ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

খালেদা জিয়ার জন্য কি যথেষ্ট করছে বিএনপি?

  কিরণ শেখ

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২০:৪৫  
আপডেট :
 ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২২:০৮

খালেদা জিয়ার জন্য কি যথেষ্ট করছে বিএনপি?
ফাইল ছবি
কিরণ শেখ

এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য দলটি গণঅনশন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, লিফলেট বিতরণ, বিক্ষোভ, দোয়া মাহফিল এবং মৌন মিছিলের মতো কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত বিএনপি। তবে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি পূরণের লক্ষ্যে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি চাইছেন। কারণ তারা মনে করেন এসব কর্মসূচি দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো যাবে না।

নেতাকর্মীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য দলের সিনিয়র নেতারা যথেষ্ট চেষ্টা করছেন না। তারা অনেকটা দায়সারা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তৃণমূলের এক নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য রাজপথে নামতে উন্মুখ হয়ে আছে। সিনিয়র নেতারা ডাক দিলেই তারা রাজপথে নেমে পড়বেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে, তাতে তৃণমূলের কর্মীদের মন ভেঙে যাচ্ছে। এসব কর্মসূচি দেখে তারা মনে করছেন, বেগম জিয়ার জন্য সিনিয়র নেতারা যথেষ্ট চেষ্টা করছেন না।

গত ২০ নভেম্বর দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়ার দাবিতে গণঅনশন করেছে বিএনপি। এই গণঅনশন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে হরতাল ঘোষণা করার জন্য আহ্বান জানান দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু গণঅনশন থেকে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক একটি দল যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়, তারা সব কিছু চিন্তা করেই নেয়। কোনটাতে বেশি ফল পাওয়া যাবে- কর্মসূচি দেয়ার সময় এ বিষয়গুলো চিন্তায় থাকে। এর সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতাসহ সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন বক্তব্য দেয়া শুরু করেন, তখন পাশে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হরতাল হরতাল বলে স্লোগান দেন। তারা কয়েক দফা হরতাল হরতাল বলে স্লোগান দিলে ফখরুল বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা তাহলে স্লোগান দেন। পরে নেতাকর্মীরা স্লোগান থামালে মির্জা ফখরুল আবার বক্তব্য শুরু করেন।

পরে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের শেষে আবারও নেতাকর্মীরা হরতাল হরতাল স্লোগান দিয়ে ডায়াসের দিকে গিয়ে যায়। কিন্তু হরতাল নয়, মির্জা ফখরুল সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে নেতাকর্মীরা মনোক্ষুন্ন হয়ে কর্মসূচির স্থান থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সময় মতো যখন প্রয়োজন হবে, তখন সবকিছু আপনারা দেখতে পাবেন।

এদিকে গত ২২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জন্য সমাবেশ করেছে বিএনপি। এই সমাবেশ থেকে বুধবার দেশের জেলা প্রশাসকদেরকে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল দলটি। সেই কর্মসূচি আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরে বুধবার খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এসব কর্মসূচি বিএনপিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২৫ নভেম্বর যুবদলের ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ, ২৬ তারিখে বাদ জুম্মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল, ২৮ তারিখে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ, ৩০ তারিখে বিভাগীর সদরগুলোতে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ, আগামী ১ ডিসেম্বর ছাত্রদলের সারাদেশে সমাবেশ, ২ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ৩ তারিখে কৃষক দল ঢাকাসহ সারাদেশে সমাবেশ এবং ৪ তারিখে মহিলা দলের মৌন মিছিল।

গত ১১ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে ফের আবেদন করে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার এই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। গত ৬ মে শামীম এস্কান্দার খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সর্বশেষ আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন আইন মন্ত্রণালয় গেলে তা নাকচ হয়ে যায়।

এরপরে গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। আইনজীবীদের দেয়া ওই স্মারকলিপি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, আমি এটা নিয়ে একটু আলাপ-আলোচনা করি। আপনারা যে স্মারকলিপি দিয়েছেন সেটা আমি অবশ্যই পর্যালোচনা করব। তবে সিদ্ধান্ত ও মতামতের ব্যাপারে আলোচনার প্রয়োজন আছে। সেটা আমরা করব।

অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার সুযোগ দেয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের তরফ থেকে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তার চিকিৎসার বিষয়ে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শও নেয়া হচ্ছে। সেদিক থেকে কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু তাকে অতি দ্রুত (কোনো সময় নষ্ট না করে) বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কাল বিলম্ব না করে তাকে বিদেশে পাঠানো দরকার। এখানে রাজনীতি না এনে মানুষের জীবনকে প্রাধান্য দিতে বলছি। কারণ গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়ন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এবং দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টির করবার জন্য তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সুস্থ করে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজা হলে কাগারে যান খালেদা জিয়া। এরপর দেশে করোনা মহামারি শুরু হলে খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনে তাকে গত বছরের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এতে শর্ত ছিল যে, তাকে দেশেই থাকতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগার থেকে বেরিয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ওঠেন। পরে করোনায় আক্রান্ত হলে চলতি বছরের প্রায় দুই মাস হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।

এরপর আবার চার মাসের মাথায় আবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। ওই সময় ২৬ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে বাসায় ফেরার ৫ দিন পর আবারও গত ১৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

বর্তমানে হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। তিনি ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ফুসফুস, কিডনি ও চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/আরবে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত