ঢাকা, রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ১০ মিনিট আগে
শিরোনাম

এখন থেকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:১৮  
আপডেট :
 ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩২

এখন থেকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। কিন্তু, আজকে আমরা যেসব মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছি, এখন থেকে আমরা হস্তক্ষেপ করবো।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলতে বসেছে। এর পেছনের কারণ রাজনৈতিক দলগুলো। যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করবেন, তারা বলবে যে, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে। কিন্তু যারা ৭১ সালে জন্মায়নি, বই পড়ে ইতিহাস জেনেছে, তাদের জিজ্ঞাসা করবেন, তারা বলবে একজন নেতা ঘোষণা দিয়েছে আর মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে গঞ্জে সাধারণ মানুষের সন্তান, এজন্য সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কথা কেউ বলে না। অথচ আওয়ামী লীগ করলেই, মন্ত্রী হলেই মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান মন্ত্রীদের ওপরে। তা না হলে কেনো এই সরকারের আমলে একজন মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা হতে চান। ৭১ সালে যার বয়স ছিলো ৭ বছর৷ আওয়ামী লীগ করলেই মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অসম্মানের। মুক্তিযুদ্ধ না হলে দেশ স্বাধীন হতো না। দেশকে স্বাধীন করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু এই কৃতিত্ব কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের দেবে না। সব কৃতিত্ব রাজনৈতিক নেতাদের।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, "মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া একদফা দাবির কথা আওয়ামী লীগ কখনো বলেনি। তারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি। একমাত্র মৌলানা ভাসানি বলেছেন। তবে সে কথা সেভাবে উঠে আসেনি। তবে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার প্রেক্ষাপট শেখ মুজিব তৈরি করেছেন। কিন্তু সেটা পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের জন্যে। অথচ তার অনুপস্থিতিতে একজন সৈনিক ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেটাও আওয়ামী লীগ মেনে নিতে চায় না। শেখ মুজিবের সেটা বলা উচিত ছিলো। তার বলা উচিত ছিলো, 'আমি না থাকলেও আমার অনুপস্থিতিতে একজন মেজর ঘোষণা দিয়েছে, আমি তাকে সম্মানিত করতে চাই।' কিন্তু তিনি সেটা করলেন না। কারণ, রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কৃতিত্ব দিলে আমরা ছোট হয়ে যাবো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের মন ছোট নয়।'

এসময় তিনি সামনে বসে থাকা সকল মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে আগামীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করবে কিনা বলে মতামত চান, সবাই হস্তক্ষেপ করবেন বলে মতামত দেন।

অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম বীর প্রতীক বলেন, আগামী দিনে সরকার গঠন হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশ‌তিয়াক আজিজ উলফাত, মজিবর রহমান সরোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব:) জয়নাল আবদীন, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খানসহ রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেয়া শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএইচ/রাজু

  • সর্বশেষ
  • পঠিত