ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ৫৯ মিনিট আগে

প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে ফাঁসাতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৩

প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে ফাঁসাতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা
ছবি- সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাট জেলার মোংলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহজে জিততে প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ছক কষা হয়। ছক অনুযায়ী ঢাকার সাভারের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাভাড়া নিয়ে হত্যা করা হয় ওই নারীকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই’র প্রধান কার্যালয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে বিস্তারিত জানিয়েছে পিবিআই। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআইর ঢাকা জেলার পুলিশ।

পিবিআই প্রধান বলেন, মোংলা থানার ৬ নং চিলা ইউনিয়নের নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন হালিম হাওলাদার, বেলাল সরদার এবং এশারাত। এই ওয়ার্ডে আগের মেয়াদে সদস্য ছিলেন হালিম হাওলাদার। তার প্রতিবেশী বেলাল এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে বর্তমান মেম্বার হালিম হাওলাদার হেরে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। তাই বেলালকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেন হালিম। এরপর তিনি পূর্বপরিচিত পিরোজপুরের জামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলালকে ফাঁসানোর জন্য একটি খুনের পরিকল্পনা করেন তারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকায় জামাল হাওলাদারের সঙ্গে হালিমের চুক্তি হয়। নগদ ৫ হাজার টাকাও দেন তাকে।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, খুনের জন্য তাদের পছন্দ ছিল এমন কেউ, যার মৃত্যুতে কোনো চাঞ্চল্য হবে না বা কেউ তদবির করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে একটি অডিও ক্লিপ শোনানো হয়। ওই ক্লিপে বলতে শোনা যায়, ‘বেলাল যদি গ্রেপ্তার না হয়, প্রথমে একজন রিকশাওয়ালা মারব, তাতেও না হলে আরেকজন মহিলা মারব’।

ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, জামাল হাওলাদার ঢাকার সাভারের মশিউর রহমান মিলন নামে এক কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার কাছে খুন করার জন্য একজন ভিকটিম চায় জামাল। মশিউর তাকে বলেন, একজন নারী আছে, তাকে দেয়া যাবে।

এরপর কথা মতো জামাল সাভারে গিয়ে মশিউরের দেয়া পারুল বেগম নামে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। পারুল বেগম সাভারে একা থাকতেন। শিশুদের পোশাক ফেরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনিতে। তিনি পারুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার কথা বলে সাভারের নামা বাজার এলাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন। ওইদিন রাতেই জামাল পারুলকে খুন করে পালিয়ে যায়। পরদিন বাসা থেকে কেউ বের না হওয়ায় ওই বাড়ির কেয়ারটেকার জানালা খুলে ওই নারীর লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

ওই বাসা থেকে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র উদ্ধার করা হয়। যে পরিচয়পত্রটি ইউপি সদস্য প্রার্থী বেলাল সরদারের। ওই ঘটনায় সাভার থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত দায়িত্ব পায়। জাতীয় পরিচয় পত্র ধরে বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিবিআই।

বনজ কুমার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্র ধরে বেলালকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার কাছে জানতে চাই- তার কোনও শত্রু আছে কিনা। বেলাল জানান, নির্বাচনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বি হালিম ও এশারাতের নাম বলেন। এছাড়া আর কোনও শত্রু নাই।

যে কারণে খুন হন পারুল

পিবিআই প্রধান বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে এক পর্যায়ে পিবিআই জানতে পারে হালিমের সঙ্গে ঢাকায় মশিউরের ঘনঘন যোগাযোগ হয়। এই সূত্র ধরে জামাল হাওলাদারকে শনাক্ত করে পিবিআই। তার ছবি দেখালে সাভারের ওই বাসার বাসিন্দারা জামালকে শনাক্ত করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামালের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মশিউর রহমান মিলনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত