ঢাকা, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত চায় ফখরুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৭:১৯

নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত চায় ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

নেত্রনিউজে প্রচারিত সংবাদের সূত্র ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি দাবি করছি নেত্রনিউজে প্রকাশিত ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও গণ আন্দোলনের নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এই মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করে।

নেত্রনিউজে প্রচারিত সংবাদের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুইডেন থেকে একটি পত্রিকা বের হয়। তার নাম নেত্রনিউজ। সেই নেত্রনিউজে এই অবৈধ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাদের পরিচালিত আয়নাঘর সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই আয়না ঘরে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদেরকে সেখানে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে।

নেত্রনিউজের এই সংবাদ প্রতিবেদন প্রচারের পরে এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকালই সোমবার ১৫ আগস্ট স্টেটমেন্ট দিয়েছে। ভয়াবহ ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র এটা অবশ্যই জঘন্যতম একটা ঘটনা। তারা বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারকে বলেছেন যে আপনি এটার নিন্দা করেন এবং এ সম্পর্কে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত করেন।

তিনি বলেন, এটাকে হালকা করে দেখার কোনো কারণ নাই। আমাদের বহু ভাই চলে গেছে যাকে আমরা ফেরত পাইনি। আমাদের বহু নেতা চলে গেছে যাকে ফেরত পাইনি। আমাদের ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে এভাবে গুম করা হয়েছে, অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। আমি আজকের এই মিলাদ মাহফিল থেকে দাবি করছি জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অত্যাচার নির্যাতন করে ত্রাস সৃষ্টি করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। আমরা এ কথাগুলো বহুবার বলেছি। আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রেখেছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করেছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ভোলায় ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে। এসব কথা আর গোপন নেই।

তিনি বলেন, আমরা জানি এ সরকার সহজে যাবে না। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। সেজন্যে আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সংগঠিত করে এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার নিয়ে আসতে চাই। সেজন্য আমাদের প্রথম শর্ত গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে অবশ্যই নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৩৫লাখ মানুষের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেই কমিশনের মাধ্যমে একটা জনগণের সংসদ গঠন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এই জন্মদিনে আমরা তার দীর্ঘজীবন কামনা করছি। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবো তিনি যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে আবার ফিরে আসেন নেতৃত্ব দেন। আমরা দোয়া করবো আমাদের নেতা তারেক রহমান যেন ফিরে এসে আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের যারা নিহত হয়েছেন শহীদ হয়েছেন আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবো। আমরা দোয়া করবো যারা আহত হয়েছেন তারা যেন সুস্থ হন। আর সবচেয়ে বড় যে দোয়াটি করবো সেটা হলো এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন অবিলম্বে দেখতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএইচ/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত