ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

বৃহত্তর ঐক্যের পথে হাঁটছে বিএনপি

  কিরণ শেখ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৪  
আপডেট :
 ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২৫

বৃহত্তর ঐক্যের পথে হাঁটছে বিএনপি
কিরণ শেখ

গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা, আইনজীবী এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে বিএনপি। এই ১০ দিনের বৈঠকে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আলোচনায় হয়। আলোচনায় নেতারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্ম-কৌশল, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, একদফার আন্দোলন ও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে সরকার পতন আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিকে পরামর্শ দেন বলে দলটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোকে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে দলের অঙ্গসংগঠনগুলো বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলকে আন্দোলনমুখী নেতৃত্বের জন্য পুনর্গঠনের কথাও বলেছেন নেতারা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হয়। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠক হয়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর আইনজীবী, ২৯ সেপ্টেম্বর ছোট পরিসরে এবং ৮ ও ৯ অক্টোবর বড় পরিসরে পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে দলটি।

ধারাবাহিক এসব রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বরং বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমে যাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য কেউ কথা না বলেন, সেই ব্যাপারে হাইকমান্ড থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনাদের বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেবেন।

তবে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এসব বৈঠকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, আইনজীবী এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় একদফা আন্দোলনে জন্য রাজপথে নামতেও পরামর্শ দেন তারা।

সূত্রটি জানায়, বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠকে নেতারা যেসব বিষয়ে মূলত মতামত দিয়েছেন সেগুলো হলো- বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একদফা আন্দোলন, আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরি, খালেদা জিয়ার মুক্তি, বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে সরকার পতন আন্দোলন, আন্তর্জাতিক লবিং তৈরি।

এছাড়া ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জামায়াত ছাড়া, জোট, ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় করা এবং না করার বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো পরবর্তীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মতামতগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পরে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর সাংবাদিকদেরকে জানাবেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে সরকার পতনের আন্দোলনের বার্তা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আন্দোলনের ইস্যু বিরাজ করছে। সময় মতো আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। এজন্য আন্দোলনের রোডম্যাপও তৈরি করা হচ্ছে। তবে সরকার পতনের আন্দোলনের আগে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে।

২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতের প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জোট, ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা বক্তব্য শুনেছি। সামারি করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বসবো। এরপর সিদ্ধান্ত নেবো।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

কেএস/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত