ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৭

প্রিন্ট

সিন্ডিকেটের ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটকেই দিতে হচ্ছে!

সিন্ডিকেটের ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটকেই দিতে হচ্ছে!
এফ আই রাশেদ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভেবেছিল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে ছাত্রলীগকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়ে সিন্ডিকেট মুক্ত করবেন, কিন্তু তিনি জানতেন না সিন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী! যে কারণে নিজের দেওয়া কমিটিই ভেঙ্গে দিতে হচ্ছে।

আপার ছাত্রলীগ আর আপার থাকছে না, সিন্ডিকেটের ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটকেই দিয়ে দিতে হচ্ছে!

শোভন রাব্বানী কি সম্পূর্ণ নিজেদের দোষেই বিতর্কিত হয়েছেন? ওদের চেয়ে শতগুণ করাপ্টেড ছিল বিগত কমিটি কিন্তু সিন্ডিকেটের আদরে থাকা অবস্থায় তাদের কিছুই হয়নি!

আপনাদের কি মনে আছে সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত শোভন আর মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত রাব্বানী সম্পর্কে পজিটিভ লেখালেখি করে এই দুইজনকে জনপ্রিয় করেছিল কারা? আমি আপনি আর আমরাই কিন্তু।

যেসব অভিযোগ গুলো এই দুইজনের বিরুদ্ধে চাউর হয়েছে তার চেয়ে হাজার গুন বেশি অভিযোগ ছিল বিগত কমিটির বিরুদ্ধে, কিন্তু তাদের সে অভিযোগ নিয়ে কেউ প্রধানমন্ত্রী বরাবর নোটিশ করেনি। করেছে এই কমিটির বিরুদ্ধে!!!

যাইহোক, তুলশিপাতাদের সমর্থন করছি বলে মনে করবেন না। কারণ এরা দুইজন আপার কমিটির দোহাই দিয়ে হয়তো সবকিছুকেই জায়েজ করতে চাইছিল!

আমার ধারণা সিন্ডিকেট বহির্ভূত কমিটি হওয়ায় এই দুইজন সিনিয়রদের কাছ থেকে ন্যুনতম সহযোগিতা পায়নি, তাছাড়া বিগত সময়ে কেউই কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন মাঠে অবস্থান করেনি যা করেছে এই কমিটির বেলায়।

বিবাহিত, অছাত্র, চাকুরিজীবী, বয়স্কদের তালিকা পূর্বে আরও বড় ছিল কিন্তু কেউই সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খোলেনি। কারণ তারা জানতো যেকোন অভিযোগ উঠলে সেটা সিন্ডিকেট হয়ে নেত্রীর কানে যেতো, আর সিন্ডিকেট নেত্রীকে যেটা বোঝাতো সেটাই বিশ্বাস করতো।

কিন্তু নেত্রীর হাতের কমিটি বিধায় অভিযোগ গুলো সরাসরি নেত্রীর কাছে চলে যাচ্ছে। আর নেত্রীতো এসব সহ্য করার মানুষ না তাই সরাসরি এ্যাকশন নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।

আপনাদের কি ধারণা আগের চেয়ে সহমত ভাইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে? আমার ধারণা কমে গেছে! যে কারণে কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার খবরে বিভিন্ন প্রান্তে সহমর্মিতার চেয়ে উচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

যতো দিন যাবে ততো বেশি সমালোচিত হবে এই কমিটি, তাই ভেঙ্গে দেওয়াই উত্তম সিদ্ধান্ত হবে। তবে মনে রাখবেন এরপর যারাই যেভাবেই আসুক না কেন অপরাপর আরও বেশি সমালোচিত হতেই থাকবে! কারণ এদেশের মানুষের একই দলের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় এলার্জি, যার প্রভাব পরেছে অঙ্গসংগঠন গুলোতে!

যদিও যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নেই। কারণ কি? কাউকে যুবলীগ নিয়ে কথা বলতে শুনেছেন? কারণ ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোনটাই নেত্রীর দেওয়া নয়, তাই তাদের নিয়ে কেউ সমালোচনা করার সময় পায় না! এসব করে কি নেত্রীকে থামিয়ে রাখা যাবে?

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত