ঢাকা, সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৬

প্রিন্ট

‘বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ করে আন্দোলনে নামতে হবে’

‘বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ করে আন্দোলনে নামতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে যদি আমরা পার্লামেন্টে যোগ দিয়ে থাকি তাহলে আজকে আমাদের দায়িত্ব যারা আমাদের প্রতিনিধি (বিএনপির সংসদ সদস্য) হিসেবে পার্লামেন্টে আছেন তাদের সর্বপ্রথম পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করে জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নারী শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘আর কতকাল বন্দি থাকবে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা পার্লামেন্টে থাকবো আবার সরকারের পতন চাইবো, এই শব্দটা কিন্তু জনগণ পছন্দ করবে না। অর্থাৎ আমরা যেটা চাই, সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে যে- আসলেই আমরা সরকারের পতন চাই। তখন জনগণ রাস্তায় রক্ত দেওয়ার জন্য আপনার পাশে দাঁড়াবে। যতক্ষণ আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট করে বুঝাতে পারবো না ততক্ষণ পর্যন্ত কোন আন্দোলন দানা বেঁধে উঠবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এটা ভারত মনে করে না। যদি তারা সেটা মনে করত তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে গেছেন, কিন্তু তাকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দেয় নাই কেন? অথবা সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনো প্রতিবাদ হয় নাই কেন? কেন তিনি অনুষ্ঠান বর্জন করে দেশে ফিরে আসলেন না?

গয়েশ্বর বলেন, যারা (ভারত) ৭১ সালে আমাদেরকে সাহায্য করেছে, ৪৭ বছর পরে তারা মনে করে তারা সেদিন বিনিয়োগ করেছে। আমাদের দেশে তারা বিনিয়োগ করেছে তারা আমাদের কাছ থেকে নিতে চায়। তাই তাদের সাথে আমাদের বোঝাপড়া করা দরকার, আপনাদের (ভারত) কাছে আমাদের ঋণের পরিমাণ কত? এই পরিমাণ নির্ধারণ হলে প্রয়োজনে আমরা ১৬ কোটি মানুষ রক্ত বিক্রি করে সে ঋন শোধ করবো। তবুও এই দেশকে কারো দাসত্বের অধীনে থাকতে দেবো না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি হবেন কি না, সেটা নির্ধারণ করেন শেখ হাসিনা। আর শেখ হাসিনা অনুমতি দিবে কি না সেটা নির্ভর করে আরেকটি দেশের উপর। কোন দেশে আমরা বসবাস করি? যে দেশে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। যার স্ত্রী, সন্তানরা পাকিস্তান কারাগারে আটক ছিলেন। সেই স্বাধীনতার প্রতিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজকে কারাগারে। আর তার মুক্তি হবে কি হবে না তা নির্ভর করে অন্য একটি দেশের উপর! তারপরও কি আমরা এই বদ্ধ ঘরের মধ্যে শুধু মাত্র কথার ফুলঝুরি ছেড়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি সেটা প্রমাণ করতে পারবো? তাই আমাদেরকে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে এ দেশকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আওয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত