ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৯

প্রিন্ট

‘মন কাঁদে’ মুহিতের

‘মন কাঁদে’ মুহিতের
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আলোকিত সিলেট গড়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল বন্দি স্থানান্তরের পর পুরাতন কারাগারটিকে উন্মুক্ত ‘গ্রিন পার্ক’ করার।কিন্তু গত ১০ বছরেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি মুহিত। সর্বশেষ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ‘গ্রিন পার্ক’ করার গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় অর্থমন্ত্রী মুহিতের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।

বন্দরবাজারের এ পুরাতন কারাগারকে নগরের ফুসফুস উল্লেখ করে মুহিত বলেছিলেন, বাদাগাটে নতুন কারাগার করে পুরাতন কারাগারকে উন্মুক্ত ‘গ্রিন পার্ক’ করে দেব। এখানে পায়ে হাঁটার ওয়াকওয়ে রাখা হবে। সকাল-বিকেল হাঁটাচলা ও বসার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে সিলেটের পরিবেশ রক্ষা করবে এই ‘গ্রিন পার্ক’।

তবে জানা গেছে, সিলেট নগরের বন্দরবাজার ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা ২৩০ বছরের পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল। শুক্রবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তরের পরপরই কারাগারের প্রধান ফটকে সাঁটানো হয় একটি ব্যানার। যাতে লেখা রয়েছে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল বলেন, পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার যেমন আছে, তেমনই থাকছে। এখানে কার্যক্রম চলমান থাকবে। পুরনো কারাগারকে ‘গ্রিন পার্ক’ করার জন্য সদ্যসাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডিও লেটার পাঠালেও প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দেননি।

জানা যায়, সদ্যবিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল বন্দি স্থানান্তরের পর পুরনো কারাগারটিকে ‘গ্রিন পার্ক’ করার। সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পার্ক নিয়ে পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকায় অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তৎকালীন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ছাড়াও বৈঠকে সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থলে একটি ‘গ্রিন পার্ক’ গড়ে তোলা হবে। সেখানে পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা সংরক্ষণের মাধ্যমে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, কালচারাল সেন্টার, শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি। পরবর্তীতে সিলেট সফরে এসে ‘গ্রিন পার্ক’ গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিলেন মুহিত। পার্কের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটারও দিয়েছিলেন। তবে, সকল উদ্যোগ ভেস্তে যায়, কারা অধিদফতরের এক নির্দেশনায়।

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close