ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৫৯

প্রিন্ট

পাবনা ৪

উপনির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবি

উপনির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবি
অনলাইন ডেস্ক

পাবনা-৪ উপনির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় দলটি এ দাবি জানায়।

রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভা মনে করে পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে আবার প্রমাণ করেছে যে, এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার যোগ্য নয়। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তাই সভা থেকে এই নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়।

সভায় সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সুপরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

নির্বাচনের আগের রাতে রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখলকারী সরকার যখন করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে, যখন এই সরকারের চরম উদাসীনতায় লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, যখন হাজার মানুষ ভঙুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য প্রাণ হারাচ্ছে, যখন সরকারি দলের লুটেরাদের দূর্নীতির কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে রাষ্ট্রর সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও দূর্নীতির কবলে পড়ে দুঃশাসন সৃষ্টি করেছে, জনগণের আস্থা যখন শূন্যের কোঠায় তখন জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আপষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, বিএনপি’র ধ্বংসের এই সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র বলে সভা অভিহিত করে।

একটি গণতান্ত্রিক, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যে স্বপ্ন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছিলো, যে চেতনা ধারণ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করেছিলো তাকে নস্যাৎ করার একটা অপচেষ্টা বলে সভা মনে করে।

সভা মনে করে, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের স্বীকৃত খুনী আওয়ামী লীগের নেতা খন্দকার মুশতাক এবং তৎকালীন বাকশাল সরকারের মন্ত্রী যারা খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী সভায় যোগ দিয়েছিলেন ২৬ আগস্ট ১৯৭৫ সালে তারা ইনডেমনিটি বিল অনুমোদন করে আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ।

এই আইনের খসড়া তৈরী করে যিনি বাকশালের মন্ত্রীসভার সদস্য ও শেখ মুজিবর রহমানে প্রিয় পাত্র ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতার ৪ বছর কেউ টুঙ্গীপাড়ায় জিয়ারত করতে যায়নি। তৎকালীন স্পীকার ও পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক উকিল হিথরো বিমান বন্দরে বলেছিলেন, দেশ ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেলো। খোন্দকার মোস্তাক মন্ত্রী সভার সদস্য খোন্দকার আসাদুজ্জামান ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেননি। উপরন্ত তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছিলেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।

সভায় গণমাধ্যমের সকল পর্যায়ের কর্মী, সাংবাদিক, সম্পাদকবৃন্দকে জনগণের স্বার্থের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, সুশাসনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশে গণতন্ত্র, পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে।

বিএনপি’র ৩৫ লাখ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে এই সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছে, ৫০০ ওপর নেতা-কর্মীকে গুম করেছে, সহস্রাধিক খুন করছে। সরকার ভয়-ভিতী ও ত্রাস সৃষ্টি করে জাতিকে দমন করার অপচেষ্টা করছে। বিএনপি সংগ্রাম করছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে গণমাধ্যমকে সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সভায় যে কোন ধরনের ইতিহাস বিকৃতিকে রুখে দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় পরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য দলের অঙ্গ সংগঠন সমূহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, জাসাস, মুক্তিযোদ্ধা দল সকল জেলার বিএনপি ও অঙ্গ সমূহ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী কর্মসূচী পালন করবে। একই সঙ্গে সভা, সেমিনার, ওযেবনার, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বিএনপি’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক ও তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব হীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএনপি কোনও ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জনগণের ভালবাসা ও সমর্থনে বিশ্বাসী বিএনপি। কোনও সাজানো মধ্যরাতের ভোট ডাকতি নির্বাচন অথবা ভোটার বিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অতীতে কখনও ক্ষমতায় যায়নি, নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের স্বত:স্ফূর্ত ভোট প্রদানের মধ্য দিয়েই বিএনপি ১৯৭৯, ৯১, ৯৬, ২০০১ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

সভায় বলা হয়, আওয়ামী সরকার বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় নিয়েছে, আতাঁত করেছে স্বৈরচারের সঙ্গে, অবৈধ মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সংগে চক্রান্ত করে ২০০৮ সালে ক্ষমতা দখল করেছে। জাতীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংশ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগনের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ, করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ, অর্থনীতিকে দুর্নীতির গ্রাস থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ এবং নিজেদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলায় ব্যস্ত রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়ায় হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগকে জনগণ নয় রাষ্ট্র যন্ত্রের ওপর ভর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।

একথা আওয়ামী লীগের তথ্য মন্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদককে বার বার মনে করিয়ে দিতে হয়। নিজেদের বিবেক কে প্রশ্ন করে দেখার জন্য সভায় আহ্বান জানানো হয়। এই সব অলীক, কল্প কাহিনী তৈরী না করে নিজেদের সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরেরও আহ্বান জানানো সভা থেকে।

সভায় আরো বলা হয়, করোনার ভ্যাকসিন এখনও চুড়ান্তভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কতৃক অনুমোদন পায়নি। বেশ কয়েকটি দেশে উদ্ভাবন ও পরীক্ষার কাজ চলছে। বিএনপি মনে করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে কোনও রকম রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, ও বানিজ্যিক স্বার্থও যেন সাধারণ মানুষের ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে কোন ব্যাঘাত না ঘটায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয় এবং জনগণ যেন কোনো ব্যয় ব্যতিরেকেই এই ভ্যাকসিন পেতে পারেন তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, ব্যিরিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত