ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫১

প্রিন্ট

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুরুজ্জামানের শেষ চাওয়া স্বীকৃতি

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুরুজ্জামানের শেষ চাওয়া স্বীকৃতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল তৎকালীন পূর্ব বাংলার ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেই লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। বহুভাষায়, বহুভাবে দেশে দেশে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছিলো। বাংলার মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন তারা।

স্বাধীনতার দাবিতে বিশ্বব্যাপি জনমত তৈরি করেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। ব্রিটেনে বাঙালিরা বাংলাদেশের মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা বাঙালিদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে লবিং করেন।

এমনই একজন সুরুজ্জামান চৌধুরী। ১৯৬৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের সাথে লবিং করা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা এবং মুক্তিবাহিনী ও শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা- সবই করেছেন ব্রিটেনের বাঙালিরা। যাতে অংশ নিয়েছিলেন সুরুজ্জামান চৌধুরীও।

বাংলাদেশ জার্নালকে তিনি বলেন, আমি ১৯৬৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছি। প্রবাসে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে গৌরববোধ করি। ১৯৭১ সালে ব্রিটেনে বাঙালিরা সংখ্যায় খুব বেশি ছিলো না। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি লন্ডন, লুটন, বার্মিংহাম এবং ম্যানচেষ্টারের নটিংহামে বসবাস করতেন। আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ঐক্যবদ্ধ হই। এবং সভা সমাবেশ করে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করি। এমনকি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রিটেনে আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানিদের মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের সাথে লবিং করা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা এবং মুক্তিবাহিনী ও শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা-এক কথায় প্রবাসে থেকে যা করা যায় তার সবই করার চেষ্টা করেছি আমরা। এসব কাজে নেতৃত্ব দেয়া উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিলো স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটি, বাংলাদেশ উইমেন্স এসোসিয়েশন, রিজিওনাল অ্যাকশন কমিটি, ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মীদের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাকশন বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা।

সুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি নটিংহাম বাংলাদেশ প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ অ্যাকশন কমিনিটির সদস্য ছিলাম। লেস্টার টাউন হলে স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে সমাবেশ করেছি। আমাদের স্লোগান ছিল রিকোগনাইজ রিকোগনাইজ-- বাংলাদেশ বাংলাদেশ ! নট এ পেনি নট এ গান এহিয়া ভুট্ট টিক্কা খাঁন!! লং লিভ লং লিভ- শেখ মুজিব শেখ মুজিব !! ভিকটরি ভিকটরি - মুক্তি ফোজ!

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমরা টাকা কালেকশন করতাম দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য। আমি মিটিং-মিছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষে জনমত সৃষ্টিতে মাসের পর মাস কাজ করেছি। আজ আমি গর্বিত একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমার স্ত্রী তিন সন্তান নিয়ে লন্ডনে বেশ ভালোই আছি। বর্তমানে আমার বয়স ৬৮, অবসরে আছি। ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা শেষে কাজ করছেন। আমার বাংলাদেশ প্রেম দেখে আমার ছেলে মেয়েরা গর্বিত। প্রতি বছর দেশে যাই, আনন্দ লাগে দেশের উন্নয়ন আর পরিবর্তন দেখে।

এই শেষ বয়সে এসে একটাই চাওয়া সুরুজ্জামানের। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের কাছ থেকে একজন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত