ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৪০

প্রিন্ট

গোপালগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি

গোপালগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি
গোপালগঞ্জে বিএনপির অফিসে বর্তমানে চলছে ওয়ার্কসপের কার্যক্রম। ছবি: বাদল সাহা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নেই কোন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। এমন কি ২০০৯ সালের পর কোন কমিটিও করতে পারেনি দলটি। সেই সাথে উপদলীয় কোন্দলে পুরোটাই নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরা। যদিও দলটির জেলা নেতৃবৃন্দ তাদের অস্তিত্ব সংকটের কথা অস্বীকার করে আগামী নির্বাচনে ভাল ফলাফলের আশা করেছেন। সেই সাথে জেলা বিএনপিকে মজবুত করে গড়ে তুলতে কোন্দল বন্ধ, অফিস নেয়াসহ নতুন কমিটি গঠন করার দাবী তৃণমূল নেতাকর্মী।

জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজের বাসার অফিসটিও এখন বন্ধ। ছবি- বাদল সাহা

জানা গেছে, শহরের গেটপাড়ায় একটি টিন সেডের ঘরে কাজী ওয়ার্কসপের সাইনবোর্ড টানিয়ে চলেছে গ্যারেজের কাজ। অথচ তিন বছর আগে টিন সেডের ঘরটি ছিল জেলা বিএনপির অফিস। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। একই সাথে শহরের বঙ্গবন্ধুর সড়কে সাবেক সভাপতির বাসভবনেও অফিস থাকলেও এখন সেটি তালাবদ্ধ। ফলে বিগত দিনে দুটি আলাদা স্থান ও অফিসে চলেছে জেলা বিএনপির কার্যক্রম।

তবে বর্তমানে কার্যালয় দু’টি বন্ধ হলেও বর্তমান সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজের বাসায় চলছে দলীয় কার্যক্রম। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও মাঝে মধ্যে গোপালগঞ্জ এলেই শুধুমাত্র তার পক্ষের লোকজন নিয়ে সভা করে থাকেন। ফলে তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।

এদিকে ২০০৯ সালে জেলা কমিটি গঠন করার পর ৯ বছর পার হলেও নতুন কমিটি গঠন করতে পারেনি। সেই সাথে ক্ষমতা নিজের পক্ষে নিতে গিয়ে উপদলীয় কোন্দল জড়িয়ে পাড়ায় তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি।

দলের সাধারণ সম্পাদক গোপালগঞ্জ অবস্থান করলেও বর্তমান ও সাবেক সভাপতি ঢাকায় অবস্থান করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে বেড়েছে দূরত্ব। ফলে বিভক্ত, কমিটি গঠন করতে না পারা আর কোন্দলে জড়িয়ে পরায় এক প্রকার নেতৃত্ব ও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দলটি।

জেলা বিএনপির নেতৃত্ব শূন্যতার কথা স্বীকার করে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন বলেন, বিএনপির বিষয়, বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছেন জানতে পারবেন। তবে জেলা বিএনপি থেকে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সহযোগী কোন সংগঠন আশানূরুপ সহযোগীতা পাইনি।

জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এ্যাভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ঢাকায় থাকেন। সাধারণ সম্পাদক গোপালগঞ্জে থাকেন। তবে তারা কি করেন সেটা আমরা জানি না। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলনের ডাকা যে নির্দেশ দেয়া হয় আমার যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সহযোগী কোন সংগঠনগুলো নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচী সফল করার চেষ্ঠা করি।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হীরা বলেন, আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজ নেয়ার মতো বিএনপিতে কোন নেতা আমাদের নেই। আমদের যে অঙ্গসংগঠনগুলো আছে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতির কাছ থেকে আমরা বিভ্রান্তিই পাই। এজন্য গোপালগঞ্জে আমাদের কোন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। এই দায়ভার জেলা বিএনপিকে নিতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিমের কাছ থেকে আমরা আশ্বস্ত ও সহযোগীতা পাই।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফজলুল কবীর দারা বলেন, গোপালগঞ্জে জেলা বিএনপি একেবারেই নিস্ক্রিয়। জেলা বিএনপির কোন পার্টি অফিস নেই। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নিজ দায়িত্বে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে থাকি।

শহর বিএনপির সাধারণ সম্পদক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিস্ক্রিতার ও তাদের দ্বন্দের জন্য আমার কোন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারি না। যে কারণে আমরা পুরোটাই নিস্ক্রিয়।

আফিস না থাকার কথা স্বীকার করলেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড মজবুত রয়েছে বলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনসুর আলী বলেন, যে সব অঙ্গসংগঠন যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষক দল এখানে আছে। ইতিমধ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী থাকবে, আমরা নির্বাচন করব। কোন কার্যালয় না থাকলেও আমার বিভিন্ন বাসা ও বাড়ীতে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছি।

দলীয় কোন্দলের কথা অস্বীকার করে জেলা বিএনপি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, আমাদের দলীয় চেয়ার পার্সন কারাগারে আছেন। আমরা আন্দোলন করছি। বিএনপিসহ আমরা সকল সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ। যে কোন সময় চাইলে আমাদের একটি চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন হবে। আমরা সে জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রান্ত সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, বিএনপি ছাড়া জেলার সকল সংগঠনের কমিটি রয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে জেলার বিএনপির কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে বতর্মান সভাপতি ঢাকায় থাকলে মাঝে মধ্যে তিনি গোপালগঞ্জ গিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং এবং বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকেন। আগামী নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হয়েছে। আশাকরি সম্মানযোগ্য ফলাফল পাব।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত