ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ আপডেট : ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ছাত্রীকে বিয়ে করা সেই মুশতাক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৬:২১

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ছাত্রীকে বিয়ে করা সেই মুশতাক
খন্দকার মুশতাক আহমেদ । ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। এ সময় মুশতাকের সঙ্গে আদালতে সেই ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীন শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মকলেছুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিন মুশতাক ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার এ মামলায় স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর মুশতাক ও সেই ছাত্রী চলে যান।

এ মামলায় এর আগে গত ৪ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের বেঞ্চ মুশতাকের ছয় মাসের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আত্মসমর্পণ করে ফের জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত শুনানি শেষে তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার অপর আসামি ওই কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

গত ১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। এরপর গুলশান থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে মতিঝিল আইডিয়ালের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আসামি মুশতাক আহমেদ বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে আসতেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে নিতেন এবং খোঁজ-খবর নেওয়ার নামে তাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাতেন। কিছুদিন পর মুশতাক তাকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ঢাকা ছাড়া করবেন বলে হুমকি দেন।

আরও পড়ুন: আইডিয়ালের সীমানায় যেতে পারবেন না খন্দকার মুশতাক

মুশতাকের এরকম আচরণ সম্পর্কে ভুক্তভোগী তার কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। অধ্যক্ষ ব্যবস্থা করছি বলে মুশতাককে তার রুমে ডেকে নেন। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকেও ক্লাস থেকে রুমে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আসামিকে সময় ও সঙ্গ দিতে বলেন।

বাদীর অভিযোগ, এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে তিনি কোনও সহযোগিতা করেননি বরং মুশতাককে অনৈতিক সাহায্য করে আসতেন। উপায় না পেয়ে গত ১২ জুন মেয়েকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলে মুশতাক তার লোকজন দিয়ে ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এরপর তিনি জানতে পারেন, আসামি ভুক্তভোগীকে একেক দিন একেক স্থানে রেখে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছেন এবং যৌন নিপীড়ন করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত