২ কাস্টমস কর্মকর্তার জালিয়াতির অভিযোগ নিষ্পত্তির আদেশ

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ছবি।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চালান (ইনভয়েস) জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণের আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে আদেশের অনুলিপি পাওয়ার একমাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানির নিয়ে গত ২১ নভেম্বর এ আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

ওই রিটের বিষয়ে দেওয়া আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে বলে রোববার নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন।

দুই কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিবলী মাহফুজ হিমেল (বর্তমানে সিলেটে কর্মরত)।

এর আগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে গত ২৪ অক্টোবর এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছিলেন প্রসাধনী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বায়োজিনের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহিদুল হক। ওই আবেদনের বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আওলাদ হোসেন।

আইনজীবী শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যান গত ২৮ নভেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশের অনুলিপি গ্রহণ করেছেন। এখন আবেদনটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছি। দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রিট আবেদন থেকে জানা গেছে, প্রসাধনী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বায়োজিন পোল্যান্ড থেকে প্রসাধনসামগ্রী আমদানির জন্য গত ১২ জুন এলসি খোলেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট তার্কিশ এয়ারলাইন্সে পোল্যান্ড থেকে ‘হোয়াইট হোয়াইটনিং ফেসওয়াশ জেল’ ঢাকা কাস্টম হাউজে আসে।

২২ আগস্ট পণ্য ছাড় করাতে এন আহমেদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামের সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) অ্যাজেন্টের মাধ্যমে বিল অব অ্যান্ট্রি দাখিল করা হয়। পরে ৩১ আগস্ট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৭৯০ টাকা আমদানি পণ্যের শুল্কও পরিশোধ করেন তিনি।

১ সেপ্টেম্বর পণ্য খালাস করতে ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’র কর্মকর্তা শিবলী মাহফুজ হিমেলের কাছে গিয়ে জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানের বিন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্টের এআইএন (অ্যাজেন্ট আইডেনটিফিকেশন নাম্বার) লক করা হয়েছে।

আমদানিকারক জাহিদুল হক কর্মকর্তা হিমেলের কাছে বিন লকের বিষয়ে জানতে চাইলে হিমেল একটি বেগুনি রঙের প্রিন্ট করা চালান দেখান। যাতে পণ্যের দাম লেখা ছিল ৮৮৭৪১ দশমিক ২৭ ইউরো। কিন্তু সেই চালানে সই ও সিল ছিল না। এ কারণে বিন লক করা হয়েছে বলে জানান সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিমেল।

তখন জাহিদুল হক মূল চালান (ইনভয়েস) দেখান। যেটিতে পণ্যের দাম উল্লেখ রয়েছে ২৫০৮ দশমিক ৮০ ইউরো। কিন্তু কর্মকর্তা হিমেল আমদানি করা পণ্য ভুয়া চালান অনুযায়ী খালাস অথবা এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এর প্রতিবাদ করলে ব্যবসায়ী জাহিদুল হকের নামে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা শুল্কফাঁকির মামলা দেয়া হয়। এরপর জাল চালান নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন জাহিদুল হক।

২৪ অক্টোবর হিমেল ও ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে এনিবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে আবেদন করেন জাহিদুল হক। এতেও সাড়া না পাওয়ায় ১ নভেম্বর জাহিদুল হক এনবিআর চেয়ারম্যানকে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠান। তাতেও সাড়া না মিললে ১৩ নভেম্বর রিট করেন তিনি। এরপর ২১ নভেম্বর এ আদেশ দেন উচ্চ আদালত। 

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ