ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৭

প্রিন্ট

ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভাবনা

ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভাবনা
কিরণ সেখ

আগামী শনিবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এবার ভোটের মাধ্যমে যে নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করছেন কাউন্সিলররা। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে সফল করতে পারবে-এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবেন তারা। তাদের ভাষ্য, ছাত্রদলের যারা রাজপথের আন্দোলনে থেকেছেন, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছেন, জেলে গেছেন- এদের মধ্যে থেকেই যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্ব আসা উচিত। পাশাপাশি ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে অবিবাহিত নেতাকে দেখতে চান তারা। ছাত্রদলের কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নেবে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের পঞ্চম কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও গুম হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে ভোট হচ্ছে। এই ভোটে এবার সভাপতি প্রার্থী ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৯ জন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের ১১৭টি ইউনিটের ৫৮০ জন্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। তবে কাউন্সিলের ভেন্যু এখনো ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়- এই তিন ভেন্যু’র একটিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কাউন্সিল করার জন্য ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কাউন্সিলের স্থানের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) স্থানের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।

কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল বাবু বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা তরুণ নেতৃত্ব চাই। আর পার্টির কাউন্সিল করার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।

সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে আগে নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর আমরা প্রত্যাশা করবো, সঠিক প্রক্রিয়ায় যেন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কারণ আমাদের ভোটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের ভোটের মাধ্যমে যেন নেতা নির্বাচিত হয়।

জুনায়েদ হোসেন সবুজ আরো বলেন, ছাত্রদলের যারা রাজপথের আন্দোলনে থেকেছেন, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছেন, জেলে গেছেন। তাদের মধ্যে থেকেই যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্ব আসুক- এটাই আমাদের চাওয়া। তবে আমি কাকে ভোট দেবো সেটা আমার নিজ জেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আপনি সাংবাদিক বলে বলতে পারছি না যে, কাকে ভোট দেবো।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনন্দ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, দীর্ঘদিন পরে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশাটা অনেক বেশি। আর আমাদের দল যেহেতু আন্দোলন-সংগ্রামে আছে এবং আমাদের নেত্রী কারাগারে রয়েছেন। তাই যারা আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল- সেই সব নেতাদেরকেই আমরা ভোট দেবো। আর এই নেতৃত্বের মাধ্যমেই নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন সফল হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল হাসিব বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা চাই তরুণ, ত্যাগী, মেধাবী এবং অবিবাহিত নেতা নেতৃত্বে আসুক। আর যারা বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার সম্মুখীন হয়েছেন-তাদের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন।

কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, কাউন্সিলে কোন প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ নেই। আর আমরা প্রত্যাশা করছি, এর মাধ্যমে একটি শক্ত নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে এবং তাদের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বের হয়ে আসবেন।

স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট কিভাবে করবো, এজন্য আমাদের সকল সম্পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।

এদিকে ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিল উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কাউন্সিলরদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। আগামীকাল শুক্রবারও তা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া ছাত্রদলের ভোট আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট নেতারা শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিএনপির চেয়ারপারসন গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে এক বিবৃতি জানানো হয়।

অপরদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো আরেক বিবৃতিতে, কাউন্সিল স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন যেসব সকল নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পালন করবেন তাদের নাম প্রকাশ করা হয়।

তারা হলেন: রিটার্নিং অফিসার- ফজলুল হক মিলন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার- শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আজিজুল বারী হেলাল, পুলিং অফিসার- এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

কাউন্সিলে সভাপতি পদে লড়ছেন, কাজী রওনকুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ মামুন বিল্লাহ (ওরফে মামুন খান), মাহমুদুল হাসান, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা, মো. এরশাদ খান, এস এম সাজিদ হাসান ও এ বি এম মাহমুদ আলম সরদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন, মো. জুয়েল হাওলাদার, মো. জাকিরুল ইসলাম, মো. কারিমুল হাই, মাজেদুল ইসলাম, ডালিয়া রহমান, মো. আমিনুর রহমান, শেখ আবু তাহের, শাহ নাওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন, মো. হাসান, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, শেখ মো. মশিউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।

কেএস/ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত