ঢাকা, শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৮:০৪

প্রিন্ট

মন্ত্রিত্ব ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-শরিক টানাপোড়েন

মন্ত্রিত্ব ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-শরিক টানাপোড়েন
তৌফিক ওরিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। নবম ও দশম সংসদের মন্ত্রিসভায় জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের স্থান হলেও বর্তমান মন্ত্রিসভায় তাদের কাউকে রাখা হয়নি। সর্বশেষ গত ‍শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ রদবদল ও সম্প্রসারণ হলেও শরিকদের স্থান হয়নি সেখানেও। ফলে জোট নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

১৪ দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় যেমন জোটের শরিকরা উপেক্ষিত, তেমনই এ সরকারের নানা আচরণ ও কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জোটের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। মন্ত্রিসভা ছাড়াও অনেক জায়গা আছে, যেখানে ১৪ দল রাষ্ট্রীয় ও সরকারিভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা হচ্ছে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একাধিক বার মন্ত্রিসভার রদবদল এবং সম্প্রসারণ হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব পায়নি কোন শরিক নেতা। প্রথমে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে শরিক দলগুলো থেকে কেউ কেউ ঠাঁই পেতে পারেন, এ আশায় ছিলেন তারা। তবে সর্বশেষ সংযোজনেও উপেক্ষিত হয়েছেন জোট নেতারা।

মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ক্ষোভ বিরাজ করছে এমন প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাংসদ রাশেদ খান মেননের কাছে। তবে তিনি এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন সরি, সরি! এবিষয়ে কোন কথা বলবো না।

মন্ত্রীত্ব নিয়ে শরীকদের সাথে কোন ধরণের আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রীত্বের দাবিতে জোটের ভেতরে কোন ধরণের আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে দাবি করারও কিছু নাই। আলোচনা হলে আপনার সব কিছু জানতে পারবেন।

চলমান সরকার গঠনের পরপরই বিভিন্ন সময়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন শরিক দলের নেতারা। প্রথম দিকে সেটাকে জোটের রাজনৈতিক কৌশল বলে দাবি করেছেন অনেকে। তবে সময় পার হওয়ার সাথে সাথে সমালোচনার বিষয়টি স্পষ্ট হতে থাকে। বিএনপি সংসদে যাওয়ার পরও জোট নেতাদের সরকারের কড়া সমালোচনাকে আওয়ামী লীগের সাথে শরিকদের টানপোড়নের প্রভাব বলে মনে করছেন অনেকে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সে সময় জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও জাসদের আসম আবদুর রবকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে সরকার গঠন করে তাকে ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ সরকার বলেন শেখ হাসিনা।

এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই পর্বে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায়ও জিএম কাদেরসহ জাতীয় পার্টির নেতাদের পাশাপাশি সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়াকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। ওই সরকারের শেষদিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে।

এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে ইনুর সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছিল, পাশাপাশি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির একজন মন্ত্রী ও দু’জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

তবে সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে ছাড় দিতে নারাজ জোট নেতারা। সংসদে কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সমালোচনা করছেন তারা।

সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলো যখন সমালোচনায় মুখর তখন সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জোটের মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এক সভায় বলেন, আমি সরকারকে অনুরোধ করবো গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে দেখুন যদি সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। জনগণের যাতে দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হয়। এই সরকার জনবান্ধব সরকার। আজকে অনেকের মনে প্রশ্ন এসেছে যে, বাজেট পাস হয়ে গেল তারপরও কেন আকস্মিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। এই সুযোগে একটি অশুভ শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য মাঠে নেমে গেছে।

বর্তমান সরকার গঠনের পর শরিক নেতারা কেন হঠাৎ সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে জানতে চাইলে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া জানান, আমরা আদর্শিক জোট হিসেবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নচিত্র যেমন জনগণের কাছে পৌছে দিচ্ছি, তেমনি সরকার কোন ভূল করলে সেটাও ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। এটা নেতিবাচক হিসেবে নিলে হবে না। আর প্রধানমন্ত্রীও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারের ভূলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য।

তবে আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন, তা একান্তই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন করে। প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরই নির্ধারণ করবে, কখন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। সংবিধানই প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

তবে মন্ত্রিত্ব পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে নারাজ শরিক দলের নেতারা।

মন্ত্রিত্ব ইস্যুতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শরিকরা কোন ধরণের গ্রিন সিগনাল পেয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, সম্প্রতি সময়ে শরিকদের মন্ত্রিত্ব দেয়ার বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে কোন আলোচনা হয়নি। আর এখনো পর্যন্ত সেই সম্ভবনাও দেখছি না।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত