ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ১৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৪

প্রিন্ট

দুর্নীতি হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, বোমাবাজি ছাড়া বিএনপি আর কী করেছে?

দুর্নীতি হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, বোমাবাজি ছাড়া বিএনপি আর কী করেছে?
পাপ্পু দত্ত

পজিটিভ বিএনপিরে কোনো দিন আমি দেখিনি। ‌‘৯২-তে যখন তারা ক্ষমতায় তখন রাজনীতি বোঝার বয়সে নেই। খালি সাইফুর রহমানের বিদেশীদের কাছে মুখ কালো করে ব্রিফকেস নিয়া দৌড়াদৌড়ি করার কথা মনে আছে। পরের টার্ম আওয়ামী লীগের। স্কুলে পড়ি, টিভিতে দেখি, পত্রিকায়। গঙ্গার (রিদমিকে ফোনে বানান বিভ্রাটের জন্য দুঃখিত) পানিবন্টন চুক্তি, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, জাতির পিতার সপরিবারে হত্যার বিচার, আর্মির দুই বেলা ভাত আর আমিষের ব্যবস্থা, ৯৮- এর বিশাল বন্যা সামলে নেওয়া বড়সড় প্রাণহানি ছাড়াই, ইকোনমি গতিশীল করা, ঘাটতি বাজেট কমে আসা, বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন সহ সেবারই বেশ বড় বড় কাজে হাত দিতে দেখলাম আওয়ামী লীগকে। সাকসেসফুল ৫ বছর তারা কাটালো। এই পাঁচ বছরে সংসদে কথায় কথায় ওয়াকআউট ছাড়া বিএনপির আর কিছু মনে পড়ছে না। পরের টার্ম সজ্ঞানে স্বচক্ষে দেখা। স্মৃতি জ্বলজ্বলে।

আওয়ামী লীগ সরকার সে দফা সরকারি কোষাগার পূর্ণ করে রেখে গিয়েছিরো। ২০০১-এ নির্বাচিত হয়ে বিএনপি তা খালি করার মিশনে নামলো। যেখান থেকে যা পারলো লুটেপুটে নিলো। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, বোমাবাজি আর জঙ্গিগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া নিত্যদিনের ব্যাপার। আওয়ামী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তখন নিজেদের জান বাঁচাতে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ সমর্থন করা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও রেহাই পায়নি তাদের অত্যাচার থেকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে শুধু পূর্ণিমার নাম আসে। কত পূর্ণিমাকে নির্যাতিত হতে হয়েছে তা হিসেবের বাইরে। ভোলা-বরিশাল-বাগেরহাট জোনে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের অনেককেই অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো পরিবারগুলো শুধু নিরাপত্তা ইস্যুতে। এটার প্রত্যক্ষদর্শী আমি নিজে কারণ যে জেলায় ছিলাম সেখানে অনেকেই আত্মীয়তার সূত্র ধরে নির্বাচন পরবর্তী সময়টাতে চলে এসেছিলো। ২০০১-২০০৬ বিএনপির ভোট চাইবার মতো কোনো কাজ অন্তত আমার চোখে পড়েনি। জঙ্গি গোষ্ঠী গুলো একদিকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, অন্যদিকে ক্রমাগত খালেদা-বাবরের মিথ্যাচার যে দেশে কোনো জঙ্গি নেই। সে মিথ্যাচার গিয়ে ঠেকলো বাংলা ভাইয়ের নৃশংসতা, একুশে অগাস্ট, দশ ট্রাক অস্ত্র, তেষট্টি জেলায় বোমাবাজি, টংগীপাড়ায় বোমা পুতে রাখা, কিবরিয়া হত্যা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর বোমা হামলা, গোপাল কৃষন মুহুরীদের মতো আরও অসংখ্য হত্যাকাণ্ডে।

২০০১-২০০৬ পর্যন্ত যে কয়টা বিসিএস এবং অন্যান্য সরকারি চাকুরীর পরীক্ষা হয়েছে তাতে দলীয়করণ হয়েছে চূড়ান্ত আকারে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বঞ্চিত করা হয়ে ইনটেনশনালী। আওয়ামী সমর্থক চেনা মুখ হলে তো কথাই নেই। বিসিএস মোটামুটি ভদ্রভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিয়োগের বিষয়টি শুরু হয় ২৮ তম থেকে। এরপর এখন পর্যন্ত নিয়মিত হয়ে আসছে বড় কোনো অনিয়ম বা বৈষম্য ছাড়াই। প্রশাসনে শিবির-জামায়াত দেখে দেখে ঢোকানো হয়নি, মেধাতালিকায় যারা এসেছে তারা পেয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগকে এর জন্য মূল্য দিতে হয় কিন্তু কথা হচ্ছে, চোখের বদলে চোখ নীতিতে বিশ্বাসী হলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারোর অস্তিত্ব এতদিনে থাকতো না। যারা বলেন, দুই দলই এক। তারা হিসেব করে নিয়েন।

তারেক রহমান সাংবিধানিকভাবে কোন পদে ছিলেন না। অথচ তার ক্ষমতার প্র‍্যাকটিস সুপ্রীম পর্যায়ে ছিলো। মাঠে কোনোরকম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধু মাত্র মা প্রধানমন্ত্রী এই সূত্রে ক্ষমতার বলয়ে তার অনুপ্রবেশ। অনুপ্রবেশ বলা হচ্ছে এই সেন্সে যে, একজন রাজনৈতিক সুচেতনাবিহীন প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যায় প্রশ্রয়দাত্রী মায়ের সন্তান হিসেবে তার প্রভাব বিস্তার করার ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি যদি রাজনীতি করতে চাইতেন বা তার মায়ের সদিচ্ছা থাকতো তাহলে হাওয়া ভবন ক্ষমতা অপব্যবহার এবং অর্থ লোপাটের আখড়া হতো না। একুশে অগাস্টের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারতেন না। ক্ষমতা তারেক রহমানের কাছে অনেকটা অভিভাবকের কাছে দামি খেলনা বায়না করলেই পেয়ে যাবার মতো ব্যাপার হয়েছে। যেটার মূল্য উনি বোঝেননি এবং ইচ্ছেমত ভেঙেচুরে ফেলেছেন। আপনাদের মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে কেন একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন? মায়ের কথা বাদ দেই। বাবা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ছেলে কেন পড়াশুনা করেনি এই প্রশ্ন কখনও কি জাগে? এটা বলবেন না যে স্কুলের বেতন দিতে না পেরে তার পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আপনাদের প্রশ্ন জাগেনি কারণ এই দেশে রাজনীতি করার জন্য ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন আপনাদের কাছে নেই। খালেদার বেলায় যেভাবে মেনে নিয়েছেন, বাই ডিফল্ট তার সন্তানের বেলায়ও। একই সময়ে সম্পূর্ণ পরিবার হারানো সহায় সম্বলহীন শেখ হাসিনাকে দেখুন। পার্থক্যটা টের পাবেন যদি ইচ্ছেঠুলি চোখে না লাগানো থাকে।

টিভিতে বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব অনুভব করি প্রথম টার্মে আওয়ামী লীগ আসার পরে। ব্ল্যাক লিস্ট থেকে অনেক শিল্পী ছাড়া পান। একুশে টিভিও এলো। বিএনপি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই একুশে টিভির উপর খড়গহস্ত হলো। সাথে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ভুলিয়ে দেবার আয়োজন। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে বেশ কিছু চ্যানেলের লাইসেন্স দিলো যেগুলোর বেশিরভাগ টক শোতে আওয়ামী লীগ সরকারের উপর বিষোদগার হয়। প্রথম আলো-নয়াদিগন্তের মতো পত্রিকাও যেভাবে চলছিলো চলতে থাকলো। বাকস্বাধীনতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার টিভি চ্যানেল এবং এইসব পত্রিকা দেখিয়ে দিচ্ছে। এরপর বাকস্বাধীনতা কাকে বলে বুঝতে চাইলে উত্তর কোরিয়া ঘুরে আসতে পারেন (যদি ভিসা দেয়), সেই সাথে স্বৈরাচারের সংজ্ঞাও ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আপনি যে বাকস্বাধীন এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, চাইলেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে পারছেন, রাজাকারদের পক্ষে গলা ফাটাতে পারছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। সাইদী রাজাকারের কুৎসিত সব ওয়াজ মাঠেঘাটে-বাসে বাজাতে পারছেন - এত সুন্দর বাকস্বাধীনতা আওয়ামী সরকার ছাড়া আর কেউ আপনাকে দিতে পারবে না এটা লিখে রাখেন।

গত দশ বছর বিএনপি ক্ষমতায় নেই। প্রথম পাচ বছর হেরে গিয়ে, পরের পাচ বছর নিজেদের গোয়ার্তুমির কারণে। কিন্তু জনগণের কাছে যেতে তাদের নিষেধ করেছিলোকে! ভালো করে মনে করে দেখেন, রাস্তাঘাটে জ্বালাও পোড়াও, সরাসরি রাজাকার তোষণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজের সাথে তারা সম্পৃক্ত কি-না। আপনি যুক্তি দেবেন তারা ক্ষমতায় নাই। আমি বলবো এরশাদ পতনের পর তারা দুইবার সুযোগ পেয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার। লাস্ট ১৭ বছরে তাদের অন্তত একটা অর্জন দেখান যেটার কারণে তাদেরকে ভোট দেবার যোগ্য মনে হতে পারে। ক্ষমতায় এলে কি করবেন সেই হিসেব তখনই বিবেচনায় আনা হবে যখন দুই টার্ম ক্ষমতায় এসে কি করেছেন সেই খতিয়ান ক্লিয়ার হবে। তার আগে নয়।

আপনি বিএনপিরে অন্ধ সমর্থন করতে পারেন। আপনি বাদ। এর বাইরে যারা বিভিন্নরকম ক্যামোফ্লেজ আদর্শের ধুয়া তুলে আওয়ামী বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বা সোজা ভাষায় শেখ হাসিনা যাতে আর ক্ষমতায় না আসেন সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা কি মনে করেন ক্ষমতা গ্রান্টেড কোনো ইস্যু? অর্থাৎ আমার রাজনৈতিক দল আছে এবং কোনো পজিটিভ কাজ করুক বা না করুক তা বাই ডিফল্ট ক্ষমতায় আসবে এরকম? এইটা কি নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাগাভাগি কইরা তুই পাঁচ বছর আমি পাঁচ বছর এইরকম ডিলে চলবে? সময়টা চেঞ্জ হইছে। কাজ না করলে খাওয়া নাই। আপনারা যে গণতন্ত্রের ধুয়া তোলেন তারা ভালো করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখেন তো কোথায় ক্ষমতারে এইরকম গ্রান্টেড ধইরা ভোট চাওয়া হয়?শেখ হাসিনা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জনবান্ধব কাজ করে বেশিদিন ক্ষমতায়; কিন্তু মন কাদে খালেদার জন্য। আপনারাই আবার আফসোস করে বলেন, যদি একজন মাহাথির থাকতো! হিপোক্রেসি লেভেল এট ইটস্ বেস্ট!

মাহাথির আপনারা ডেজার্ভ করেন না। কেননা, আপনাদের মাথাথিরকে পেয়েও চিনতে পারেন নাই।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close