ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৪

প্রিন্ট

‘ট্রাম্প আমারে আপনারে কোনদিনই পুঁছে না’

‘ট্রাম্প আমারে আপনারে কোনদিনই পুঁছে না’
আরিফ জেবতিক

প্রিয়া সাহার নামে সরকার আপাতত কোনো ব্যবস্থা নিবে না, এটা ভালো খবর। তবে সরকার ব্যবস্থা না নিলেও, ব্যরিস্টার সুমন মামলা করতে যাবে, নয়তো প্রিয়া সাহা নিজের লোক দিয়ে মামলা করাতে পারে। এসাইলামের জন্য লোকজন কী পরিমান ন্যাস্টি কাজ করতে পারে, এ বিষয়ে আপনাদের ধারণাই নেই।

কয়েক বছর আগে একবার প্যারিসে পাসপোর্ট চুরি হয়ে গেল আমার। কীভাবে পাসপোর্ট পাওয়া যেতে পারে সে বুদ্ধি নিতে এক বাঙালি ‘ইমিগ্রেশন’ মার্কা দোকানে গেলাম। গিয়ে দেখি অদ্ভুত তামশা! সেখানে ভুরি ভুরি যুবদল-ছাত্রদলের লেটার প্যাড রাখা। যুবদল-ছাত্রদল থেকে শুরু করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও সিলছাপ্পর সেখানে আছে। আপনি খালি এসাইলাম ক্লেইম করতে চাইলেই এসব ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে আপনাকে ত্যাগী নেতা বানিয়ে দিবে আর আপনার যে দেশে গুম হওয়ার আশংকা আছে সেটা ১৪ ফন্টে লিখে দেবে। এই দোকানে বিএনপি-জামাত শাসনকালে যুবলীগ-ছাত্রলীগের প্যাড আর সিলছাপ্পর পাওয়া যাইত।

লন্ডনের রাস্তায় একবার এক পুরোনো কালের ছোট ভাইকে পেলাম, ‘নির্যাতিত শাহবাগী ব্লগার’ হিসেবে ঢুকে পড়েছে। দুঃখ করে বলেছিলাম, ‘জীবনে যদি একদিন শাহবাগের রাস্তা দিয়া রিক্সা নিয়াও যাইতি, দুঃখ ছিল না’। সত্যিকারের ঝুঁকিতে থাকা ব্লগার আর কয়জনই বা দেশ ছেড়েছে! কিন্তু তথাকথিত নির্যাতিত ব্লগার নাম দিয়ে যত লোক এসাইলাম চাইতে গেছে, আমার ধারণা বাংলাদেশে এই পরিমাণ ইন্টারনেট কানেকশনই নাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে এসাইলাম চাওয়ার নব্বই ভাগই ভুয়া।

সিলেটের এক বড় কাপড়ের দোকানদার এখন রোহিঙ্গা হিসেবে আমেরিকায় আছে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না এই হচ্ছে তার বড় অভিযোগ।

সুতরাং আপনি আমি যারা বাংলাদেশে আছি, আসেন এই প্রিয়া সাহা বিষয়ক আলাপ এখানেই ইতি দেই। ট্রাম্পের ভিডিওটা দেখেছেন? হালি হালি লোক বিভিন্ন দেশের নির্যাতনের গল্প বলছে, আর ট্রাম্প জিজ্ঞেস করছে তার হেলিকপ্টার আইল কি আইল না। হেলিকপ্টার এলে সে ওখানে উঠবে আর টুইটারে নিজের দেশের পলিটিক্স নিয়ে টুইট করবে। এরকম ১০ মিনিটের স্ল্যাবে তার সাথে বহু কিসিমের লোক দেখা করে, এগুলো সে স্মরণই রাখে না। রোহিঙ্গার মতো আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে সে ওখানে বসেই জিজ্ঞেস করেছে, ওইডা আবার কোথায়?

এর চাইতে বড় বিষয় হচ্ছে, একজন একা থাকা মা তার ছোট বাচ্চাটিকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য খোঁজ নিতে গেছে আর ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এই দেশেরই লোকেরা। এই এমন এক দেশ যেখানে একজন সংসদ সদস্যের ছেলের প্রভাবে একটা মেয়ে মামলা লড়ার উকিল পায় না তার শহরে।

আপনারা আমরা যারা এদেশেই থাকব বাকিটা জীবন, আমাদের উচিত এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা। একটা অসুস্থ দেশ, অসুস্থ উন্মাদ জনগোষ্ঠীর সাথে কীভাবে এডজাস্ট করে থাকা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করেন। এই অবস্থা বদলের জন্য চেষ্টা করেন।

সত্যিকার ইস্যুকে ডিল করেন ভাইলোগ। ট্রাম্পের কাছে ইজ্জতের টানাটানি নিয়ে কম চিন্তিত হোন। প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে কী বলেছে, সেটা নিয়ে চিন্তার দরকার নেই।

ট্রাম্প আমারে আপনারে কোনদিনই পুঁছে না। ওখানে আমাদের ইজ্জত নষ্ট হয়নি। ইজ্জত আর বোধবুদ্ধি আমাদের কোনোদিনই খুব বেশি ছিলো না।

লেখক: ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট (লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close