ঢাকা, রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৯

প্রিন্ট

বৃহত্তর জোট গঠনে এগুচ্ছে বিএনপি

বৃহত্তর জোট গঠনে এগুচ্ছে বিএনপি
বামদলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের পথে বিএনপি। ছবি: প্রতীকী

কিরণ শেখ

সরকারের সমালোচনায় মুখর থাকা দেশের বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠন করতে যাচ্ছে অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে বিশেষ দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকটি বামদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। জোটের রূপরেখা নির্ধারণে শিগগিরই তারা বৈঠকে বসতে পারেন বলেও জানা গেছে।

তবে নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান ২০ দলীয় জোটের অন্তর্ভূক্ত জামায়াতে ইসলামীকে বৃহত্তর জোটে রাখা না রাখা নিয়ে বহুমুখী আলোচনা হতে পারে। বর্তমান জোটের দুই-একটি ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক দলই জামায়াতকে বৃহত্তর জোটের অন্তর্ভূক্ত না করার পক্ষে। সে কারণে বৃহত্তর জোট গঠনের আগে বামদলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, গেল কয়েক বছর ধরে দেশি-বিদেশির চাপ, নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে ছাড়তে পারেনি বিএনপি। গেল জুলাই মাসে জামায়াতকে জোট থেকে সরিয়ে দিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মতামত দিলেও এখনও জোটে থেকেই গেছে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলটি।

এদিকে, গেল ৫ জুলাই সর্বশেষ ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এরপর আর কোনো বৈঠক হয়নি জোটের। এছাড়া চলতি বছরে জোটের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচিও দেয়া হয়নি। জোট নেতাদের কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, জোট আছে ঠিকই তবে কোনো কর্মসূচি নেই। তবে খুব শিগগিরই জোটের বৈঠক ডাকা হবে জানাচ্ছে দলীয় সূত্রগুলো। তবে সেটা বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্দেশ্যে কিনা তা খোলাসা করেননি কেউ।

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারো জোরদার আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। তারা প্রবল শক্তিমত্তা নিয়ে রাজপথে নামার জন্য বামদলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এই বৃহত্তর জোট গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে খায়রুল কবির খোকন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এরকম চিন্তা-ভাবনা আমরা করছি। এজন্য প্রাথমিকভাবে দেখাশোনা ও কথাও বলছি। তবে দল থেকে আমাকে চিঠি দিয়ে এই দায়িত্ব দেয়া হয়নি। আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের বাইরে গিয়ে কি বৃহত্তর জোট গঠন করা হবে কিনা জানতে চাইলে খোকন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা আলোচনা শুরু করেছি। জোট কেমন এবং কোন পদ্ধতিতে করা হবে- সে বিষয়ে এখানো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এদিকে ২০ দলীয় জোট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় জোট নেতারাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তারা জোটকে শাক্তিশালী করার পক্ষে মতামত দিলেও কবে, কখন কীভাবে জোট শক্তিশালী হবে তা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছেন না।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ২০ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচি নেই। বিএনপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছে। করোনার পর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মণি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আসলে জোট থাকলেও সক্রিয় নয়। তবে দু-একটি দল ছাড়া জোটের অন্য দলগুলো জামায়াতকে বাদ দেয়া পক্ষে রয়েছে।

আবার অন্যদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তাদের ভাষ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রার এক বছর অতিবাহিত হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ফ্রন্ট কোনো সভা ও সমাবেশ করেনি। এমনকি তারা রাজপথের কোনো আন্দোলনেও নেই। নামমাত্র দু’একটি বৈঠক করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঐক্যফ্রন্টের কোনো জোর নেই। তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেহলার দশা বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মিটিং হচ্ছে এবং আরো মিটিং করা হবে। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় মিটিং হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবেও মিটিং হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তো কাজে নাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্ট আজ পর্যন্ত বসতেও পারেনি। ঐক্যফ্রন্ট আছে, তবে কাজে নেই।

বর্তমান জোটের এমন নিষ্ক্রিয় অবস্থানের কারণে অনেকেই মনে করছেন, রাজপথের আন্দোলন জমে উঠছে না। তাই তারা সরকারবিরোধী বামদলগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে বৃহত্তর জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত