ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

সাক্ষাৎকারে রফিকুল আলম মজনু

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই

  কিরণ শেখ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১  
আপডেট :
 ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৪৯

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই
ছবি: নিজস্ব
কিরণ শেখ

সরকার বিরোধী আন্দোলনে একদশকেও রাজধানীতে কোন কর্মসূচিতেই সফলতা পায়নি বিএনপি। সারাদেশে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন গড়ে উঠলেও ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করতে না পারায় কোন সুফল পায়নি দলটি। এজন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নগর বিএনপির নেতৃত্বকেই দোষারোপ করেছেন।

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছে বিএনপি। তাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের (ব্যর্থ) কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। যদিও ইতিমধ্যে ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের যোগ্যতা এবং সামর্থ্য নিয়ে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘোষিত নতুন এই আহ্বায়ক কমিটিতে দক্ষিণের সদস্য সচিব হয়েছেন রফিকুল আলম মজনু। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তথ্য ফরম বিতরণ এবং মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে- এসবসহ দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি, সম্মেলন, নেতা নির্বাচন, আন্দোলন এবং তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভের বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন রফিকুল আলম মজনু

বাংলাদেশ জার্নাল: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি কবে নাগাদ দেয়া হবে?

রফিকুল আলম মজনু: আমরা তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা তথ্য ফরম দিচ্ছি। এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে আমরা কর্মী সভা করবো। এরপর আমরা ওয়ার্ড কমিটিগুলো করবো। ওয়ার্ড কমিটি করার পর আমরা থানা কমিটি করবো। আর থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেই আমরা মহানগর কমিটি করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে না কি অন্য কোন প্রক্রিয়ায় করবেন?

রফিকুল আলম মজনু: আমরা সম্মেলেনের মাধ্যমেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কমিটি করতে চাচ্ছি।

বাংলাদেশ জার্নাল: কি কি যোগ্যতা ভিত্তিতে কমিটিতে নেতা নির্বাচন করা হবে?

রফিকুল আলম মজনু: দলের জন্য যারা দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করছেন, পরীক্ষিত, যারা মামলা-মোকদ্দমার জর্জরিত, এলাকায় যাদের সুনাম আছে, যাদের ভাবমূর্তি ভালো এবং যারা আন্দোলন করতে পারবেন- তাদেরকেই নিয়ে আমরা কমিটি গঠন করার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: দক্ষিণ বিএনপি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ২৩ দফা দাবি জানিয়েছে, সরকার যদি এই দাবিগুলো মেনে না নেয় তাহলে আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি?

রফিকুল আলম মজনু: যে দাবিগুলো আমরা দিয়েছি, এরমধ্যে একটি হচ্ছে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। আর অন্য দাবিগুলো ঢাকা এবং দেশবাসীর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট। নগরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চেয়ে আমরা এই দাবিগুলো জানিয়েছি। সরকার ও কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই দাবিগুলো করেছি, দেখি উনাকে কি করেন? আর যদি দাবি মেনে না নেয় তাহলে দলীয়ভাবে আমরা অবশ্যই এবিষয়ে পদক্ষেপ নেবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: শোনা যাচ্ছে, সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য নগর বিএনপি রোডম্যাপ তৈরী করেছে, নতুন এই রোডম্যাপে কি সফলতা পাবেন?

রফিকুল আলম মজনু: আসলে সরকারের বিরুদ্ধে আমরা শুধু শুধু আন্দোলন করতে চাই না। সরকারের বিরুদ্ধে কেনো আন্দোলন? তারা যদি ঠিকভাবে কাজ করে তাহলে তো আন্দোলন করার দরকার নেই। কিন্তু আমরা মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু আপনি জানেন যে, গত দুই-তিনটা নির্বাচন কেমন হয়েছে। দিনের ভোট রাতেই চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই এখন আমাদের দাবি নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক। কিন্তু সরকার যদি এগুলো না করে এবং তারা যদি না চায় তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা সরকার পতনে একদফার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এই আন্দোলনে শুধু বিএনপি নয়, সারাদেশের মানুষ যাতে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়, সেজন্য আমরা তাদের সাথে কাজ করবো এবং কথা বলবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: সরকার পতনে একদফার আন্দোলনের যাওয়ার কথা বলছেন, এই কর্মসূচি নিয়ে কবে নাগাদ আপনারা রাজপথে নামবেন?

রফিকুল আলম মজনু: নির্বাচনের তো এখনো অনেক দেরি আছে। কিন্তু আমরা নির্বাচনের আগেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে চাই। এজন্য আমরা সংগঠন গোছাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ সময় মতো দলের পক্ষ থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা আসবে। তখন আমরা আন্দোলনের জন্য মাঠে নামবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনারা আন্দোলনের কথা বলছেন, কিন্তু নগর বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে- বর্তমান কমিটিও রাজপথে আন্দোলনে ব্যর্থ হবে। এবিষয়ে আপনার মতামত কি?

রফিকুল আলম মজনু: আন্দোলনে সফলতার পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। সফল হওয়ার জন্য যা যা করার দরকার, তা আমরা করবো। এটাকে আমরা ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে পালন করবো। আর আমাদের কর্মীদেরকে নিয়ে যাতে আন্দোলন করতে পারি, সেই চেষ্টা আমরা করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: নগর বিএনপির দুটি আহ্বায়ক কমিটি ভালো না হওয়ায় দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ রয়েছে। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

রফিকুল আলম মজনু: যারা দীর্ঘদিন বিএনপি করেছে এবং যারা মাঠে ছিলো- তারা কিন্তু কেউ বাদ যায়নি। আর দীর্ঘদিন যাদের পদ ছিলো, কিন্তু তারা নিস্ক্রিয় ছিলেন এবং কর্মসূচিতে যায়নি- তাদেরকেই বাদ দেয়া হয়েছে। সুতরাং যারা দীর্ঘদিন ধরে আসবে না, কর্মসূচিতে যাবে না কিংবা কাজ করবে না- তাদেরকে নিয়েই যদি আবার কমিটি হয় তাহলে তো সেটা নতুন কমিটি হলো না। আর যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেখানে আমরা সবাই পুরান। আমাদের অনেক ত্যাগ এবং আমরা অনেক নির্যাতিত হয়েছি। আর এই কমিটিতে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা তো বিএনপিই লোক। সুতরাং অন্যদের এবিষয়ে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। তবে মতপার্থক্যে থাকতেই পারে। কিন্তু আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমজে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত