ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৫

প্রিন্ট

সাক্ষাৎকারে ইশরাক হোসেন

স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য

স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য
কিরণ শেখ

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটির শেষ নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ইশরাকের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ জার্নাল।

ইশরাক বলেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা, মাদক, ট্রাফিক জ্যাম, যানজট এবং পানির সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবেন। আর দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল কাউন্সিলরদেরকে নিয়ে নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করে গড়ে তুলবেন। বাংলাদেশ জার্নালের পক্ষে ইশরাক হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কিরণ শেখ

বাংলাদেশ জার্নাল: জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে আপনি সম্পৃক্ত হলেন কীভাবে? জাতীয়তাবাদী রাজনীতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জার্নাল পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?

ইশরাক হোসেন: আমি তো জাতীয়তাবাদী দলের পরিবারের একজন সন্তান। তাই আমার জন্মের পর থেকেই এই দলের সাথে সম্পৃক্তা। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। আমাদের বাসায় সর্বক্ষণ উনাদের প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা হতো। এরপর কিশোর বয়সে আমার আদর্শিক নেতা তারেক রহমানকে আমি অনুসরণ করা শুরু করি। ওই সময় থেকে আমি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডগুলো গভীরভাবে পর‌্যবেক্ষণ করা শুরু করি। সুতরাং এই দলের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আর জীবনের শেষ নিশ্বাস পর‌্যন্ত এই দলের একজন কর্মী হিসেবে থাকতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

ইশরাক হোসেন: আমরা একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আর এই বৃহত্তর আন্দোলন হলো নাগরিকদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। আমরা যদি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ছাড় দেই, তাহলে তো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। আর আমরা যেহেতু গণতান্ত্রিক দল, সেজন্য গণতান্ত্রিক ধারাটাও আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনে যাওয়ার ফলে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডগুলো করা যাচ্ছে। নতুন নেতাকর্মী ও নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা পরবতির্তে ঢাকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনার বাবা প্রয়াত বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটির শেষ নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। আসন্ন সিটি নির্বাচনে যদি আপনি মেয়র পদে নির্বাচিত হন তাহলে আপনার বাবার আদর্শকে ধারণ করে তার কোন কোন পদক্ষেপ ও কাজগুলোকে অনুসরণ করে নাগরিকদের জন্য কাজ করবেন?

ইশরাক হোসেন: আমার বাবার আদর্শ আমি আমার বুকে মধ্যে ধারণ করি। বাবার বহু গুণাবলী মধ্যে আমাকে যেটা আকৃষ্ট করে, সেটা হলো- উনি একজন জনমানুষের নেতা ছিলেন। বিশেষ করে দল-মত নির্বিশেষে উনি দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং যেভাবে পেরেছেন তাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। এর বাইরে তিনি যখন মেয়র পদে নির্বাচিত হন, তখন দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সব কাউন্সিলরদেরকে নিয়ে নাগরিকদের জন্য কাজ করেছেন। আমি তার এসব আদর্শ ধরে রেখে কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: নির্বাচিত হলে দক্ষিণের নাগরিকদের সমস্যা দূর করতে আপনি কীভাবে কাজ করবেন?

ইশরাক হোসেন: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আলাদাভাবে কোনো সমস্যা নেই। তবে হ্যাঁ, এলাকা ভিত্তিক সমস্যা রয়েছে। এজন্য আমাদেরকে ওয়ার্ডভিত্তিক এগোতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে ‘জলাবদ্ধতা, মাদক, ট্রাফিক জ্যাম, বিশুদ্ধ পানি নেই’-এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করবো। আর সম্পূর্ণ ঢাকার যে সমস্যা রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- ডেঙ্গু ও বায়ুদূষণ, এগুলোকে আলাদা করা যাচ্ছে না। আর আমি বিশ্বাস করি, এবার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো। তাই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা নির্বাচিত হলে যানজটসহ ঢাকার নাগরিকদের সকল সমস্যার সমাধার করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: সিটি নির্বাচনে আপনার মূল স্লোগান কী হবে?

ইশরাক হোসেন: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া। আর গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে জাতি আজ সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে। কারণ জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই আমরা সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উপরে আমাদের কোনো আস্থা নেই। আর কোনো দলীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও নাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনি বলছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উপরে আপনাদের কোনো আস্থা নেই এবং দলীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ারও সম্ভাবনা নাই। তাহলে আপনারা সিটি নির্বাচনে কেন অংশগ্রহণ করছেন?

ইশরাক হোসেন: নাগরিকদের ভোটাধিকার ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম যাতে আমরা ত্বরান্বিত করতে পারি, সেজন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আর আমরা এজন্য শত মামলা ও হামলাকে উপেক্ষা করে এই নির্বাচনের মাঠে থাকবো এবং নির্বাচনের শেষ পর‌্যন্ত থাকবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনারা বলছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশন নেই। এবিষয়ে কি ইসিকে আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বা দেবেন কী?

ইশরাক হোসেন: আমাদের একজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরেকজন হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ দুটি বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ ইতোমধ্যে ইসিকে দিয়েছি। আমরা প্রতিদিনই কিছু কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এগুলো আমরা তাৎক্ষণিক লিখিত বা মৌখিকভাবে কমিশনকে জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ জার্নাল: এখন পর‌্যন্ত কি নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু রয়েছে, এবিষয়ে আপনার মতামত কী?

ইশরাক হোসেন: নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নেই। এটা তো দৃশ্যমান। কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আর এটা অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক। এমনকি আমাদের কাউন্সিলরদেরকে প্রতিনিয়তই হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আমাদের কাউন্সিলরদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে আমরা কোনো বাধা বিপত্তি মানবো না। জীবন দিয়ে হলেও নির্বাচনের শেষ পর‌্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো।

বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

ইশরাক হোসেন: আপনাকেও এবং বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত