ঢাকা, শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

সাম্প্রদায়িক শক্তি তলে তলে সক্রিয়: কাদের

সাম্প্রদায়িক শক্তি তলে তলে সক্রিয়: কাদের
ফাইল ছবি। সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক

ঢাবি প্রতিনিধি

একাত্তরে পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দেখতে নিষ্ক্রিয় মনে হলেও এরা তলে তলে সক্রিয় এবং সুযোগ পেলেই ছোবল মারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও দরিদ্র তহবিলে বিশেষ অনুদান প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিলো তারাই পচাত্তরের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিলো। দেশি-বিদেশি চক্র একটি নীল নকশার মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের চেতনাতে তারা আঘাত হেনেছিলো। আঘাত হেনেছিলো মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনায়। সেই শক্তি বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছরে বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে। এদের ডালপালা আজকে অনেক দূর চলে গেছে। এদের শেকড়ও চলে গেছে মাটির অনেক গভীরে। মাঝে মাঝে মনে হয় এ শক্তি নিষ্ক্রিয়। আসলে তলে তলে এরা সক্রিয়। সুযোগ পেলে ছোবল মারে। এ সাম্প্রদায়িক শক্তি বিষধর সাপ সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। এবারের দুর্গাপূজাতে আমরা সে দৃশ্য দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের গত ১২ বছরে দেশের ৩০-৩৫ হাজার পূজামণ্ডপে কোথাও কোনো ধরণের হামলা হয়নি। এবারে সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির নির্ভরযোগ্য ঠিকানা বিএনপি।

পত্র-পত্রিকায় মাঝে মাঝে দেখ যায় জামায়াত-বিএনপি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এটা আসলে কিছুই না। গোপনে গোপনে তাদের যে পিরিতি রয়েছে, তা আর কারও নেই। গুজবের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশকে অনেকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠছে, তাই এ শক্তির মোকাবিলা করার জন্য চোখ কান খোলা রেখে ছাত্রলীগকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বডুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি শিশু শেখ রাসেলও। সেসময় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলো সে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন ১৮ অক্টোবর।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত