মোটরসাইকেলচালক মোল্লা শামীমসহ আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোটরসাইকেল চালক শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীম (৩৫), তৌফিক হাসান ওরফে বাবু (৩৪), সুমন হোসেন (৩৫), এহতোশাম উদ্দিন চৌধুরী অপু (৩৭) ও শরিফুল ইসলাম হৃদয় (২৭)।

পুলিশ জানায়, মোল্লা শামীম বেনাপোল হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণ গোরান থেকে শরিফুল ইসলাম ওরফে হৃদয়কে টিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮রাউন্ড গুলি ও ৩টি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুর তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দক্ষিণ গোরান থেকে জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, এই মামলাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল, দুটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে এই মোটরসাইকেল ও অস্ত্র টিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথমেই মূল শুটার আকাশকে গ্রেপ্তার করেছি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ একে একে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় আগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হারুন অর রশীদ বলেন, মোল্লা শামীম ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেছি।

হত্যার নির্দেশদাতা জিসান ও মানিক এবং মুসা পরিকল্পনাকারী জানিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিক। আর হত্যা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা করেন সুমন সিকদার মুসা ওরফে শুটার মুসা। বোচা বাবু হত্যার পর টিপুর সঙ্গে মুসার একটা দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই মুসা এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরিকলাপনা করে শামীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আমরা মুসাকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় এরইমধ্যে ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছি। তার উদ্দেশ্য ছিল টিপুকে দুনিয়ে থেকে সরিয়ে দেয়া। জিসান ও মানিক বিদেশ বসে এই হত্যার সঙ্গে যোগ দিয়ে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চেয়েছে। তারা মূলত জানান দিতে চেয়েছে যে তারা এখনও রয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

জব্দ করা অস্ত্র টিপু হত্যায় ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আকাশ জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটিই আমরা উদ্ধার করেছি। এই হত্যার ঘটনায় জিসান ও মানিককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

গত ২৪ মার্চ রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম টিপুকে এজিবি কলোনি থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে গুলি করা হয়। এ সময় পাশে থাকা রিকশা আরোহী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও রিকশা আরোধী প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত