ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৮

প্রিন্ট

সেই রাতে একাই গর্জে উঠেছিলেন সৈয়দ আশরাফ

সেই রাতে একাই গর্জে উঠেছিলেন সৈয়দ আশরাফ
জার্নাল ডেস্ক

আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আজম খান।

বাংলাদেশ জার্নাল পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুুলে ধরা হলো। আজম খান লিখেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে। হেফাজতে ইসলামি প্রবল প্রতাপে ঢাকায় ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ করে চলেছে। তারা সচিবালয় পাড়া দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল। চেষ্টা চালাচ্ছিল শাহবাগে এসে গনজাগরন মঞ্চের সব কর্মীদের হত্যা করার একটা প্রচেষ্টা নিতে। পুলিশী বাধা, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী সহ অনান্যদের কারনে সেটা হয়ে উঠছিল না। শাহবাগে বসে সবাই ভাবছিলাম এই বুঝি আমরা বাংলাদেশের শেষ দেখে ফেললাম। আজ রাতেই বুঝি ক্ষমতা চলে যাবে মোল্লাদের হাতে। একই সময়ে আওয়ামি লীগের নেতৃত্ব বিভ্রান্ত এবং উদভ্রান্ত দুইটাই বলা চলে। এখন অনেকে অনেক বড় বড় কথা বললেও সেদিন তাদের টিকিটি দেখা যায় নাই। সরকার বুঝতে পারছিল না এদের সাথে কি একটা নেগোসিয়েশনের চেষ্টা করবে নাকি সরাসরি একশনে যাবে।

শুরু থেকেই সৈয়দ আশরাফ অন্য আওয়ামি লীগ নেতাদের মত ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি‘ ভূমিকা নিতে চান নাই। সরাসরি ২০১৩ সালের মে মাসের ৩ বা ৪ তারিখে হেফাজতে ইসলামকে পাকিস্তানের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মা হিসেবে উল্লেখ করেন। ৫ তারিখে যখন পুরো দেশ, সরকার, প্রশাসন কিংকর্তব্যবিমূড় তখন তিনি হুংকার ছেড়ে সময় বেঁধে বলেছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি চলে যাও। নইলে ভবিষ্যতে হেফাজতে ইসলামিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হবে না।

দেশের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ যখন মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পন করে বসে আছে তখন এই লোকটি শেষ পর্যন্ত এদের সাথে এক টেবিলে বসেননি। কোন প্রকার আপোষ দুরে থাক, চিন্তাও করেননি। তার শত্রুও বলতে পারবে না তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে কোন দুর্নীতি, অসততায় জড়িত ছিলেন। অমেরুদণ্ডী রাজনৈতিক নেতাদের দেশ থেকে একজন শক্ত মেরুদণ্ডের মানুষ চলে গেলে তা মনে একটা অস্বস্তি এবং অসহায়ত্বের জন্ম দেয়।

সৈয়দ আশরাফ, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনাকে ধন্যবাদ আপনি না থাকলে বাংলাদেশ হয়তো সেদিনই আরেকটি আফগানিস্তান-পাকিস্তানে রুপ নিতো। আপনার পিতার গৌরব সূত্রে নয়, আপনি আপনার পিতার মতই অমর হয়ে থাকবেন বাংলাদেশকে বুক দিয়ে আগলে রাখার জন্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মরদেহ শনিবার দেশে আনা হবে।

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close