ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে

সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া জরুরি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৬

সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া জরুরি
জার্নাল ডেস্ক

সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাও অত্যান্ত জরুরি। একটি শিশু যদি ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে বড় হয় তাহলে সে অনেক খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে।

নৈতিক মানদণ্ডের দিক দিয়ে আল-কুরআন শ্রেষ্ঠ এবং পূর্ণাঙ্গ একটি ধর্মগ্রন্থ। তাই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জন্য কুরআন শিক্ষার বিকল্প নেই। কুরআনের সুশিক্ষাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের সঠিক জীবনদানসহ একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

অন্যদিকে পিতামাতা সন্তানের সাথে শৈশবে যেমন ব্যবহার করবেন, তাদের মধ্যেও সেই চারিত্রিক গুণাবলী বিকশিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। বাল্যকাল থেকেই শিশুরা খুব অণুকরণ প্রিয়। শিশুরা যা দেখে তাই অনুকরণ করতে শেখে। তাই তাদের সঙ্গে সবসময় ভাল আচরণ করা উচিত। তাদের সামনে এমন কোনও আচরণ করা উচিৎ না যার মন্দ প্রভাব শিশুদের ওপর পড়বে।

মহানবী (সা.) পিতামাতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘কোনও পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না’ (তিরমিজি)। পিতামাতার উচিত সন্তানদের জন্য সম্পদ জমানোর চিন্তায় বৈধ-অবৈধ পথের অনুসরণ না করে বরং সন্তানদের উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।

হাদিসে উল্লেখ আছে, এক সাহাবী মহানবীর (সা.) কাছে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের ওপর পিতামাতার কি হক বা দাবি আছে? তিনি (সা.) বললেন, তারা তোমার বেহেস্ত এবং দোজখও’ (ইবনে মাজাহ)।

সন্তান ভাল হবে না খারাপ হবে তা অনেকটা নির্ভর করে পিতামাতার ওপর। সন্তান যে পরিবেশে বড় হবে তাই সে শিখবে। পিতামাতা যদি আদর্শবান হোন এবং ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুযায়ী চলেন এবং সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেন তাহলে সন্তান অবশ্যই ভালো হবে। সন্তানসন্তুতি যদি প্রকৃত নৈতিকগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে মাতাপিতার জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই নাই।

আল-কোরআনের সুরা কাহাফের ৪৬ আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার সৌন্দর্য। সন্তান-সন্তুতি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয় তাহলে তা হবে মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ ও দুঃখের বোঝা।’ আরও ইরশাদ করা হয়েছে, ‘হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে আগুন থেকে বাঁচাও’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় যে খবরটি নিয়মিত থাকে তা হল চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা ইত্যাদি। এমন কোনো দিন বাদ যায় না যে, যেদিন এসব খবর প্রকাশ না পায়। এসব অপকর্ম যারা করে তারা তো কোনো না কোনো পিতামাতারই সন্তান।

এছাড়া তারা অবশ্যই কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। সে যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন, কোনও ধর্মেই এ ধরণের গর্হিত অপরাধকে অনুমতি দেয় না।

সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে এসবের প্রতি আমাদের দৃষ্টি দেওয়া দরকার। নিজেদের সন্তান সম্পর্কে আমরা যদি সচেতন থাকি এবং উত্তম শিক্ষা দেই, তাহলে সন্তানের পক্ষে অন্যের ক্ষতি করা সম্ভব হবে না ।

আমরা যদি নেক সন্তান রেখে যেতে পারি, তাহলে দেশ ও জাতির জন্য তা যেমন কল্যাণকর হবে, তেমনি মৃত্যুর পরও এ সন্তান আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে থেকে যাবে।

তাই আসুন, আমাদের সন্তানদের প্রতি শৈশব থেকেই বিশেষ দৃষ্টি দেই। সন্তানরা যেন কোনোভাবে মন্দ পথে পা না বাড়ায় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

যেহেতু আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই সন্তান-সন্তুতিকে শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুশিক্ষায় সঠিকভাবে গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষা ও পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

চলমান সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মহামারী থেকে সমাজ ও জাতিকে মুক্ত করতে পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কারণ আইন করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া অতি জরুরি।

বাংলাদে জার্নাল/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত