আসল খুনিকে না ধরতেই ক্রসফায়ার

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় কমিশনারের হত্যার আসামীকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কমিশনারের হত্যার যে আসামীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিলো। সেই তিন জনকেই গতকাল এবং আজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে! এটার উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য একটাই। আসল যে খুনি, তাকে যেনো ধরা না যায়- সেজন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। 

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের দাবিতে’এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, আজকে খবরের কাগজে আরেকটা খবর আছে। সেটা হচ্ছে, কুমিল্লাতে কমিশনারকে হত্যা হয়েছিলো। কমিশনারের হত্যার যে আসামী (তিন জন) ছিলো, কয়েকদিন আগে তাদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিলো। সেই তিন জনকেই গতকাল এবং আজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে! এটার উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য একটাই। আসল যে খুনি, তাকে যেনো ধরা না যায়- সেজন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। 

ক্রসফায়ার হচ্ছে সবচেয়ে জঘন্য একটা অপরাধ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ গ্রেপ্তার করার পরে ক্রসফায়ারে মারা মানে কি, রাষ্ট্র থাকে? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকে? থাকে না। আওয়ামী লীগ আসার পরে এই ক্রসফায়ার কতজনকে যে মেরেছে, আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না। এভাবে সারাদেশে তারা একটা নৈরাজ্য স্থাপন করেছে। 
 
আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শুধু কৃষি, শিল্প ও দুর্নীতি নয়। সামগ্রিকভাবেই গোটা দেশকে আওয়ামী লীগ সরকার ধ্বংস করে ফেলেছে। 

ফখরুল বলেন, যারা (আওয়ামী লীগ) আজকে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন। তারা রাতে অন্ধকারে ভোট করে, চুরি করে, ডাকাতি করে, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে, সমস্ত বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করে এবং ভোট দখল করে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে শুধু মাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। 

‘সেই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে কথা দিয়েছিল যে, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চালের দাম ৭০ টাকা! কৃষকদেরকে বিনা পয়সার সার দেবে, কোন কৃষক কি বলতে পারেন, এখন সার এর দাম বিএনপি সরকারের আমলের চেয়ে কম না কি বেশি? অনেক বেশি। তিনগুন বেশি।’

আওয়ামী লীগ ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলেছিলো উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, চাকরি তো দূরে থাক, এখন আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য (ছোট ব্যবসারী) যা আছে- তাদেরকে উচ্ছেদ করে দিয়ে তারা সেটা দখল করে নিচ্ছে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই লুটপাট এবং সমস্ত সম্পদকে তারা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে, যার ফলে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটিতে পৌঁছে গেছে। গরীব আরো গরীব হচ্ছে। আর ওরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে বড়লোক হচ্ছে। 

কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এমএম