ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৪৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:১৪

প্রিন্ট

মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেন তাদের আপত্তি?

মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেন তাদের আপত্তি?
নিঝুম মজুমদার
নিঝুম মজুমদার

‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই লাইন-ই এবারের নব বর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা’র স্লোগান। লাইনটি আমি পছন্দ করিনি। মস্তক তুলিতে দাও লাইনটি দেখলেই মনে হয় আমি কারো কাছে দয়া চাইছি, অনুরোধ করছি। আমি বরং চাই স্লোগানটি হোক, ‘মস্তক তুলব আমি অনন্ত আকাশে, বিকশিত হব আমি পৃথিবীর মাঝে’।

আমার মস্তক আমি তুলতে কারো অনুমতি চাইব না, কাউকে জিজ্ঞেস করব না, কাউকে পোছার সময় আমার নেই। আমার মস্তক আমি উঁচু করে তুলব, অনন্ত আকাশ ছাড়িয়ে যেখানে খুশি সেখানে।

ফেসবুকে আমি কিছু মানুষের সনির্বন্ধ আহবান দেখেছি নববর্ষ পালন না করবার জন্য। কেউ কেউ মঙ্গল শোভা যাত্রাকে ‘হিন্দুয়ানী’ সংষ্কৃতি বলে অভিহিত করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন মানুষ কেন পশু পাখির ছবি নিয়ে মিছিল করবে? এগুলো মুসলমানি সংস্কৃতি নয়।

প্রতি বছর বাংলা বর্ষ বরণের প্রাক্কালে এইসব বক্তব্য, অনুরোধ, আহবান আমাকে বিষ্মিত করে তোলে। কিছুটা যে ক্রোধ জন্মায় না তা নয়। তবুও আমি সেসব সব অনুভূতি সামলে বুঝবার চেষ্টা চালাই যে মুসলমানি যে সংষ্কৃতির কথা বলা হচ্ছে সেটি কোনটি?

কেন এই মানুষগুলো বাংলা নতুন বছরের ঠিক আগেই এমন ঘোড়ার মত ডাকতে থাকে? কি তাদের মূল সমস্যা?

রাজাকারদের দানব বানিয়ে লম্বা মিছিলে কেন তাদের আপত্তি? কেন বড় পেঁচার এইসব চমৎকার আকৃতি করলে তাদের আপত্তি? কেন মাছের বড় আকৃতি করে সামনে এগুতে থাকলে তাদের আপত্তি? কেন রাস্তার আলপনা দেখলে ওদের এত আপত্তি হয়? আমার মাথায় এই ব্যাপারগুলো আজ পর্যন্ত ঢোকেনি।

জাতি হিসেবে আমরা বাঙালি। আমরা বাঙালি জাতি আমার সংস্কৃতি, আমাদের কৃষ্টি, আমাদের চিরচেনা বাঙালি আবহ নিয়ে এই উৎসব পালন করলে কেন বার বার এই মুসলমানি তত্ব সামনে এসে দাঁড়ায়?

চারুকলা থেকে এক কাদি খুরমা খেজুর, গোটা পঞ্চাশেক উট ও সমপরিমাণ দুম্বা, মাথায় কালো গোল টারবান বেঁধে, লাল ওই বেদুঈনদের লাল স্কার্ফ পেঁচিয়ে, গায়ে আতর মেখে ইয়া হাবিবি ইয়া হাবিবি করে তিন চারটা চক্কর মারলে কি এই বাংলা বছরবরণ এই মানুষগুলোর কাছে মধুর হতো? যদি হোতো তবে কেন হোতো?

মাথায় কেবল এসব প্রশ্ন এসে ঘোরে। দিনের পর দিন এই একটি গ্রুপ, এই একটি কর্নার থেকেই এইসব আওয়াজ আসে। এরা জাতীয় সঙ্গীত ভালোবাসে না, এরা ৩০ লক্ষ শহীদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এরা আমাদের বাংলা সংষ্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আমাদের সকল ধরনের অর্জনকে এরা প্রশ্নবিদ্ধ করে অসুস্থ করে তুলতে চায়। এরা একটার পর একটা আমাদের অস্তিত্বকে, আমাদের ভেতরের বাংলাদেশকে তাড়িয়ে মধ্যযুগীয় সময়ে নিয়ে যেতে চায়।

এরা কারা? এরা এসব কেন চায়?

লেখক: ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close