ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২২

প্রিন্ট

মধ্য রাতের রসিকতা!

মধ্য রাতের রসিকতা!
ফাইল ছবি
স্যোশাল মিডিয়া ডেস্ক

রাত ৩টায় ৯৯৯-এ কল। ফোনের অপর প্রান্ত হতে এক ভদ্রলোক উত্তেজিত কণ্ঠে জানালেন যে, তার এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি বাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। তিনি নিজ চোখে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এলাকাতেই আছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেই পুলিশকে লোকেশন দেখিয়ে দিবেন। এই এলাকায় বড়জোর হাতির আনাগোনা থাকতে পারে। কিন্তু বাঘও যে আছে, জানা ছিলো না।

তড়িঘড়ি করে ফোর্স পাঠানো হলো। বাঘ হত্যা! এ তো বন্যপ্রাণী আইনে অনেক বড় অপরাধ। বন্যপ্রাণীপ্রেমী অজানা-অচেনা লোকটির নিঃস্বার্থ এ মহত্ত্ব মুগ্ধ করারই মতো।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অকুস্থলে হাজির হওয়ার পর অবশ্য দেখা মিলল ভিন্ন দৃশ্যপটের। বাঘ নয়, রাস্তায় পড়ে আছে একটি মোটামুটি সাইজের বিড়ালের মৃতদেহ। মুরগীর বাচ্চাটাচ্চা খেয়ে ফেলে বলে স্থানীয় জনতার রোষের শিকার হয়েছে হয়তো। যদিও এটা অপরাধের মধ্যেই পড়ে, কিন্তু গভীর রাতে পুলিশ দলকে জরুরিভিত্তিতে দুর্গম এলাকায় ডেকে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কি?

দ্রুত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলো কলকারীর সাথে। বাঘের জায়গায় বিড়াল দেখে অবাক হয়ে থাকলে এবার তো হতবাক হবার পালা। যাঁর এলাকাতেই থাকার কথা, প্রয়োজনে ঘটনাস্থল দেখিয়ে দিতেও নাকি রাজি, সেই তিনি নির্লিপ্ত কণ্ঠে জানালেন যে, তিনি গতকাল থেকেই জরুরি কাজে চট্টগ্রামে। বাঘ কোথায়, জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান যে, তিনি লোকমুখে শুনেছিলেন বাঘ মারার কথা। কিন্তু একটু আগেই না বললেন, নিজ চোখে দেখেছেন! উত্তর না দিয়েই এবার বিপরীত প্রান্ত হতে কেটে যায় ফোনের লাইন।

কত বিচিত্র মানুষ! এতগুলো পুলিশ সদস্যকে গভীর রাতে এতদূর রাস্তা অতিক্রম করিয়ে এনে কী মজা যে তিনি পেলেন, একমাত্র তিনিই জানেন। আমার ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে, নিষ্ঠুর এ রসিকতা করার জন্য বিবেকের দংশনে এক মুহূর্তের জন্যও কি দংশিত হয়েছেন ওই কলকারী!

লেখক: মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার), এএসপি (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত