ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৪২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২৬

প্রিন্ট

সাফাই গেয়ে স্ট্যাটাস দিলো গণধর্ষণে জড়িত দুই ছাত্রলীগ কর্মী

সাফাই গেয়ে স্ট্যাটাস দিলো গণধর্ষণে জড়িত দুই ছাত্রলীগ কর্মী
সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। শনিবার সকালে এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ ও আরো দু’তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ খোঁজে না পেলেও ফেসবুকে সরব ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

শনিবার সকালেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন মামলার দুই আসামি।

গণধর্ষণের মামলার ৫ নম্বর আসামি রবিউল হাসান শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সম্মানিত সচেতন নাগরিকবৃন্দ আমি রবিউল হাসান। আমি এমসি কলেজের শিক্ষার্থী। আপনারা অনেকে চেনেন, আমি কেমন মানুষ তা হয়তো অনেকে জানেন। শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের সঙ্গে কে-বা কারা আমাকে জড়িয়ে সংবাদ করিয়েছেন জানি না। আমি এমসি কলেজের ছাত্র। কিন্তু আমি হোস্টেলে কখনও ছিলাম না, আমি বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আলো লিখেছেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এই নির্মম গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই, আমাদের পরিবার আছে। যদি আমি এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত থাকি তাহলে প্রকাশ্যে আমাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমি কোনোভাবেই এই কাজের সঙ্গে জড়িত নই। সবার কাছে অনুরোধ করছি, সত্য না জেনে আমাকে এবং আমার প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার করবেন না। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণকারী সব নরপশুকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

একইভাবে মামলার ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এরকম জঘন্য কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই। যদি জড়িত প্রমাণ পান প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আছে। আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাকে সুইসাইডের দিকে নিয়ে যাওয়া আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন।’

মামলার অন্যতম আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমের পক্ষে সাফাই গেয়ে হুমায়ুন রশিদ পায়েল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান মাসুম এমসিতে ছিল না, সে জাফলং ছিল তার বন্ধুদের সঙ্গে। সেখানের লাইভ ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে রয়েছে। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, মনগড়া নিউজ করে একজন মেধাবী ছাত্রের জীবন নষ্ট করে দেবেন না।’

ফেসবুকে সরব থাকার পরও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রসঙ্গে শাহপরান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা তাদের গ্রেপ্তারে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। রাত ১০টার দিকে টিলাগড় এলাকার কলেজটির ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরাণ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী ও অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে গণধর্ণণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত