ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০৩

প্রিন্ট

প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘তুলোধুনো’

প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘তুলোধুনো’
অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ব্র্যাক শিক্ষাতরী’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন মন্তব্য করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পারফরম্যান্স ব্র্যাকের এসএসসি এইচএসসি পাস করার শিক্ষকদের থেকে কম।

এরকম নিউজ বাংলাদেশ জার্নালসহ অন্যান্য পোর্টালে ভাইরাল হয়। পরে সংবাদটি শিক্ষকদের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিমন্ত্রীর এরকম মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক শিক্ষক হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এবার প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে মো.খাদেমুল ইসলাম মোল্লাহ নামে এক শিক্ষক প্রাথমিকের সকল শিক্ষকদের একপ্রকার তুলোধুনো করেই একটি মন্তব্য শেয়ার করেছেন। বাংলাদেশ জার্নাল-এর পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘জনাব জাকির হোসেন

সহকারী শিক্ষক

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ‘মো. জাকির হোসেন’ মহোদয় কে নিয়ে আপনার স্ট্যাটাস এর জবাব সম্বন্ধে:

জনাব

আপনি খুবই ভদ্রতা ও মাধুর্যতার সাথেই সাজিয়ে গুছিয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের মন্তব্য সম্বন্ধে আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টি আসলে আপনি যতটা সিরিয়াসলি নিয়েছেন আসলে অতটা সিরিয়াসলি ভাবার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে আপনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকগুলো সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন যা অত্যন্ত যৌক্তিক ও মূল্যবান। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত নিরলস ভাবে কাজ করছেন প্রাথমিক শিক্ষার একটি সময়োপযোগী, গতিশীল ও পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসতে। শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য নিরসনে তিনি কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। তিনি মন্ত্রণালয় থেকে বেতন/গ্রেড বাড়ানোর সুপারিশ অর্থ বিভাগে পাঠিয়ে ছিলেন কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেটাকে অনুমোদন দেয়নি। এখানে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের খুব বেশি দোষ আপনি দিতে পারেন না। তিনি এখনো অনবরত চেষ্টা করেই যাচ্ছেন, শিক্ষক নেতারা এই বিষয়ে অবগত। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের যুক্তি হলো আমার শিক্ষকরা যদি একটু ভালো বেতন পেয়ে ভালভাবে শিক্ষার্থীদের কে শিক্ষাদান করে তাহলে তো আমাদের ক্ষতি নেই। বরং অনেক বেশিই লাভ হবে। তিনি যতটা শিক্ষকদেরকে গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী তার দপ্তরের কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে তার দশ ভাগের এক ভাগও গুরুত্ব দেয় কিনা আমার জানা নেই। আপনি নিজেও হয়ত জেনে থাকবেন যে অনেক স্কুলের শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। অপর পক্ষে অনেক শিক্ষকরাই দায়িত্ব পালনে মনোযোগী না। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে এমনও তথ্য আছে যে কিছু শিক্ষক মাসের পর মাস ক্লাস না করেও বেতন নিচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কয়েকটি স্কুলে নিজে ভিজিট করে যা পেয়েছেন তাতেতো তিনি রীতিমতো হতাশ। অনেকদিনের জমানো হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই হয়ত তিনি মন্তব্যটি করেছেন। তার যুক্তি হলো আমার শিক্ষকরা সবাই যোগ্য ও দক্ষ তাহলে কেন অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে বিভিন্ন স্যাটেলাইট স্কুলে ভর্তি করাবে? তিনি শিক্ষকদেরকে অনেক ভালবাসেন। শিক্ষকদের দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হবে ইনশাআল্লাহ। তার একটি স্বপ্ন হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে নিশ্চিত ও নিরাপদ একটি জীবন মানের ব্যবস্থা করা। তিনি সব সময় মনে করেন যে মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে এটাই তার প্রথম ও শেষ দায়িত্ব। তাই কিছু ক্যারিশ্মাটিক ও পজিটিভ শিক্ষক-শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের মাধ্যমে তিনি আজীবন দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর শ্রদ্ধেয় প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে বেঁচে থাকতে চান। তার স্বপ্ন গুলোর মাঝে অন্যতম একটি হলো প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং সম্মানিত সকল শিক্ষকদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না করে পজিটিভলি চিন্তা করুন। অভিভাবক একবার গালি দিলে আরেকবার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করবেন সে কথা ভুলে যাবেন না প্লিজ। জয় হোক প্রাথমিক শিক্ষার। আল্লাহ হাফেজ’

বিনীত খাদেমুল ইসলাম

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত