ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২১, ২২:১৯

প্রিন্ট

‘রাবীন্দ্রিক বিপ্রতীপ’ বেঁচে থাকার নিয়মে বেঁচে আছে

‘রাবীন্দ্রিক বিপ্রতীপ’ বেঁচে থাকার নিয়মে বেঁচে আছে

রাজীব কুমার দাশ

আমাদের অনেক কথিত বুদ্ধিজীবী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সাদরে অনাদরে এখনো সহ্য করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ একেবারেই অপছন্দের তালিকার একজন। অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে সরাসরি বলে বেড়ান, ‘উনি একজন সাম্প্রদায়িক মানসিকতার কবি ছিলেন।’

কিছুদিন আগে একজন বুদ্ধিজীবীও আমাকে খন্ডিত আকারে কয়েকটি রেফারেন্স পাঠিয়েছেন। আমি সময় প্রেক্ষাপট নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে যতোবার ভদ্রলোককে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, ততোবারই ভদ্রলোক নিরবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

রাবীন্দ্রিক ঘরানার মানুষগুলো এখন সমাজে বেমানান। জীবনের কষ্ট, আনন্দ বেদনার গুচ্ছ-গুচ্ছ মিশ্র অনুভূতি বিরহ দহনেও তারা পরিমিতবোধের স্হান হতে তেমন নড়াচড়া করতে দেখা যায় না। তখন মুহূর্ত সময়ের নজরদারি গোপন চোখগুলো তাকে কখনো তাড়া করছে, কখনোও ভীষণ পীড়ন করছে। আকুলিত রাবীন্দ্রিক প্রেয়সীর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে শ্লেষাত্মক মৃদু গর্জন। আত্মীয়-অনাত্নীয় যাতনা সইতে না পেরে রাবীন্দ্রিক ভদ্র বিপ্রতীপ কবি, রবি ঠাকুরের শেষ লেখা- ‘দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে’ কবিতা পাঠ করে বলছেন:

‘দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে এসেছে আমার দ্বারে;

যতবার ভয়ের মুখোশ তার করেছি বিশ্বাস

ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয়।’

প্রেয়সী হুংকারে, হারমোনিয়াম রেওয়াজের গজল রাগের স্কেল পেরিয়ে কবি ফ্রেডরিক নীটশের 'The birth of tragedy' পড়তে বলছেন। পুত্র-কন্যারা এসে যথা নিয়ম করে বলেন, ‘তোমারি চরণে অর্ঘ্য সঁপিয়া বার বার প্রাণ দিয়েছি যাতনা বিজনে।’ অক্ষম আক্রোশের দহনে পুড়ে সক্ষম প্রতিবেশি বলেন, ‘আপনি আমাদের এমন কী বালেষ্টর হরিদাসপাল, জয়নাল হয়েছেন, আমরা কিছু বলতে পারব না? আমরা আপনার কাছে এটা-সেটার আজই বিহিত করতে চাই। কাদাজলে আটকে থাকা সুলভে হরিণ শিকার করতে, অপমানের তীর ধনুক লগুড় মগুড় হাতে বিশ্রি সময়ের সেফুদা ডিপজল হয়ে বলছে-

‘ওই! আমি কী তোমারে নাম ধইরা ‘বউ পাগলা সোনা মিয়া কইছি? তোমার বউরে আমার বউ কইয়া ডাকছি কোনদিন? কেউ কী হুনছে! সামনে দাঁড়াইয়া কইতে পারবো কোনদিন? রাবীন্দ্রিক বিপ্রতীপ এবার থর থর করে কাঁপছে: সেফুদা ডিপজল স্টাইলে আবার ডায়ালগ শুরু: তোমারে কী কোনদিন কুত্তার বাচ্চা কইয়া গালি দিছি? তোমার বাবারে...এবার রাবীন্দ্রিক বিপ্রতীপের বুকে হাপরের টান বেড়ে গেছে। অপমানের তীব্রতা বেড়েছে অনেক বেশি। প্রতিবেশি হয়ে মুদি দোকানি, সময়ের সুযোগ ডিপজল-সেফুদার সাথে তাল মিলিয়ে মন ও মননে সর্বস্ব হারিয়ে হাতে গোনা ‘রাবীন্দ্রিক বিপ্রতীপ’ বেঁচে থাকার নিয়মে এখনো বেঁচে আছে।

লেখকঃ রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত