ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

যেভাবে স্বাবলম্বী বগুড়ার শারমিন

  আলফি শাহরীন

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৫১  
আপডেট :
 ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৪২

যেভাবে স্বাবলম্বী বগুড়ার শারমিন
শারমিন সুমনা। নিজস্ব ছবি
আলফি শাহরীন

থেমে নেই নারী সমাজ। আজকের নারীরা নেই কোনো অংশে পিছিয়ে। তারা আজ অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে বিশ্ব জয় করছে। শুধু সংসার নয়, সামলাচ্ছে বাইরের কাজও। পুরুষের পাশাপাশি আজ তারাও ধরছে সংসারের হাল। আজ তারা হয়ে উঠছে স্বাবলম্বী। গড়ে তুলছে নিজেদের পরিচয়। তেমনি একজন সাহসী ও স্বাবলম্বী নারী শারমিন সুমনা।

বাংলাদেশ জার্নালকে শারমিন জানান তার স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার গল্প।

বগুড়ায় একটি প্রাইভেট হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, বিউটি পার্লার ও অনলাইন বিজনেসসহ ৪টি ব্যবসা দেখাশুনা করছেন শারমিন। একজন নারী হয়ে ৪টি ব্যবসা এক সাথে সামলানো মোটেও সহজ কথা নয়। প্রয়োজন সাহসিকতার। আর সেই সাহসিকতা দেখিয়েছেন শারমিন।

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আইসিটির টিচার হিসেবে জয়েন করেছিলেন শারমিন। কিন্তু বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় জব ছেড়ে দিয়ে পারিবারিক ব্যবসা দেখার জন্য বগুড়ায় ফিরে আসেন।

শারমিন জানান ‘লাইফ কেয়ার’ নামে বগুড়ার প্রাইভেট হাসপাতালটা আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাবা অসুস্থ হয় হয়ে পড়লে তা আমাকে দেখাশুনা করতে হয়। সেই থেকে ব্যবসা জগতে আমার যাত্রা শুরু। আমার বাবার হাতেই মূলত আমার ব্যবসায় হাতেখড়ি।

বাবার ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি নিজের পরিচয়টাও গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন শারমিন। তিনি বলেন, চিন্তা করলাম বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাকে শুধু নিজে পরিচালিত করছি; কিন্তু নিজে কষ্ট করে নিজের কোনো পরিচয় বের করতে পারিনি। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৮ সালে নিজে কিছু করার উদ্দেশ্যে ব্যবসা শুরু করি।

এরপর শুরু হল আমার পথযাত্রা। আমার নিজের উদ্যোগে শুরু করা বিজনেস হচ্ছে সাদ ফ্যাশন হাউস। যা আমার ছেলের নামে ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুরু করেছিলাম।

শুরুটা হয়েছিলো মাত্র সাত হাজার টাকা দিয়ে। কিছু ড্রেস পাইকারি এনে বাসা থেকেই কাজ শুরু করি। শুরুতে বাসা থেকেই ভালো বিক্রি হচ্ছিলো। নিজেদের মধ্যেই অনেকে ড্রেস নিত। কারন আমি খুব স্বল্প লাভে ড্রেস বিক্রি করতাম। এরপর যখন দেখলাম রেসপন্স ভালো তখন একটা সমিতি থেকে লোন নেই এবং আমার আম্মু আমাকে কিছু টাকা দেন। তা দিয়েই আমি একটি শোরুম দিয়েছিলাম। সেখানে আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছিলাম।

কিন্তু ২০১৯ সালটা ছিল আমার জন্য খুব কঠিন সময়। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে আমার শোরুমে চুরি হলো। প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। তারপর স্বামীর সহায়তায় আবার শুরু করি।

২০২০ সালে যখন করোনা শুরু হয়ে গেল। আরও একটি ধাক্কা। চারিদিকে লকডাউনে ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল। এরপর ২০২০ এর শেষের দিকে শোরুম বন্ধ করে দিয়ে অনলাইনে শুরু করলাম। এরপর থেকে আমার সাদ ফ্যাশন হাউস এখন পর্যন্ত অনলাইনে আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো চলছে। শুধু তাই নয়, এটার পাশাপাশি আমি একটি রেস্টুরেন্ট ও বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করি।

শারমিন বলেন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আমি ও আমার স্বামী দু'জনে মিলে শুরু করি। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছন্দা'স মেকওভার নামে বিউটি পার্লার শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ্ সব কিছু একসাথে সামলে নিয়েছি। আমার স্বামী সর্বদা ছিলেন পাশে।

সত্যি বলতে আমার তেমন বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। কারণ আমার পরিবার আমাকে সবসময় সাপোর্ট করেছে। আর আমার সবথেকে বড় সাপোর্ট ছিল আমার স্বামী। বিয়ের পর একটা মেয়ে যখন নিজে কিছু করতে চায় তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু আমার বেলায় তা কখনোই হয়নি। বাবা মারা যাবার পর মা ছিল সবথেকে বড় সাপোর্ট। বিয়ের পর মায়ের পাশাপাশি শাশুড়ি মা, শ্বশুন, স্বামী, ননদ, দেবর সবাই আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। এখনো করছে। একটা মেয়ের এগিয়ে যেতে সবথেকে বড় যে বাধা সেটা না থাকলে বাইরে তাকে আটকাতে পারে না।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথা বাংলাদেশ জার্নালকে জানালেন শারমিন। তিনি বলেন, নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অসহায়, দুস্থ, ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আর এভাবে দেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।

ভবিষ্যৎ নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দ্যেশে শারমিন বলেন, আপনারা যারা নিজেকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাদের অবশ্যই বলবো যে জীবনে অনেক বাধা আসবে সেটা দেখে নিজেকে থামিয়ে দেয়া যাবে না। সকল বাধা সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করলে একদিন সফলতা অবশ্যই আসবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএস/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত