ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০৬:২৭

প্রিন্ট

কাঁচা চামড়া নিয়ে উত্তপ্ত ফেসবুক

কাঁচা চামড়া নিয়ে উত্তপ্ত ফেসবুক
জার্নাল ডেস্ক

কাঁচা চামড়া বিক্রি নিয়ে কোরবানিদাতারা থেকে শুরু করে মৌসুমী ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা পড়েছেন বিপাকে। এমন কি এতিমখানা ও মসজিদে দানের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে না। চামড়া বিক্রির জন্য সারাদিন অপেক্ষা করেছেন অনেকেই, কিন্তু কোনো ক্রেতা মেলেনি। ক্রেতা মিললেও ঠিকঠাক দাম দিতে চায়নি। তাই রাগে-ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন অনেকে। অনেকে রাস্তায় ফেলেই চলে গেছেন। আবার অনেকে চামড়া কেটে ফেলেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কেউ কেউ কাঁচা চামড়া মাটিচাপা দেওয়ার একটি ভিডিওটি শেয়ার করছেন।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে লিখেছেন, ‘চামড়া না কিনে শেষ পর্যন্ত এতিমদের হকটাও মেরে খেলেন। আবার কেউ কেউ লিখেছেন আল্লাহ এদের বিচার করুক।’

নূর ইসলাম নুরু নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে বেশকিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করেছেন।

তাতে তিনি লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকার চামড়ার বাজারে চট্টগ্রামের শহর ও গ্রাম থেকে আনা বিপুলসংখ্যক চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ফেলে রেখে চলে গেছেন বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা আর মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।’

‘আড়তদারেরা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় এবং চামড়ার নিম্নদরের কারণে চামড়া ক্রয় বন্ধ করে দেয়। সিটি করপোরেশন এই চামড়াগুলো অপসারণ করছে।’

‘শেষ পর্যন্ত এতিমদের হকটাও মেরে খেলেন। মনে রাখবেন একদিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

উই আর বাংলাদেশ নামে ফেসবুক পেজে আসাদ আম্বিয়া লিটন নামে একজন লিখেছেন, ‘সিন্ডিকেটের জন্য গরুর চামড়া কম দামে বিক্রি করার চেয়ে যদি খাওয়া যায় তাহলে হালাল না হারাম হবে বিস্তারিত জানতে চাই।’

তার এই পোস্টে কমেন্টে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে আগামী বছর খেলা হবেহ...... সিন্ডিকেট’

যুবায়ের আহমেদ কমেন্টে লিখেছেন, ‘সামনের বছর থেকে চামড়ার জ্যাকেট, আর জুতা বানানোর চেষ্টা করব নিজের জন্য। ফেলে দেয়ার/ নামমাত্র মূল্যে দেয়ার চেয়ে অনেক ভাল আর যদি কয়েকবছর পর ভাল মানের তৈরি করতে পারি তবে ত লালে লাল হয়ে যাব।’

পিয়াল আহমেদ নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, ‘শেরের উপর যেমন সোয়া শের আছে ঠিক সিন্ডিকেটের উপরেও সোয়া আছে, যেমন: আগামী বার সব কোরবানি ব্যক্তিরা যদি এক হয়ে বলে যে এইবার কেউ চামড়া বিক্রি করব না, চামড়াগুলো আমরা মাটিতে পুতে রাখব তবুও বিক্রি করব না। আর আমরা যারা এত টাকা দিয়ে কোরবানি দেই আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য সুতরাং আরও ৫০০-১০০০ টাকা ফকির মিসকিনকে দানও করতে পারব। আশা করি আমার সাজেশনটা সবার ভালো লাগবে কিন্তু কেউ আমলে নিব না।’

প্রসঙ্গত, এবার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতবছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার যে দাম সরকার ঠিক করে দিয়েছিল, এবারও সেটাই রাখা হয়েছে।

সে অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি ব্যবসায়ীদের। আর খাসির কাঁচা চামড়া সারাদেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা দরে কেনাবেচা হওয়ার কথা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close