বীরশ্রেষ্ঠের জন্য স্বর্ণপদক বিক্রি করবে সাঈদ হাফিজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  সাঈদ হাফিজের ফেসবুক ওয়াল থেকে

গত ১০ বছর ধরে একটা বিষয় আমাকে মানসিকভাবে ব্যাপক যন্ত্রণা দিচ্ছে। কিছুতেই আমি এই লজ্জা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। মূল ঘটনাটা ঘটেছিল আজ থেকে ৫১ বছর আগে।

১৯৭১ সালের আজকের এইদিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলাধীন আটুলিয়া গ্রামে (বই-পুস্তকে গোয়ালহাটি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে জায়গাটির নাম আটুলিয়া) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। 

সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে অসম সাহসিক যুদ্ধে তিনি একা শত্রুপক্ষের এতো বিপুল পরিমাণ ক্ষতিসাধন করেন যে, তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী বীর যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলে এবং মাথা ফাটিয়ে ঘিলু ছড়িয়ে দেয়। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে রাস্তার পাশের একটি কচুক্ষেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার ৫১ বছর অতিবাহিত হলেও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ-এর মৃত্যুস্থানে ন্যূনতম একটি স্মৃতিফলকও বসানো হয়নি। এমনকি যেখানে তিনি মারা গিয়েছিলেন সেখানে এখন গরুর গোবর ও ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। 

আমি গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিয়েছি, পরিচিত মহলের সবাইকে অবহিত করেছি। সবাই কথা দিয়েছেন কিন্তু কেউই বীরশ্রেষ্ঠ’র স্মৃতি রক্ষার্থে এগিয়ে আসেননি। তাই কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে, আমি ব্যক্তিগত ভাবে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাচ্ছি। 

এ জন্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 'পল্লী উন্নয়ন ও প্রায়োগিক গবেষণায় বিশেষ অবদান'-এর জন্য আমাকে যে 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক-২০১৮' দিয়েছিলেন সেটা উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে আমার ক্ষুদ্র প্রাপ্তিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  

ফেসবুকে পোস্টকারী সাঈদ হাফিজ

আমার আফসোস মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার জন্ম হয়নি কিন্তু যুদ্ধে স্বজন হারানোর ব্যথা আমারও আছে। তাই নতুন প্রজন্মের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখাকে একান্ত কর্তব্য মনে করি। 

যে বা যারা আমার স্বর্ণপদকটি কিনে বীরশ্রেষ্ঠ’র স্মৃতি রক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করতে চান তাদেরকে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানাচ্ছি, পাশাপাশি এ-কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

[এই পোস্টটি একান্তই ব্যক্তিগত। এতে অন্য কারও দায় নেই]