ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:০৩

প্রিন্ট

আওয়ামী লীগে বহিষ্কার আতঙ্ক

আওয়ামী লীগে বহিষ্কার আতঙ্ক
তৌফিক ওরিন

বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যেসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শোকজ লেটার পেতে যাচ্ছেন তারা। চিঠির বিপরীতে উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে অভিযোগের ভিত্তিতে স্থায়ী কিংবা সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। আর দলের এমন কঠোর মনোভাবের কারণে তৃণমূলে বহিষ্কার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী সূত্রে জানা যায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সম্প্রতি বেশ শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছে। কোন অভিযুক্ত প্রার্থী যাতে শাস্তির আওতার বাহিরে না পড়ে সেজন্য বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দলটি। আবার কেউ যাতে বিনা অপরাধে অভিযুক্ত না হয় সেজন্য অভিযোগগুলো বারবার যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

পরবর্তী প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কেউ যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী না হন, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে চায় দল। আর বিদ্রোহী ইস্যুতে দলের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয় ইতিমধ্যে তৃণমূলে জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সরাসরি সমর্থনকারী প্রায় ১৫০ নেতার তালিকা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই তৃণমূলের নেতাকর্মী। এদের মধ্যে রয়েছেন বিজয়ী এবং পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী, এদের মদতদাতা এমপি-মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা।

প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত এই দেড়শতাধিক নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করার পাশাপাশি কেন স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিস্কার করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠানোর প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী রোববার থেকেই ডাকযোগে শোকজ নোটিশ পাঠানো শুরু হচ্ছে। তাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্রোহী ইস্যুতে দলের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে তৃণমূলে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। শাস্তি থেকে বাঁচতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, খুলনার প্রতিটি উপজেলায় বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়, এদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনে বিজয়ীও হয়েছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা শাস্তি থেকে বাঁচতে জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার এক বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী জানান, উপজেলা নির্বাচনে যেহেতু বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি সে কারণেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আর আমাদের মত স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর যখন আমরা প্রার্থী হই, তখন আমাদের নেতারা আমাদের মৌন সমর্থন দিয়েছিলেন। যদি সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হত তাহলে কখনোই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম না।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্রোহী এবং বিদ্রোহীদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করতে শুরু করবো।

এ বিষয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, বিদ্রোহী ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, প্রত্যেককে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের দায়ে শাস্তি পেতে হবে।

প্রসঙ্গত, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে দলের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় আওয়ামী লীগ। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদতদাতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। বহিষ্কৃতদের কয়েক ধাপে চিঠি দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত