ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫১

প্রিন্ট

চাকরির জন্য আবেদন ‘ফি’ উঠবে কবে?

চাকরির জন্য আবেদন ‘ফি’ উঠবে কবে?
অনলাইন ডেস্ক

ক্রমেই সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দেশের শিক্ষিত তরুণদের। পড়াশোনা শেষ করেই হন্য হয়ে সরকারি চাকরি পেছনে ছুটছেন বেকার তরুণরা। চাকরির আবেদন করতেও অনেক টাকা খরচ করতে হয়ে বেকার তরুণদের। বিষয়টি অনেকটাই যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আতিউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকে চাকরির জন্য আবদনে ফি উঠিয়ে দিয়েছেলেন। যাতে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছিল তরুণ সমাজ।

২০১৫ সালে সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি উঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, সরকার চিন্তা করছে, চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে টাকা অর্থাৎ পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, পোস্টাল অর্ডার নেয়া হবে না। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার ফি কমানো ও ফি গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

জানা যায়, দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে বেকার চাকরি প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের ‘ফি’ দিতে হয়। প্রায় সব প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির আবেদন ‘ফি’ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। আবার কোনো কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফি’ নিয়ে থাকে।

বিভিন্ন সময় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চাকরিপ্রার্থী বেকার তরুণরা। সোশাল মিডিয়ায় এ নিয়ে সোচ্চা তরুণ প্রজন্ম। তাদের প্রশ্ন, এই মোটা অঙ্কের ‘ফি’ লাখ লাখ বেকার চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে নেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?

বাংলাদেশে এমনিতেই বেকারের সংখ্যা বেশি। কিন্তু শূন্যপদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিভিন্ন পদে লাখ লাখ প্রার্থী আবেদন করলেও শেষমেষ চাকরি হয় খুব অল্পসংখ্যক চাকরি প্রার্থীর। কিন্তু আবেদনের শুরুতে সব চাকরি প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের ‘ফি’ পরিশোধ করতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্প্রতি পাশ করা নাহিদ হাসান আক্ষেপ করে বলেন, পড়াশুনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য সব থেকে কঠিন ও বাজে সময়। এ সময় পকেটে না থাকে হাত খরচের টাকা, না থাকে উপার্জনের কোনো সুযোগ। পরিবারের কাছেও হাত পাতা যায় না। অথচ এই সময়েই সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পরিমাণে ফি দিতে হচ্ছে। পিএসসি- এর মত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমাদের মত অসহায় বেকারদের কাছ থেকে এত টাকা নেওয়া সত্যি দুঃখজনক।

তার মতে, বেকার তরুণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে সব ধরনের চাকরিতে আবেদন ফিপুরোপুরি উঠিয়ে দেয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক পথ দেখিয়েছে। এবার অন্য সব প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে আবেদনকারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের নিয়মটি তুলে দেওয়া উচিত। এতে চাকরিপ্রার্থীরা একটু হলেও স্বস্তি পাবেন।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close