ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০৬

প্রিন্ট

গ্রেটা টুনব্যার্গ-ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব!

গ্রেটা টুনব্যার্গ-ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব!
গ্রেটা টুনব্যার্গ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফিচার ডেস্ক

সুইডেনের ১৭ বছর বয়সি গ্রেটা টুনব্যার্গ একজন পরিবেশকর্মী। আর ৭৩ বছর বয়সি ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুনব্যার্গকে নিয়ে অন্তত দুবার উপহাস করেছেন তিনি।

গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনের সময় ট্রাম্পের দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে ছিলেন গ্রেটা টুনব্যার্গ। সেই সময় এই দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের মনোভাব টুনব্যার্গের একেবারে উল্টো। তাই ট্রাম্পের প্রতি টুনব্যার্গের এমন দৃষ্টি।

পরিবেশ বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’-এর উদ্যোক্তা টুনব্যার্গ। পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে নেতাদের চাপ দিতে তিনি প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ সংসদের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। গতবছর বিশ্ব নেতৃবৃন্দের তিনি বলেন, ‘মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, পুরো ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়ছে৷ আমরা গণ বিলুপ্তির শুরুর দিকে আছি, আর আপনারা সবাই টাকা ও প্রবৃদ্ধির রূপকথা শুনিয়ে যাচ্ছেন।’

ট্রাম্পের প্রথম উপহাস

জাতিসংঘে দেয়া টুনব্যার্গের এই বক্তব্যের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে টুনব্যার্গকে নিয়ে উপহাস করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘তাকে দেখে খুব সুখি মেয়ে মনে হয় যে, একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। দেখে খুব ভালো লাগছে।’ ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সাবেক কমিউনিকেশন্স ডাইরেক্টর ট্রাম্পের এই টুইটের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একজন ১৬ বছর বয়সির পেছনে লাগা ট্রাম্প তার কাজের জন্য যোগ্য নন।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর টুনব্যার্গ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে নিজের পরিচয় লিখেছিলেন, ‘একজন খুব সুখি মেয়ে যে একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।’

এরপর গত ডিসেম্বরে টাইম ম্যাগাজিন টুনব্যার্গকে ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল। তখন টুনব্যার্গকে নিয়ে আরেকটি টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছিলেন, ‘গ্রেটাকে অবশ্যই তার রাগ ব্যবস্থাপনা (অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট) সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে। এরপর তার একজন বন্ধুকে নিয়ে পুরনো ভালো মুভি দেখতে যাওয়া উচিত।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটের পর তাকে ট্রল করে টুইটারে আবারও নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছিলেন টুনব্যার্গ। তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন টিনএজার যে তার রাগ ব্যবস্থাপনা সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। আর এখন একজন বন্ধুকে নিয়ে পুরনো ভালো মুভি দেখছে।’

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হলে তাকে কী বলতেন টুনব্যার্গ? গত ডিসেম্বরে বিবিসির এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘সত্যি করে বললে, আমার মনে হয় না, আমি তাকে কিছু বলতাম, কারণ, তিনি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কথা শোনেন না। তাহলে আমার কথা কেন শুনবেন? সে কারণে সম্ভবত আমি কিছুই বলতাম না, আমি আমার সময় নষ্ট করতাম না।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত