ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে

গ্রিল কেটে ইবির শিক্ষক ডরমেটরিতে চুরি

  ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২২, ২০:২৫

গ্রিল কেটে ইবির শিক্ষক ডরমেটরিতে চুরি
ছবি: প্রতিনিধি
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক ডরমেটরিতে গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। যমুনা ডরমেটরি ভবনের ১ম তলার ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এইচ.এন.এম এরশাদউল্লাহর কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চোরেরা ভবনের পেছনের বেলকুনির গ্রিল কেটে ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কক্ষের ভেতরে সবকিছু তছনছ করে ফেলে। রুমের ট্যাপগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় পুরো রুম পানিতে ভেসে গেছে। ওই কক্ষে বসবাসরত শিক্ষক ড. এইচ.এন.এম এরশাদউল্লাহ ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসের বাহিরে আছেন। ফলে কি কি জিনিসপত্র চুরি হয়েছে তা জানা যায়নি।

চুরির ঘটনায় প্রফেসর ড. এইচ.এন.এম এরশাদউল্লাহ বলেন, আমি গতকাল (৫ জুলাই) জেনেছি আমার বাসায় চুরি হয়েছে। ছুটিতে বাহিরে থাকায় কি কি চুরি হয়েছে তা এখনো জানতে পারিনি। শুনলাম রুমের ভেতরের সব জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। ক্ষতি অবশ্যই কিছু না কিছু হয়েছে। আমরা তো ভাড়া দিয়ে থাকি। এরকম ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

এর আগে গত ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে দুই চোরকে আটক করে ইবি থানায় সোপর্দ করে সিকিউরিটি গার্ডরা। থানা কর্তৃপক্ষ চোরদের নামে মামলা দেয়ার আগে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়। পরে সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম (দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর) তাদের বয়স কম হওয়ায় মামলা না দিয়ে আর চুরি না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। ধারনা করা হচ্ছে ওই দুই চোরই ছাড়া পাওয়ার পর এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আটককৃতদের নামে মামলা হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রক্টরিয়াল বড়ির ৪ জন এসে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জ সেলিম আরও বলেন, কবে নাগাদ চুরির ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি। গত ৩ জুলাই আটককৃত দুইজন চোরকে আর চুরি না করার শর্তে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা ছাড়িয়ে নেন। সেদিন রাতেই এদের মাধ্যমে এই চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার ধারণা।

এদিকে চুরি হওয়া ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিশ্ববিদ্যালয় সিকিউরিটি ইনচার্জ ও চতুর্থ তলায় সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম থাকেন। তারা সেখানে অবস্থান করা সত্ত্বেও কবে নাগাদ চুরি হয়েছে এ বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এর আগেও ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই চুরির হিড়িক পড়ে। চোররা ধরা পড়লেও তাদের যথাযথ শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে চুরির ঘটনা দিনকে দিন বাড়ছে। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত