ঢাকা, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৫৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২১, ১৭:৪৫

প্রিন্ট

বৃহত্তর ঐক্যের কথা বললেন ড. কামাল

বৃহত্তর ঐক্যের কথা বললেন ড. কামাল
সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরো বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কথা জানিয়েছেন গণফেরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্নাবে গণফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল কর, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার আদায়ের ঐক্যবদ্ধ হোন’’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

কামাল হোসেন বলেন, আপনারা সবাই জানেন আজ সমাজের কি অবস্থা। সব সমস্যা সঙ্কট আকারে ধারণ করেছে। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমাদের লেগে থাকতে হবে, যাতে করে সরকার বাধ্য হয় এগুলো থেকে সরে দাঁড়াতে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে সুশাসন পাওয়া অসম্ভব। দেশে সুশাসন না থাকলে তো আমাদের সামনে যে কঠিন সমস্যা গুলো আছে থেকে উত্তরণ করা সম্ভব না।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে জনগণকে নিয়ে মাঠে নামার আহবান জানান ড. কামাল।

তিনি বলেন, এ সরকার দেশে যে অবস্থা তৈরি করছে যেখানে, জনগণের চাওয়া, জনগণের যে কথা এসব সামনে না এনে এর উল্টোটা সামনে নিয়েে আসা হচ্ছে। যাতে করে মানুষ আরো বিভ্রান্ত হয়। এতে করে জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ না হয়ে তার উল্টোটা হচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যকর আছে বলেও জানান ড. কামাল হোসেন।

আপার লেখিত বক্তব্য বলেছেন, যারা নিজেদের নির্বাচন দাবি করে দেশ শাসন করছেন। কিন্তু আপনার দলের এমপি আছেন, তাহলে কি তিনিও অনির্বাচিত- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সংসদে ৩০০ জন সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজন সত্যিকারে নির্বাচিত সেটাকে অনির্বাচিত সংসদই বলা হয়। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তিনি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

গণফোরামের একাংশ দল থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, কোনও দল থেকে কিছু লোক বেরিয়ে গিয়ে বিকল্প বক্তব্য রাখতে পারে, বিকল্প ভূমিকা রাখতে পারে। আমি মনে করি, আমাদের দল সঠিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

" জনগণের দল হিসেবে তাদের পাশে থাকবে। আর গণফোরাম দুইটো বলার তো কোনও কারণ নেই। তারা কিছু লোক বেরিয়ে গেছে। তারা বেরোতেই পারে। কাউকে তো বাধ্য করে রাখা যায় না। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, কেন দল ছেড়েছে। আর তারা যদি বোঝাতে পারে, আপনার সেভাবে বুঝবেন। আমার কথা হলো, যারা গণফোরাম করেছি, এখনও করে যাচ্ছি তারা জনগণের ঐক্যের ওপর ভরসা করে মাঠে আছি।"

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমি বাদ দেয়া উচিত। ডিজিটাল আইনের কথা বলে মানুষের বাক স্বাধীনতা ও চিন্তা স্বাধীনতার ওপর যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে, সেখানে থেকে আমাদের সমাজকে পুরোপুরিভাবে মুক্ত করতে হবে।

এর আগে লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোকাব্বির খান এমপি বলেন, আমরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভামানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি আদর্শের ভিত্তিতে এবং গণফোরামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আগামী রমজানের পূর্বেই দেশব্যাপী গণসংযোগ শযরু করব।

অন্যদিকে গণফোরামের অপর অংশটি একই সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাসনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিভক্ত গণফোরামের অঙ্গ সংগঠন যুব গণফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের যৌথ উদ্যোগে কারাহেফাজতে লেখক ও সাংবাদিক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নেতা আওম শফিকুল্লল্যাহ, জানে আলম, সুরাইয়া খান, মোস্তাক আহমেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন জাফরুল্লাহ

বিএনপির ৭ মার্চের কর্মসূচি ‘ভণ্ডামি’

বাংলাদেশ জার্নাল/আর/কেএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত