ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩২

প্রিন্ট

ঢাকার দুই সিটিতে দুই মেয়রই বাদ?

ঢাকার দুই সিটিতে দুই মেয়রই বাদ?
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সম্মেলনের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। সূত্র জানায় প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ আসতে পারে উভয় সিটিতে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনো আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়নি। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। বর্তমান দুই মেয়র আবারো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন নাকি পরিবর্তন আসবে সব কিছুই জানা যাবে সম্মেলনের পর। তবে দুজনের বাদ পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মেয়র প্রার্থী চুড়ান্তের ক্ষেত্রে কৌশলী সিদ্ধান্ত নেবে দল। একারণে আগে ভাগেই মহানগরের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাকে এবার মনোনয়ন বঞ্চিত করা হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে এক মেয়রের দুব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মেয়র প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেছে দলটি। প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অতীত কার্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে সব হিসাব বেরিয়ে যাবে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর অনেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্কটুকুও রাখেননি। ঢাকার যেসব ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে তার মূল কারণ কাউন্সিলরদের আধিপত্য। অনেক কাউন্সিলরের কাছে দলের স্থানীয় সিনিয়র নেতারা অবমূল্যায়িত ও অবহেলিত হয়েছেন। আমরা সেসব বিষয় মাথায় রেখে জরিপ করছি। জরিপ কাজ চুড়ান্ত হলে রিপোর্টটি নেত্রীর কাছে হস্তান্তর করবো।

চলমান শুদ্ধি অভিযানের কারণে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কাউন্সিলর এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন। এরই মধ্যে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন, আবার কেউ গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে প্রার্থী পরিবর্তনেরও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে- এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, এখনো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখই চুড়ান্ত হয়নি। আগে তারিখ চুড়ান্ত হোক তার পর দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। এখন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আমাদের নেত্রী। সম্মেলনের পরে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

রাজধানীর নাগরিকদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় ৪ বছর পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হন এবং ওই বছর ৬ মে শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ শপথ নেন তিনি।

আগামী বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হবে মেয়রদের। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে ভোট করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত