ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৬

প্রিন্ট

গত বছরও এক ছাত্রের হাত ভেঙেছিল আবরারের হত্যাকারী অমিত

গত বছরও এক ছাত্রের হাত ভেঙেছিল অমিত
নিহত আবরার ফাহাদ (বামে) ও গ্রেফতার অমিত সাহা (ডানে)
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। বেশ কিছু কারণে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলো অমিত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই বুয়েট শিক্ষার্থীদের। অভিযোগ রয়েছে এর আগেও ১৬ ব্যাচের এক ছাত্রের হাত ভেঙে দিয়েছিলো অমিত সাহা।

তাছাড়া টর্চার সেল খ্যাত ২০১১ নম্বর কক্ষে থাকতো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল এবং প্রত্যয় মুবিন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন অনেকটা ঘোষণা দিয়েই ছাত্রলীগ এ কক্ষটিকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতে একটু ব্যতিক্রম হলেই এ রুমে এসে মারধর করা হতো। তাছাড়া কাউকে পছন্দ না হলেই র‌্যাগিংয়ের নামে চলতো নির্যাতন। নেতৃত্ব দিতো ছাত্রলীগ কর্মীরা। গত বছর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বুয়েট ক্যাম্পাসে আসেন। সে অনুষ্ঠানে যারা অংশ নেননি তাদের মারধর করা হয়। ভেঙে দেয়া হয় এক ছাত্রের হাত। আরেকজন মার খেয়ে ছেড়ে দেয় ক্যাম্পাস।

ভুক্তভোগী এক ছাত্র বলেন, আমরা বলেছিলাম আমরা সাধারণ ছাত্র, আমরা কেন যাবো? গেস্টরুমে ডেকে যারা যারা যায়নি তাদের প্রচুর মারধোর করা হয়েছে। আমি নিজেও ফুয়াদ মুহতাসিনের কাছ থেকে মার খেয়েছি।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১৭ ব্যাচের এক ছাত্রকে জোরপূর্বক সমাবেশে যেতে বাধ্য করে ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা। সমাবেশে যেতে দেরি করলে অমিত তাকে প্রহার করলে হাত ভেঙে যায়। আঘাতে হাত ভাঙলেও তাকে বলতে বাধ্য করা হয়- সিঁড়ি থেকে পড়ে হাত ভেঙেছে।

শেরে বাংলা হল সরেজমিনে পদক্ষিণ করে দেখা যায়, র‌্যাগিংকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে হল প্রভোস্টের নাম্বার দিয়ে ডিজিটাল ব্যানারও টাঙানো পুরো হল প্রাঙ্গণে। শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মিলনস্থল হিসেবে কক্ষটি ব্যবহার করা হতো। প্রায় প্রতি রাতেই সে কক্ষে পার্টি চলতো। মাতাল হয়ে তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যেত। এতে আশপাশের কক্ষের শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা হলেও, ভয়ে কারো কিছুর বলার উপায় ছিলো না।

অধিকাংশ টর্চার সেলকে ছাত্রলীগ ‘পলিটিক্যাল রুম’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত